অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২২শে মে ২০২২ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


সন্তানকে দেখতে চাওয়ায় ডিভোর্স প্রাপ্ত স্বামীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মামলা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ই এপ্রিল ২০২২ ভোর ০৪:২১

remove_red_eye

২৩

সন্তানকে দেখতে চাওয়ায় ডিভোর্স প্রাপ্ত স্বামির বিরুদ্ধে স্ত্রী’র পরিকল্পিতভাবে মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের আলীগাঁ ২নং ওয়ার্ডে আনোয়ার শিকদার বাড়িতে হামলা,লুটপাট করার অভিযোগ এনে মিথ্যে ও বানোয়াট একটি মামলা দায়ের করে স্বামী ও স্বামীর পরিবার স্বজনকে হয়রানি করার অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী পরিবার। চরফ্যাশনে চাকুরিরত লালমোহন রমাগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র আল আমিন শরীফের সঙ্গে আলীগাঁ গ্রামের আনোয়ার শিকদারের মেয়ে সাবেক পুত্রবধূ আছমা আক্তার তামান্নার প্রেমের সম্পর্কে বিবাহ হয়।

জানা যায়,স্বামী ও স্ত্রী’র পারিবারিক কলহে দীর্ঘদিন মামলা মোকদ্দমার পর ২০১৯ সালে আদালতের মাধ্যমে তামান্না ও আল আমিন শরীফের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। স্বামী আল আমিন শরীফের ঘরে জম্ম নেয়া শিশুপুত্র মুরছালীন মোহাম্মদ ইজানকে নিয়ে লালমোহন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ওই শিশুসন্তান ৭ বছর পর্যন্ত মায়ের কাছে লালনপালন হবে। মায়ের কাছে শিশুপুত্র থাকাকালিন সময়ে বাবা,দাদা ও দাদী ওই শিশুপুত্রকে দেখতে চাইলে মা বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না এবং শিশুকে তাঁর পিতা, দাদা ও দাদী দেখতে চাইলে লিখিত করিয়া ৫-৭ দিনের জন্য মায়ের কাছ থেকে নিতে পারবেন ।

অনুরূপ মা ও শিশুপুত্র ফেরত আনার সময় লিখিত করিয়া আনবেন বলে দালতের সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের এমন সিদ্ধান্তের শেষে তামান্না ও তার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং শিশুর ভরণপোষণ ও মায়ের দেনমোহরের সমূদয় টাকা আদালতের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। গত ৮ এপ্রিল আড়াই বছরের শিশু মুরছালীন মোহাম্মদ ইজান মা তামান্নার সাথে চরফ্যাসন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের আলীগাঁ গ্রামে নানা বাড়িতে ছিল। ওই দিন সকাল ১০টার সময় ইজানের চাচাতো দাদা সেলিমসহ  ইব্রাহীম, নাহিদ  এবং আনোয়ার হোসেন ইজানকে আনার জন্য তার নানা বাড়ি যান। সেখানে গেলে শিশুপুত্রকে না দিয়ে তামান্না ও পরিবারের লোকজন সকলকে মারধর করে এবং ইব্রাহীমকে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।

চরফ্যাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বেঁধে রাখা ইব্রাহীমকে থানায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আল আমীন শরীফের বাবা চর মানিকা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ছিদ্দিকুর রহমান,সেলিম ও আলআমিন শরীফ থানায় যান এবং দুপুর সাড়ে ১২টার সময় মুচলেকা দিয়ে ইব্রাহীমকে ছিদ্দিকুর রহমান তাঁর নিজ জিম্মায় থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন। ইউনিয়ন পরিষদ সচিব তামান্নার সাবেক শ্বশুর ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে জুমার নামাজ শেষে নিজবসতঘরে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। প্রায় সাড়ে ৩টার সময় চরফ্যাশন থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তাঁর বসত বাড়িতে যান এবং একটি অভিযোগ দেখিয়ে নিষ্পত্তির জন্য টাকা দাবী করেন। নিষ্পত্তির করার অভিযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী থানা এলাকায় গিয়ে টাকা দাবী করার মতো বিষয় নিয়ে উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলামের সাথে তাঁর বাকবিতন্ডা হয়।

এতে ক্ষুদ্ধ উপ-পরিদর্শক নাজমুল তাঁকে ধরে বেঁধে চরফ্যাসন থানায় নিয়ে আসেন এবং রাতে সাবেক পুত্রবধূ আছমা আক্তার তামান্নাকে বাদিনী হিসেবে ব্যবহার করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করে ওই মামলার দ্বিতীয় আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে শনিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করেন। গত রবিবার আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এ অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন,উপ-পরিদর্শক নাজমুলকে টাকা না দেয়ায় পুলিশ তামান্নাকে ব্যবহার করে তাঁর বাড়িতে হামলা ভাংচুরের একটি মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে মামলা নিয়ে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের ক্ষমতা জাহির করেছেন। মামলায় তামান্নার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সময় দাবী করা হয়েছে  ৮ এপ্রিল, দুপুর ১২টা। ওই সময় পুলিশের জিম্মায় ইব্রাহীম থানায় ছিল এবং ইব্রাহীমকে মুচলেকায় ছেড়ে নেয়ার জন্য তিনি ও তাঁর ভাই সেলিম ও ছেলে আলআমিন শরীফ থানায়ই ছিলেন।

থানার সিসিটিভি ফুটেজে এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকার কথা বলেও দাবী করেন ছিদ্দিকুর রহমান। সকালে তামান্নার বাড়িতে ইব্রাহীমসহ অন্যদের মারধরের ঘটনার সময় ছিদ্দিকুর রহমান অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চরফ্যাশন সদরের আধুনিক হাসপাতালে ছিলেন।ওই হাসপাতালেও সিসিটিভি রয়েছে। ছিদ্দিকুর রহমান পুরো ঘটনা তদন্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-পরিদর্শক নাজমুল হোসেন বলেছেন, মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন মামলা নিয়ে এখন কোনো কথা বলতে পারবো না। চরফ্যাসন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়া এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।