অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০২২ | ৫ই মাঘ ১৪২৮


হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বৃথা যেতে পারেনা :এমপি জ্যাকব


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ই জানুয়ারী ২০২২ রাত ১০:৫৯

remove_red_eye

২৩

এআর সোহেব চৌধুরী , চরফ্যাশন : যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদিয় স্থায়ি কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি বলেছেন,অবহেলিত,বঞ্চিত অনুন্নত এই চরফ্যাশনে হাজারো কোটি টাকার উন্নয়ন বৃথা যেতে পারেনা।  বুধবার সন্ধ্যায় চরফ্যাশন ফ্যাশন স্কয়ারে আয়োজিত ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন,এক সময়ে দক্ষিন আইচা থেকে ভোলা পর্যন্ত ভাঙা রাস্তার কারণে মানুষ চলাচল করতে পারতনা। আজকে আধুনিক বাস স্ট্যান্ড নির্মানের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদ ওবায়েদুল কাদের চরফ্যাশনে আগমন করেন এবং ভোলা-চরফ্যাশন-বাবুরহাট ৯৪ কিলোমিটারের আঞ্চলীক মাহাসড়কটি ৩০ফুট প্রসস্তের উন্নয়নমূলক কাজ একনেকে অনুমোদন করা হয়। আজকে এ চরফ্যাশন ও মনপুরায় ৫টি নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা ও একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ ২টি কলেজ এবং ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করণ করা হয়েছে। অথচ বেগম জিয়া চরফ্যাশনে এসেও একটি কলেজ সরকারি করতে পারেনি। তৎকালীন সরকারের আমলে চরফ্যাশনের জনগণ ধর্মঘট করেও একটি লঞ্চ আনতে পারেনি। আজকে বেতুয়াসহ ঘোসেরহাটে ঢাকা-চরফ্যাশনে লঞ্চ চলাচলের পাশাপাশি বেতুয়ায় নৌ-বন্দর স্থাপন করা হচ্ছে। এই সরকারের আমলে চরফ্যাশন পৌরসভাকে আমি এ-গ্রেডে রুপান্তর করেছি আজকে এ পৌরসভার অভ্যন্তরিন ৩২টি সড়ক উন্নয়ন হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপি জ্যাকব আরো বলেন,ক্ষুদা ও দারিদ্র মুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৩বছর ধরে চরফ্যাশনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। যেখানে বিগত জোট সরকারের আমলে এই অঞ্চলে খুন,জখম,অত্যাচার নির্যাতনসহ লুটের রাজনীতি কায়েম হয়েছিল। আজকে এই অঞ্চলের স্কুল,কলেজ,মসজিদ,মাদ্রাসা হাসপাতাল,ব্রিজ ও রাস্তাঘাটসহ পর্যটন ব্যবস্থার দৃষ্টি নন্দন উন্নয়নের উপর দিয়ে কিভাবে বিএনপি ভোট চাইবে। চরফ্যাশন ও মনপুরার হাজার,হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বৃথা যেতে পারেনা। এর জবাব এদেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে দিবে। ছাত্রলীগের ইতিহাস তুলে ধরে এমপি জ্যাকব বলেন,বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষকদের শোষণ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯এর গণ অভ্যুত্থান ৭০এর নির্বাচন তথা স্বাধীকার সংগ্রাম আন্দোলনে এই ছাত্রলীগ বুকের তাজা রক্ত উজাড় করে দিয়ে সারা বাংলার মানুষের ভাতের অধীকার এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে লরাই করেছে। এই ছাত্রলীগ সেই নেতার সংগঠন যিনি ৭১এর ২৬শে মার্চ গ্রেপ্তারের পরে পাকিস্তানী বাহিনী যখন পাকিস্তানের কারাগারের মধ্যে ফাঁসির মঞ্চ তৈরী করে বন্দি বঙ্গবন্ধু মুজিবকে বলেছিলো তোমাকে স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোষ করতে হবে,তোমাকে মাথানত করতে হবে আর না হয় তোমাকে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়তে হবে। তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমি ক্ষুদিরামের বাংলার মুজিব,আমি সূর্য সেনের বাংলার মুজিব’ ক্ষুদিরাম ও সূর্য সেন যদি হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে যেতে পাড়ে তাহলে আমিও হাসতে,হাসতে ওই ফাঁসির মঞ্চে যাব তবুও বাংলার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবনা। বাংলার স্বাধীনতার প্রশ্নে আমি আপোষ করতে পারবনা। আমাদের ছাত্রলীগ সেই নেতার হাতে গড়া সংগঠন,যে ছাত্রলীগের প্রতিটা কর্মী আজকে আপোষহীন ও সংগ্রামী যারা অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনা। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও পৌর মেয়র মোরশেদসহ অধ্যক্ষ্য মনির আহমেদ শুভ্র প্রমুখ।