অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০২২ | ৫ই মাঘ ১৪২৮


চরফ্যাশনে ডিজিটাল জরিপের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ই ডিসেম্বর ২০২১ রাত ১০:০৪

remove_red_eye

৬৭



এআর সোহেব চৌধুরী ,চরফ্যাশন : ডিজিটাল জরিপের নামে অসহায় ও দরীদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিন আইচা থানার কয়েকটি মৌজায় বিডিএস জরিপের নামে টাকা আদায় করছে সিট অনুযায়ী দায়িত্বরত সার্ভেয়ার ও সংশ্লীষ্টরা। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অসহায় কৃষকের জমি অন্যের নামে রেকর্ড দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ডিসেম্বর) জমির রেকর্ড সংশোধন করে দেয়ার নামে হাতিয়ে নেয়া ৪০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় জুলফিকার আলী নামের এক প্রবাসীকে মারধর করেছেন বলে রবিবার (১২ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই ভূক্তভোগী এমন অভিযোগ করেন। জুলফিকার আলী তাঁর লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করে বলেন, দক্ষিণ চর আইচা মৌজায় ৩৫৯২ ও ৩৬৫৭ নং দলিল মূলে খরিদা এস.এ ১৩১ নং খতিয়ানে ১ একর ২৮ শতাংশ জমির মালিক আমার দাদা  আবদুর রাজ্জাক তালুকদারসহ তাঁর অপর ৫ ভাই। দাদা আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পরে ওই জমি ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হন আমার বাবা মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার ও চাচারা। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ৩ ভাই ৫৯ শতাংশ জমির মালিক হই। বাবার ওয়ারিশে ওই জামিতে বসত বাড়ি করে ভোগ দখলে আছি। আমরা এলাকায় না থাকায় দিয়ারা জরিপ চলাকালীন সময়ে খতিয়ানে জমির পরিমানে গড়মিল হলে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আমি ও অন্য ওয়ারিশরা আপত্তি জানালে পূর্ববর্তী জরিফের অফিসাররা পরবর্তী বিডিএস জরিপে আমাদের জমির রেকর্ড সংশোধন করে দিবে বলে আশ্বাস দেন। বর্তমান ওই মৌজায় বিডিএস জরিপ চলাকালীন সময়ে দায়িত্বরত সার্ভেয়ার মাহাবুবুর রহমান,নজরুল ইসলাম ও আকাশসহ কয়েক জন মাঠ পর্যায়ে জরিপের কাজ করছেন। এ জরিপ চলাকালীন সময়ে আমাদের মূল খরিদা দখলীয় জমির রেকর্ডীয় ১একর ২৮ শতাংশ জমি থেকে কর্তন করে জনৈক জহিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নুরুনাহারসহ অন্য সদস্যদের নামে ৩০ শতাংশ জমি অর্থের বিনিময়ে তাঁরা রেকর্ড দেন। জুলফিকার আরও বলেন,চরমানিকা ভূমি জরিপ অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মরত সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম ওই রেকর্ড সংশোধন করে দিবেন বলে আমাকে আশ্বাস দেন এবং আমার কাছে এক লাখ টাক দাবী করেন। আমি নজরুল ও মাহাবুবুর রহমানকে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। বাকী ৬০ হাজার টাকা না পেয়ে তাঁরা আমাদের খতিয়ানের রেকর্ড সংশোধন না করে খতিয়ানের জমি থেকে ৩০ শতাংশ জমি জহিরুল ইসলাম গংদের নামে রেকর্ড দিয়ে দেন। যার বিডিএস খতিয়ান নং-২১৬৯। বিষয়টি আমি এবং আমার অন্য ওয়ারিশরা  চর মানিকার অস্থায়ী জরিপ অফিসে গিয়ে আমাদের খতিয়ান সংশোধন না করার কারন জানতে চাই এবং আমাদের দেয়া ৪০হাজার টাকা ফেরত চাই। ওই টাকা চাওয়ায় সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম, মাহাবুবুর রহমান ও আকাশ আমার ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে। এবং আমার গলায় থাকা মাফলার পেঁচিয়ে আমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান,বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রবাসী জুলফিকার আলী অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।