অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০২২ | ৫ই মাঘ ১৪২৮


লালমোহন দৌলতখান ও চরফ্যাসনে ১৫ নারীকে জয়িতা সংবর্ধনা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ই ডিসেম্বর ২০২১ রাত ১০:১৬

remove_red_eye

৫২




লালমোহন প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোলার লালমোহন, দৌলতখান ও চরফ্যাসন উপজেলায় ১৫ নারীকে জয়িতা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

‘নারী নির্যাতন বন্ধ করি, কমলা রঙের বিশ্ব গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যে ভোলার লালমোহনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্নভাবে সফলতা অর্জনকারী পাঁচ নারীকে জয়িতা হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী শাহিনা আক্তার, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী আকলিমা বেগম, সফল জননী নারী সুরমা বেগম, নির্যাতনের বির্ভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী কহিনূর বেগম ও সমাজ উন্নয়ন অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরীতে মাসুমা বেগমকে জয়িতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নূরনবীর সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম হাওলাদার, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ শাহ প্রমুখ।।

দৌলতখান প্রতিনিধ  জানান, ভোলার দৌলতখানে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতা নারীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সংবর্ধিত জয়িতারা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা হলরুমে এ সংবর্ধনা আয়োজন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তারেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিদ্দিক মিয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আইনুন নাহার রেনু,  মহিলা বিষয়ক হিসাব রক্ষক কাম ক্রেডিট সুপার ভাইজার মো. হুমায়ুন কবির প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে এক মানববন্ধন করা হয়।
পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ও সংবর্ধিত  জয়িতারা হলেন, শিক্ষা ও চাকরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী মকরায় বাছেতুন নাহার ,সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় আচিয়া বেগম, সফল জননী হোসনেয়ারা চৌধুরী, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে ফারুল বেগম ও নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় আমেনা বেগম সাথী নির্বাচিত হন। পরে এ পাঁচ শ্রেষ্ঠ জয়িতা ৫ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলেদেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তারেক হাওলাদার। চরফ্যাশন প্রতিনিধি জানান, ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নারী জাগরনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতীবার (৯ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ দিবস উপলক্ষে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও অর্থনৈতিক সাবলম্বিতায় অবদান রাখার জন্য ৫টি ক্যাটাগরিতে ৫ নারীকে জয়িতা সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হয়।
কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক রাশিদা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চরফ্যাশন জলবায়ু ফোরামের সভাপতি এম আবু সিদ্দিক, পৌর কাউন্সিলর আকতারুল সামুসহ আরও অনেকে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের উপস্থাপনায় বক্তারা বলেন,চরফ্যাশন উপজেলার দরীদ্র ৮০জন নারীকে স্বক্ষমতা অর্জনে ট্রেনিং ও ভাতা এবং ২হাজার ৯শ ৮১জন দরিদ্র নারীকে ৩০কেজি করে ভিজিডি চাল,৩হাজার ৫শ ৩০ জন দরিদ্র গর্ভবতী নারীকে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ ২১টি ইউনিয়নে কিশোর কিশোরী ক্লাবে ওয়ার্নেসের পাশাপাশি সঙ্গীত প্রশিক্ষণ ও ক্রিড়া সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত,শত দরিদ্র নারী ভিক্ষাবৃত্তিসহ দরিদ্রতার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করলেও তাদের পুর্নবাসনে কোনো অগ্রগতী নেই বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ কল্যান কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলেন, ভিক্ষুক পুর্নবাসনে সিমিত বরাদ্দ থাকায় সম্পূর্ণভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। রমেদ্রনাথ বিশ্বাস বলেন,দরীদ্র এসব নারীকেও ট্রেনিং ও ভিজিডির আওতায় আনার জন্য কাজ চলমান রয়েছে।