বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭ই ডিসেম্বর ২০২১ রাত ১২:১৭
৪৫১
আমির হোসেন।।
ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’এর প্রভাবে ভোলার নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বেড়েছে। যা বিপদসীমা ছুঁই-ছুঁই করছে। একই সঙ্গে শনিবার দিবাগত রাত থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত উচ্চ জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে জেলার প্রায় ২০হাজার হেক্টর(৪৯হাজার ৪০০একর) ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির কোনো হিসাব না করলেও কৃষক প্রায় ৫০০কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হাসানুজ্জামান বলেন, স্বাভাবিক জোয়ার ওঠে ২দশমিক ৮মিটার। সোমবার ভোররাত ৪টায় মেঘনায় জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩দশমিক ২০মিটার। যা বিপদসীমার ২১সেন্টিমিটার নিচে। দিনের জোয়ারের উচ্চতা আরও বাড়বে।
ভোলার আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যে ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, গত শনিবার ভোর থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত সূর্য্য ওঠেনি। রোববার ভোররাতে মুষলধারে (৩দশমিক ৫মিমি বৃষ্টি), সারাদিন গুড়িগুড়ি এবং সন্ধ্যে থেকে সোমবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে দেখা গেছে। ভোলার ভাঙা সড়কের গর্তে পানি জমে গেছে। মাটির সড়কে কাঁদা। তারপরেও মানুষজন ছাতা নিয়ে কাজে বের হয়েছে। কৃষকদের খেতে জমা পানি পাম্প মেশিন ও বালতি-গামলা দিয়ে সেচ দিতে দেখা গেছে।
কৃষক, কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও উচ্চ-জোয়ার বন্যায় ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের উত্তররাজাপুর, দক্ষিণরাজাপুর, কানিবগার চর, ভোলার চর, পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের গাজিপুর, কাচিয়া ইউনিয়নের বারাইপুর, রামদেবপুর, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চরপাঙাশিয়া, ভেলুমিয়া ও ভেদুরিয়া ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর, টবগী, চরমুন্সি, মদনপুর, মেদুয়া ইউনিয়নের চর নেয়ামতপুর, ভবানীপুর, তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর, মলংচড়া, চরমোজাম্মেল, মনপুরা উপজেলার কলাতলি, চরডেম্পিয়া, ঢালচর, কুকরি-মুকরি, মুজিবনগর, চর কচুয়া-চর শাহাজালালসহ ৭৪টি চরাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ভোলা খামারবাড়ির তথ্যমতে ভোলায় প্রায় ২০হাজার হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
জানা যায়, ভোলার চরের ৩২একর, কানিবগা চরের ৩২০একর, নবীয়ারচরের ৩৫একর, মাঝের চরের আব্দুল হান্নান জমাদারের ৩২০শতাংশ, সবুজ চৌকিদারের ২৪০শতাংশ, মাইনুদ্দিন মাঝির এক একর, দক্ষিণ রাজাপুরের নুরুমাঝির এক একর, জাকির সরদারের ২একর, জাহাঙ্গীর সরদারের এক একর, বেচুমাঝির ৪৮শতাংশ, জয়নাল আবেদীনের একএকর, শাহেআলম জমাদ্দারের একএকর, আবুতাহেরের ৮০শতাংশ, মাইনুদ্দিন চৌকিদারের ৫০শতাংশ জমির সবজি খেত ডুবে গেছে।
ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কাচিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চলের সবজিখেত প্লাবিত হয়েছে। এখানের জমিতে চিচিঙ্গা, করল্লা, ক্যাপসিক্যাম, শশা, বিট, গাজর, পেঁয়াজ, মরিচ, তরমুজসহ রবি মৌসুমের সবজি চারা, বীজতলায় বীজ বোপন করা ছিল।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ১০০হেক্টর আলু, এক হাজার হেক্টর খেসারী, ৪০০হেক্টর সরিসা, ১০০হেক্টর গম, ৫০০হেক্টর সবজি, ৫০০হেক্টর আমন ধানসহ ৩হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজউদ্দিন বলেন, বৃষ্টি ও উচ্চ জোয়ারে প্রায় ৩হাজার হেক্টর চরাঞ্চল-নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে টানা কয়েক দিন উচ্চ জোয়ার উঠলে বা জোয়ারে লবন পানি থাকলে সঙ্গে বৃষ্টি হলে উল্লেখিত ফসলের ক্ষতি হবে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহে আলম ফরাজি বলেন, রোববার মধ্য রাত থেকে জোয়ারের উচ্চতা বেড়েছে। জমির ওপর ২-৩ হাত পানি উঠে খেত, পুকুর ও মাছের ঘের ডুবে গেছে।
মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুরের কৃষক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি জানান, তাঁর ২০হেক্টর জমিতে লাগানো শশা, পেঁয়াজ, তরমুজ ও করল্লার খেত ভেসে গেছে। রোদ না উঠলে তাঁর কমপক্ষে ২০লাখ টাকার ক্ষতি হবে।
মদনপুর টবগীর ইউপিসদস্য কৃষক আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, তার এলাকায় ২০০একর জমি আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৪৫একর জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। বাকী জমিতে চারা লাগানোর আগেই জোয়ার এসে সব প্লাবিত করছে।
মদনপুরের চরপদ্মা গ্রামের কৃষক নাছির শিকদার বলেন, তাঁর খেতে মিষ্টিআলু, মরিচ ও সবজির বীজতলা ছিল। সব ডুবে গেছে।
মদনপুরের আরেক কৃষক, ইউপিসদস্য ফারুক দৌলত বলেন, কার্তিকের শেষ দিকে জমি শুকালে কৃষকেরা সবজি খেত তৈরী করে। চাষাবাদ দিয়ে বীজতলা তৈরী করে। সে খেতে কেউ বীজ পুঁতেছে । অনেকে খেত তৈরী করছে বীজ পোঁতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু জোয়ার ওঠায় এসব খেত নষ্ট হয়ে গেছে। সার, ঔষুধ, ছত্রাকনাশক, বীজ সব মিলিয়ে কমপক্ষে একরপ্রতি কৃষকের এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে।
কমপক্ষে ৫০জন কৃষকের ভাষ্য, এক একর জমিলগ্নি, চাষ, বীজ, সার-ওষুধ মিলিয়ে এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। অসময়ে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে খেত প্লাবিত হওয়ায় তাদের একরে এক লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের ভোলা খামারবাড়ি সূত্রমতে প্রায় উচ্চ জোয়ার ও বৃষ্টিতে প্রায় ২০হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষয়-ক্ষতির কোনো তালিকা হয়নি।তবে কৃষক প্রায় ৫০০কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর উচ্চ জোয়ার ও বৃষ্টিতে নিন্মাঞ্চল ও চরাঞ্চলের রবিশষ্য ও আমনের খেত প্লাবিত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তাঁরা প্লাবিত খেত পর্যবেক্ষনে রেখেছেন। এখনও ক্ষতি শুরু হয়নি। তবে কি পরিমান ক্ষতি হবে, তা আরও ২-৩দিন পরে বলা যাবে। তখন তালিকা করা হবে।
ভোলায় কোস্টগার্ডের অভিযানে ২টি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট ও জালসহ ২০ জেলে আটক
ভোলা-২ আসনে সংসদ নির্বাচনের যাচাই বাছাইয়ে সতন্ত্র দুই প্রার্থী মনোনয়ন বাতিল, বৈধ -৭
ভোলায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ মৃদু শৈত প্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
ভোলায় বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ উৎসব
মনপুরায় পুলিশের অভিযানে আটক-১
পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে: তারেক রহমান
ভোলাসহ ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা বাড়তে পারে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত
নির্বাচনে দেশের পক্ষের শক্তি বিএনপিকে বিজয়ী করবে: মির্জা ফখরুল
র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে এক ঘণ্টার জন্যও ব্যবহার করিনি: বাবর
ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ কার্যকর, শাস্তি বাড়ল কয়েকগুণ
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় কুপিয়ে হত্যা করে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই, আটক এক