অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৯ই জুলাই ২০২৬ | ২৪শে আষাঢ় ১৪৩৩


চলমান জ্বালানি সঙ্কটেও অব্যবহৃত থাকছে ভোলায় মজুদ বিপুল গ্যাস


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩শে নভেম্বর ২০২১ রাত ১০:১৪

remove_red_eye

৪৪১




বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক: দেশে চলমান জ্বালানি সঙ্কটেও অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে ভোলায় মজুদ বিপুল পরিমাণ গ্যাস। ১৯৯৫ সালে ভোলায় গ্যাসের মজুদ আবিষ্কার হয়। কিন্তু এখনো ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা যায়নি। এমনকি স্থানীয় পর্যায়েও ওখানকার বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাসের সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জ্বালানি-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- মূলত সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এবং সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভোলার গ্যাসের মজুদ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অথচ ভোলার গ্যাস কাজে লাগানো সম্ভব হলে দেশে চলমান জ্বালানি সঙ্কট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার ভোলায় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তা কাজে লাগাতে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছিল। পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার গ্যাস সংযোগ দেয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছরেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। অথচ বিপুল চাহিদায় দেশের অন্যান্য স্থানে আবিষ্কৃত গ্যাসেরও মজুদ ফুরিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় পাইপলাইনের বিকল্প হিসেবে ভোলার গ্যাস এলএনজিতে (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে জ্বালানি বিভাগ। তবে আর্থিক কারণে তেমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই দুরূহ বলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছে। তাদের মতে, পাইপলাইনের বিকল্প হিসেবে এলএনজির পরিকল্পনা ব্যয়বহুল। ভোলায় যে পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, তা দিয়ে এ ধরনের পরিকল্পনা করলে জ্বালানি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ওই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন তাও সহজলভ্য নয়।

সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ সালে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ করে দুটি আলাদা গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। বাপেক্স ১৯৯৫ সালে ভোলার শাহবাজপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। জ্বালানি বিভাগের ধারণা বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রে দেড়-দুই টিসিএফ গ্যাস রয়েছে। বাপেক্সের তথ্যানুযায়ী ভোলার বোরহানউদ্দিনের শাহবাজপুরে চারটি কূপ রয়েছে। তার বাইরে শাহবাজপুর ইস্ট ও ভোলা নর্থ নামে আরো দুটি কূপ রয়েছে। মোট ৬টি কূপে প্রায় ১ দশমিক ৩ টিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে। তার মধ্যে শাহবাজপুর ইস্ট কূপে রয়েছে ৭০০ বিসিএফ (১ টিসিএফ=১০০০ বিসিএফ) আর ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্রে রয়েছে প্রায় এক টিসিএফ গ্যাস। বর্তমানে ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ৬০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই গ্যাস সেখানকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প ও অন্তত দুই হাজার আবাসিকে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার বাইরেও ভোলায় নতুন করে ৩টি কূপ খনন করা হবে। সেগুলো হলো ইলিশা-১, ভোলা নর্থ-২ ও টবগি-১। আগামী বছরের প্রথমেই কূপ তিনটির খনন শুরু করা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ওসব কূপ খনন করবে।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে পাইপলাইন নির্মাণে ব্যয়ের দুশ্চিন্তা বাড়ালেও ওই সংকট থেকে জ্বালানি বিভাগ পরিত্রাণের সুযোগ আগেই পেয়েছিল। ভোলার গ্যাস বৃহদাকারে কাজে লাগাতে নব্বইয়ের দশকের জ্বালানি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিকল পেট্রোবাংলাকে পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ওই প্রস্তাবে ১২০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে কোম্পানিটি ভোলা থেকে উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহার করে বরিশালে ১০০ মেগাওয়াট, খুলনায় ৩৫০ ও ভোলায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওয়েস্টার্ন রিজিয়ন ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্টের (ডবিøউআরআইপি) আওতায় দেয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলকেও আরো অনেক আগেই গ্যাস নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হতো। ভোলার গ্যাস কাজে লাগাতে ইউনিকল যে প্রস্তাব দিয়েছিল তা গ্রহণ করলে দেশে গ্যাসের এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। মূলত সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে ভোলাকে বছরের পর বছর অকেজো করে রাখা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পাইপলাইন প্রকল্প সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এলএনজিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা হবে ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ এলএনজিতে রূপান্তর করতে হলে যে পরিমাণ গ্যাস ও বিনিয়োগ প্রয়োজন তা কোনোভাবেই ওই গ্যাসক্ষেত্রের জন্য উপযোগী নয়। কারণ কোনো গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসকে রিগ্যাসিফিকেশন করে এলএনজিতে রূপান্তর করতে হলে সেখানে অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন কিউবিট ফিট (টিসিএফ) গ্যাস প্রয়োজন। একই সঙ্গে এলএনজি রূপান্তর প্রকল্পে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ভোলায় যে গ্যাস আছে তাতে কোনোভাবেই ওই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বিনিয়োগ উঠে আসবে না। তবে পাইপলাইন নির্মাণ করেও ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা চ্যালেঞ্জিং ও ব্যয়বহুল বিনিয়োগ। আর ওই খাতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হবে, তাতে মজুদ গ্যাস উত্তোলন করে খরচ তুলে আনা কঠিন। কারণ নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপলাইন করে তা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে না।
অন্যদিকে এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান জানান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার করার জন্য দুটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমত, সেখানকার গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা। দ্বিতীয়ত, ভোলা থেকে ফেনী পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা। তবে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে এলএনজিতে রূপান্তরের বিষয়টি বেশ ব্যয়বহুল। সেটি নিয়ে আরো সমীক্ষা প্রয়োজন। ভোলার গ্যাস বৃহদাকারে কাজে লাগাতে দু’ভাবে কাজ চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তারপর বলা যাবে কোনটি সহজলভ্য হবে। সূত্র: এফএনএস







মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভোলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

ভোলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

উত্তাল সাগরে যেতে পারছেনা শতশত ট্রলার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে

উত্তাল সাগরে যেতে পারছেনা শতশত ট্রলার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে

মনপুরায় প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মনপুরায় প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ভোলায় শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও পর্যালোচনা সভা

ভোলায় শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও পর্যালোচনা সভা

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি : ডেপুটি স্পিকার

ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি : ডেপুটি স্পিকার

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের : জ্বালানি মন্ত্রী

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের : জ্বালানি মন্ত্রী

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান পেলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান পেলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার

আরও...