অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭ই আশ্বিন ১৪২৮


চরফ্যাসনে মশারী ও কারেন্ট জালে ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ


এ আর সোহেব চৌধুরী

প্রকাশিত: ২৫শে আগস্ট ২০২১ রাত ১১:০৮

remove_red_eye

৭০





এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন :  জেলেরা অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের মশারী ও ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা তদুপেক্ষা কম ব্যাসের কারেন্ট জাল দিয়ে চরফ্যাশনের মেঘনা ও তেতুলিয়া উপকূলবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ ও বাগদা চিংড়ীর রেনু পোনা ধরতে গিয়ে ধ্বংস করছে নদী ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ। সচেনতার অভাবে নিষিদ্ধ এ মশারী ও কারেন্ট জাল ব্যবহারে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রজাতীর মাছের কোটি,কোটি পোনা,ডিম ও জুপাঙ্কটন ধ্বংস হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানে। ফলে বিলুপ্তির পথে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির নদী ও সামুদ্রীক উদ্ভিদগুল্ম, মাছ, শামুক,কচ্ছপ ও খাদক শ্রেণীর বিভিন্ন পাখী ও প্রাণী। যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতিতে।
মৎস্য ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের একটি গবেষণা তথ্য থেকে জানা যায় , ক্ষুদ্র ফাঁসের এসব জাল দিয়ে একটি বাগদা রেনু পোনা সংগ্রহে অন্তত ৯২টি প্রজাতির মাছের পোনা   নষ্ট হয়।
মৎস্য অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা,তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদী উপকূলবর্তী দ্বীপাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে মশারী ও কারেন্ট জালসহ চরঘেরা জাল ব্যবহার করছে জেলেরা।
ঢালচর, কুকরি-মুকরি,পাতিলা,আসলামপুর পুরানো ¯øুইসঘাট,বেতুয়া, মাদ্রাজ নতুন ¯øুইসঘাট, সামরাজ, হাজারীগঞ্জ খেজুরগাছিয়া, মাইনুদ্দিনঘাট, নুরাবাদ গাছিরখাল, নীলকোমল ঘোষেরহাট, পাঙ্গাশিয়া, বাংলাবাজার, আহাম্মদপুর হাজিরহাট, মায়ারদোন, জাহানপুর পাঁচকপাট ¯øুইসঘাট, তুলাগাছিয়া, রসুলপুর আটকপাট ¯øুইসঘাট, আঞ্জুরহাট বকশীঘাট, বাবুরহাট,কলমী,দক্ষীন আইচা চর কচ্ছপিয়াসহ আরও একাধীক অঞ্চলে কয়েকটি চক্র রয়েছে। যারা নিষিদ্ধ মশারী জাল,চরঘেরা জালসহ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ শিকার করছে।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার জেলেরা চরফ্যাশনের নদ-নদীর উপকূলে মশারী ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মৎস্য শিকার করলেও সংশ্লীষ্ট প্রসাশন নিরব রয়েছে। সচেতন মহল বলছেন,উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের জাল ও সুতার দোকানগুলোতে নিষিদ্ধ মশারী ও কারেন্ট জাল অবাধে বিক্রি করলেও কোনোও রকমের অভিযান নেই সংশ্লীষ্ট প্রসাশনের।
দীর্ঘদিন ধরে নদী ও সাগরে হাজার,হাজার জেলে সংশ্লীষ্ট মহলের অসাধু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে লাখ,লাখ মিটার এ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মৎস্য আহরণ করে আসছে। যার ফলে চরফ্যাশন উপকূলের নদী সামুদ্রীক মৎস্য সম্পদের পাশাপাশি সামুদ্রীক বৈচিত্র হুমকির মধ্যে পড়েছে।
সরকার ৪ দশমিক ৫সেন্টিমিটার বা তদুপেক্ষা কম ব্যাস দৈর্ঘ্যরে ফাঁস জালের ব্যবহার অবৈধ ঘোষণা করলেও তাঁ শুনছেনা জেলেরা। এ আইন অমান্যকারীকে ৫শত টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান থাকলেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রসাশনের চোখের সামনেই এ জালের ব্যবহার হচ্ছে অহরহ।
মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলেরা মশারী জালে একটি বাগদা রেনু ধরতে গিয়ে অন্তত ৪৬টি প্রজাতির চিংড়ি,৩৫টি জুপাঙ্কটন প্রজাতির ও ১১টি সাদা মাছ প্রজাতির পোনা নষ্ট করছে। যার কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে সামুদ্রীক সম্পদ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, আমরা বিভিন্ন বাজারের অলিগলিতে অভিযান চালিনোর পরেও অসাধু ব্যবসায়ীরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মূলত এসব ব্যবসায়ীরা দূরের কোনো গোডাউনে রেখে এসব জাল বিক্রয় করছে। এছাড়াও জেলেরা কাছের কোনো উপজেলার হাট বাজার থেকে এ জালগুলো ক্রয় করে ব্যবহার করছে।