অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে জুলাই ২০২১ | ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমি জবর দখলের চেষ্টা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ই জুলাই ২০২১ রাত ১০:৪৫

remove_red_eye

১৪৫




বর্গাচাষীকে কুপিয়ে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা সদর উপজেলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে একটানা ৫০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে থাকা মাহাবুব মোর্শেদ বাবুল গ্রæপের লোকজনকে হামলা মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। বিরোধপূর্ণ জমি সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর আনন্দ পার্ট-৩ গ্রামে। ওই জমির ভোগ দখলে আছেন মরহুম আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে মাহাবুব মোর্শেদ বাবুল। আব্দুল রশিদ মিয়া ভোলার বাংলাস্কুল মোড়ে অবস্থিত প্যারাডাইস বুক ডিপোর মালিক ছিলেন।
জমির মালিক আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে মাহাবুব মোর্শেদ বাবুল জানান, ১৯৭২ সালে তার পিতা আব্দুর রশিদ মিয়া চর আনন্দ পার্ট-৩  গ্রামের ২ একর জমি ক্রয় করে পুকুর পুস্কুনি কাটান। বাড়ি ও বাগান তৈরি করেন। বাকি জমিতে৫ দশক ধর নিরবিচ্ছিন্ন এবং শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছেন। সর্বশেষ বিএস জরিপেও ওই জমি আব্দুর রশিদ মিয়ার  নামে রেকর্ড হয়। কিন্তু বিএস জরিপের সময় ৭২ সালে সম্পাদিত দলিলে একটি ভুল ধরা পড়ে। সেই ভুল সংশোধনের জন্য আব্দুর রশিদ মিয়া আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালত ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমির উপর বাবুলের পক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এদিকে ভুলের বিষয়টি জানতে পেরে আক্রাম আলীর ছেলে আব্দুর রশিদ ফরাজি এবং নাতি আব্দুল মালেক ফরাজিগ্রæপ প্রায় ৫০ বছর পর ওই জমির মালিকানা দাবি করে জবর দখলের পায়তারা শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার বসাবসি হয়।
জমির কাগজপত্র এবং স্থানীয় স্বাক্ষি প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায় চরা আনন্দ মৌজার ৫৮-৫৯ নম্বর দাগে ১৯এল ৫৬/১১০৫ ভোলা ৫৯-৬০ নম্বর বন্দোবস্ত মোকদ্দমা মূলে ৪ একর জমির মালিক ছিলেন আক্রাম আলী ফরাজি। তিনি ১৯৬০ সালে ২ একর জমি ওয়াছিল মিয়ার কাছে বিক্রি করেন।ওয়াছিল মিয়া ১৯৭২ সালে ওই দুই একর জমি আব্দুর রশিদ মিয়ার কাছে বিক্রি করেন এবং সেই থেকে ওই দুই একর জমি ক্রয় করেআব্দুর রশিদ মিয়া ভোগ দখলে রয়েছেন।এদিকে আক্রাম আলী পরবর্তীতে অপর ২ একর জমিও বিক্রি করে দিয়ে নি:স্বত্ত¡বান হন এবং এক পর্যায়ে এলাকা ছেড়ে নোয়াখালী  চলে যান। এসব স্বাক্ষ প্রমাণ ও কাগজপত্র দেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারসহ গণ্যমান্য শালিসবর্গ সকলের কাছেই ফরাজি গ্রæপের দাবি অগ্রাহ্য হয়।

সর্বশেষ গত ২ জুন সকালে মাহাবুব মোর্শেদ বাবুলের ভাতিজা এবং ওই জমির বর্গাচাষী বিশর পÐিত জমিতে চাষকৃত মুঘডাল তোলেন এবং একই সাথে ওই জমি থেকে ঘাস কাটতে থাকেন। এ সময় প্রতিপক্ষ আব্দুর রশিদ ফরাজি (৬০) এসে বাধা দেন।এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বৃদ্ধ রশিদ ফরাজি পাঞ্জাবির নিচে লুকিয়ে রাখা ধারালো ছোড়া বের করে বশির পÐিতের পেটের ভিতরে ঢুকিয়ে দেন এবং পিছনের রানে আঘাত করেন। এ সময় বশির পÐিত মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এসে বশিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং রশিদ ফরাজিকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানে এবং প্রথমে রশিদ ফরাজিকে আটক করে। পরে রশিদ ফরাজি বৃদ্ধমানুষ এই কারণ দেখিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় মাহাবুব মোর্শেদ বাবুল গ্রæপ ৬ জুন থানায় মামলাকরেন। থানায় মিথ্যা মামলা করতে না পেরে পর দিন রশিদ ফরাজি গ্রæপ বাবুল এবং তার ভাতিজা হাসপাতালে চিকিৎসাধিন বশির পÐিতসহ ৭ জনকে হত্যার চেষ্টা ও চুরির অভিযোগে আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করে। এদিকে পুলিশ হামলাকারী রশিদ ফরাজি গ্রæপের কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে হামলার শিকার হওয়া বশির পÐিত গ্রæপের একজনকে আটক করে আদালতে সোপার্দ করেছে।     
এদিকে ভোলা থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, মামলা দুটি তদন্তাধিন রয়েছে এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে।