অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে জুলাই ২০২১ | ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮


লালমোহনে মৃত্যুর এক বছর পর স্কুল ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬শে জুন ২০২১ রাত ১১:১৪

remove_red_eye

৪২

মোঃ জসিম জনি, লালমোহন থেকে : ভোলার লালমোহনে এক বছর পর ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যা করে রশিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন পরিবারের লোকজন। আর হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই ছাত্রীর খালুর বিরুদ্ধে।
এক বছর আগে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরউমেদ গ্রামে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় এলাকার ইউপি সদস্যসহ প্রভাবশালী মহলের চাপে ছাত্রীর পরিবার থানায় মামলা করতে পারেনি। তারা মিমাংশার আশ^াস দেন। জান্নাতের পরিবার মিমাংশায় রাজী না হওয়ায় লাশ দাফনের পরে তাদের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন এই কথিত প্রভাবশালীরা। এরপর জান্নাতের পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে যান। বর্তমানে ওই ইউপি সদস্য আশ্রাফুল আলম টুলু মারা যাওয়ার পর তারা এলাকায় ফিরে মেয়ে জান্নাত হত্যার সঠিক বিচারের দাবী করছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৯ মে বিকালে লালমোহনের পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরউমেদ এলাকা থেকে জান্নাত নামের ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে রশিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেন আপন খালু আব্দুর রবসহ তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। বসতভিটা নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।
জান্নাতের মা শাহানূর বেগম জানান, ঘটনার দিন জান্নাতকে ঘরে একা রেখে বাইরে যান। এরপর বিকাল বেলা বাড়ি ফিরে দেখতে পায় তাদের ঘর থেকে তার বোন জামাইসহ ৩জন পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এরপর ঘরে প্রবেশ করে মেয়ে জান্নাতকে রশির সাথে ঝুলতে দেখেন তিনি। পরে তার ডাক চিৎকারে পাশের বাড়ি থেকে লোকজন এসে জান্নাতকে নামান।
বাবা সামছল হক বলছেন, ঘটনার পর মামলা করতে চাইলেও মামলা করতে পারেননি ইউপি সদস্য আশরাফুল আলম টুলু ও এলাকার রফিক ব্যপারীর কারণে। বর্তমানে তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দাবী করছেন।
জান্নাতের ভাই মো. শাহিন বলছেন, লাশ দাফনের পর টুলু মেম্বার ও রফিক ব্যাপারী তাদের টাকার মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। তারা তা প্রত্যাখান করলে হুমকি দিয়ে পরিবারসহ তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন প্রভাবশালী এই টুলু ও রফিক ব্যাপারী। বর্তমানে তারা পূণঃ তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করছেন।
জান্নাতের খালু অভিযুক্ত আব্দুর রব স্কুল ছাত্রী জান্নাতকে নির্যাতন করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি সামান্য দিন মজুরী করে সংসার চালাই, তাদের সাথে আমার কোন ঝগড়া ছিল না।
ইউপি সদস্য আশ্রাফুল আলম টুলু গত কয়েক মাস আগে মারা গেছে। তার সাথের আরেক আওয়ামীলীগ নেতা রফিক ব্যাপারী জানান, তারা এ ঘটনার কোনো ফয়সালার আশ্বাস দেননি। ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা তা পুলিশ তদন্ত করেছে।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, ওই সময় স্কুল ছাত্রী জান্নাত আত্মহত্যা করেছে বলে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসে। যার জন্য মামলাটি ফাইনাল দেয়া হয়। এরপরও যদি নিহত স্কুল ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো অভিযোগ দেয়া হয় তাহলে বিষয়টি পূণরায় তদন্ত করে দেখা হবে।