অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৫শে জুলাই ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ ১৪২৮


চরফ্যাসনে ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা!


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ই জুন ২০২১ রাত ১১:২৭

remove_red_eye

১১১

চরফ্যাশন প্রতিনিধি : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ইউপি সদস্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে ফাঁকা ঘরে গৃহবধূকে একা পেয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য প্রার্থীর দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার (১৪জুন) বেলা ১২টায় চর কলমী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড উত্তর চরমঙ্গল গ্রামের খাসপুকুরপাড়ের নুরুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পরপর অভিযুক্ত মান্নান ও খোকন পলাতক রয়েছে।
শশীভূষণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এমন কোন অভিযোগ পাইনি। ভূক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভূক্তভোগী ওই গৃহবধূ জানান, তাঁর স্বামী ও শ্বশুড় চট্রগ্রামে থাকেন। বাড়িতে শ্বাশুড়ি ও দেবরসহ তিনি বসবাস করেন। চট্রগ্রাম থেকে বিকাশে স্বামী ও শ্বশুর টাকা পাঠালে স্থানিয় বিকাশের দোকানে টাকা উঠানোর জন্য শ্বাশুড়ি বাজারে যান। ছোট দেবর ছয়েদকে নিয়ে তিনি ঘরের মধ্যে দুপুরের রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় বেলা ১২টার দিকে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইয়াছিনের প্রতিক সংযুক্ত পোষ্টার এবং একটি হ্যান্ডমাইক  নিয়ে মান্নান আমার ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। মান্নান ঘরে ঢুকে বাক্সের দেয়ালে একটি পোষ্টার লাগিয়ে একগøাস পানি খেতে চায়। পাশাপাশি তার হাতে থাকা মাইকটি আমার ছোট দেবরের হাতে দিয়ে তা নিয়ে রাস্তায় যেতে বলেন। ছোট দেবর মাইক হাতে পেয়ে খুশিতে রাস্তায় চলে যায়। আমি একগøাস পানি নিয়ে আসলে মান্নান আমাকে ঝাপটে ধরে মাটিতে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে আমাকে একাঘরে পেয়ে শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতন করে এবং আমাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। আমি ডাক চিৎকার দিতে চাইলে সে আমার গলাটিপে ধরে। পরে আমি ধস্তধস্তি করে মান্নানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যাই। এসময় ঘরের সামনে আরোও  একজনকে পোষ্টারের প্যাকেট হাতে দাড়িয়ে থাকতে দেখি। পরে জানতে পারি তাঁর নাম খোকন।  ঘটনার পরপর আমি ভয়ে পাশের গ্রামের আমার বাবার বাড়িতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে মুঠোফোনে আমার স্বামী ও শ্বশুড়কে বিষয়টি অবহিত করি। ভূক্তভোগীর বৃদ্ধা শাশুড়ি জানান, ছোট ছেলে ও পুত্রবধূকে ঘরে রেখে আমি বাজারে বিকাশের টাকা আনতে যাই। বাড়ি এসে পুত্রবধূকে পাইনি। বিস্তারিত জেনে পুত্রবধূকে আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আমার স্বামী ও ছেলে চট্রগ্রাম থেকে আসলে তারপর আমরা থানায় গিয়ে মামলা করবো। কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইয়াছিন জানান, খবর পেয়ে বিকেলেই আমি ভূক্তভোগীর বাড়ি যাই। তাঁর শ্বাশুড়ি আমাকে জানান, মান্নান তাঁর পুত্রবধূর কানের গহনা নিয়ে গেছে এবং নেয়ার সময় গলাটিপে ধরেছে। ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ সত্য না। শশীভূষণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।