অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ইসলামের মর্মবাণী ছড়িয়ে সমাজকে ব্যাধি মুক্ত রাখতেই এই মডেল মসজিদ : প্রধানমন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ই জুন ২০২১ রাত ১০:১৯

remove_red_eye

৩৭

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাদেশে ইসলামের চর্চা, প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে এর মর্মবাণী মানুষকে অনুধাবন করানোসহ নানা সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতেই জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে তাঁর সরকারের সন্ত্রাস-মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে কমিটি করে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের পাশপাশি মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাশবিকতার বিরুদ্ধেও এই সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এই মসজিদগুলোও আমরা সেভাবেই তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে ইসলাম সম্পর্কে সবধরণের প্রচার ও প্রসার এবং এই ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যেন আরো বৃদ্ধি পায়।
‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনকালে দেয়া প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
সরকারের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ১টি করে সর্বমোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে এই ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সংক্রান্ত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
এই মডেল মসজিদগুলো নির্মাণ করা তাঁর দলের অনেক পুরনো সিদ্ধান্ত এবং এটি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এই মসজিদগুলোর মাধ্যমে আমাদের ইসলামের সংস্কৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম এগুলোর যাতে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং প্রচার ও প্রসার ঘটানো যায় এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এগুলো থেকে যাতে মানুষ দূরে থাকে এবং আমাদের ধর্মের যে মূলবাণী সেটা যেন মানুষ শিখতে পারে, জানতে এবং চর্চা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে যদি আমরা দেখি সারাবিশ্বে সবকিছুতেই মুসলামানরা আগে বেরিয়ে এসেছে এবং সবসময় মুসলামানরাই সামনে ছিল। সভ্যতার দিক থেকে মুসলমানরাই সবথেকে আগে ছিল। চিকিৎসা শাস্ত্র বলি এস্ট্রলজি বলি, বিজ্ঞান চর্চা বলি সবকিছুতেই অগ্রণী ছিল মুসলমানরা।
তিনি বলেন, আজকে কেন মুসলমানরা পিছিয়ে থাকবে, সেটাই আমার প্রশ্ন।
সরকার প্রধান বলেন, আমরা মসজিদগুলো করেছি সেখানে কুরআন চর্চার জন্য হিফজখানা, হজযাত্রী ও ইমামদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুসল্লিদের জ্ঞান আহরণের জন্য মসজিদে নববীর আদলে ইসলামিক লাইব্রেরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মসজিদ কমপ্লেক্স এর মধ্যে পৃথক ভবনে ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে থাকবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিস, কনফারেন্স হল, গবেষণা কক্ষ, প্রতিবন্ধী কর্নার, হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও বিদেশী মুসল্লিদের আবাসনের ব্যবস্থা ইত্যাদি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদগুলোতে বিদেশি মুসল্লিরা আসলে তাঁদের আতিথেয়তা প্রদানও আমাদের দায়িত্ব। সে চিন্তা থেকেই তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই যে, আমাদের ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যাতে সচেতন হয়। মডেল মসজিদে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে কারণ, একমাত্র ইসলাম ধর্মেই নারীদের সমঅধিকারের কথা বলা হয়েছে। পৈত্রিক সম্পত্তি এবং স্বামীর সম্পত্তিতে তাঁদের অধিকারও ইসলাম ধর্মই নিশ্চিত করেছে। যা অন্য কোন ধর্মে নাই।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো.ফরিদুল হক খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। গণভবন থেকে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ পিএমও এবং গণভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ’ শীর্ষক একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে খুলনা জেলা মডেল মসজিদ, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেরা মডেল মসজিদ এবং সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মডেল মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
দেশে এবং বিদেশে যারা ধর্মের নামে ফ্যাসাদ ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে তথা মানুষ খুন করছে তারা ইসলাম নামের শান্তির ধর্মের সর্বনাশ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সারাবিশে^ সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। কিন্তু মুষ্টিমেয় লোক জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে খুন খারাপি করে, বোমা মেরে আমাদের এই ধর্মের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে। এরা ধর্মের পবিত্রতাই শুধু নষ্ট করছে না সমগ্র বিশ্বে এর ‘ইমেজ’র ক্ষতি করছে।’
বিশে^ একটা প্রবণতা দেখা গেছে কোন সন্ত্রাসি ঘটনা ঘটলেই ‘ইসলামি জঙ্গি’ এই ধরনের একটি নামকরণের একটি অপচেষ্টা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশে^র বিভিন্ন দেশে তাঁর সফরকালিন এবং বিভিন্ন ফোরামে তাঁর বক্তব্যে এর প্রতিবাদ করেছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি যে, মুষ্টিমেয় লোকের জন্য কোন ধর্মকে কখনও অপরাধী করা যায়না। ’
‘আমাদের ওলামায়ে কেরামরা এখানে আছেন, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মী সকলকে আমি আহ্বান জানাবো- এই সর্বনাশা পথ থেকে আমাদের যুব সমাজ যেন দূরে থাকে সেজন্য সকলকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে, দেশের মানুষকে দূরে সরাতে হবে। কারণ, ধর্ম চর্চা করতে হলে আল্লাহর ওপর বিশ^াস রেখে মানুষের সেবা ও কল্যাণ করতে হবে। মানুষের অকল্যাণ করে বা মানুষ হত্যা করে কেউ বেহেশতে যেতে পারবেনা,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আজকে আমাদের সমাজকে একেবারে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের হাত থেকে যেন মানুষকে মুক্ত রাখতে পারি সেজন্য সকলকে আরো সচেতন থাকতে হবে।

ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী প্রচারে এই মসজিদগুলো ভূমিকা রাখবে বলে ভাষণে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের মর্মবাণী যেন এদেশের মানুষ জানতে পারে, বুঝতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ^াস করি, স্ব-স্ব ধর্ম যতœ সহকারে লালন পালন করি এবং সংরক্ষণ করি। ইসলাম আমাদেরকে সেই মানবতার শিক্ষাই দিয়েছে।’
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজর ধর্মপ্রাণ খাঁটি মুসলমান ছিলেন,’ উল্লেখ করে তাঁর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সকল ধর্মের প্রতি মর্যাদা যেমন দেখিয়েছেন। তেমনি মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করেন। রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন, আইন করে মদ নিষিদ্ধ করেন। টঙ্গিতে বিশ্ব এজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ ও কাকরাইলে তাবলীগের মারকাজ মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদান করেন, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শুরু এবং সমাপ্তিতে কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং এ দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে জাতির পিতা ওআইসি সম্মেলনেও যোগদান করেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির পিতা বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আর নয়। ধর্মের নামে শোষণ উৎপীড়ন আর চলবে না। রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মকে টেনে এনে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা আর কেউ করতে পারবে না। এরপরও যদি কেউ ধর্মকে মূলধন করে ব্যবসায় নামেন, তবে তাকে সমুচিত ফল ভোগ করতে হবে। এ দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারবে। কারও ধর্মীয় অধিকারে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এটাই বিশ্বাস করতেন এবং আমাদের সংবিধানে যে ধর্ম নিরপেক্ষতা দিয়েছেন তার অর্থ হচ্ছে- যার যার ধর্ম সে সে স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন।
স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারের দিকে ইঙ্গিত করে এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা দিয়ে ধর্মকে কিন্তু তিনি নিষিদ্ধ করেননি। বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইসলামি মূল্যবোধের দেশ। কাজেই, এখানে সেই চর্চা যাতে ভালভাবে হয়, ইসলামী সাংস্কৃতির বিকাশ যেন হয়, ইসলামের মর্মবাণী মানুষ যেন বুঝতে পারে- সেটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে ‘জাতীয় হজনীতি’ প্রণয়ন করে হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, হজ যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অংশের ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করা, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিমানের হজ পূর্ববর্তী খালি ফ্লাইটে জমজমের পানি ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করাসহ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম সংস্কার এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইসলামের খেদমতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং ইসলামিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। তাছাড়া, হাওড় এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্প, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প এবং মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে এবং ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ঋণ ও অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।
পাশাপাশি, কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স-এর সমমান প্রদানসহ লাখ লাখ আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদানে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোলা সদর উপজেলায় নব নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকেরহাট বাজার এলাকায় দৃষ্টি নন্দন এ মসজিদটির উদ্বোধন উপলক্ষে মসজিদের হল রুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, অর্ণি এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন শামিম, প্রিয়ন্তী এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান ছোটনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ও গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেন ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ণি এন্টারপ্রাইজ ও প্রিয়ন্তী এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। মসজিদটি নির্মাণে সময় লেগেছে দুই বছর। যার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। আধুনিক এ মসজিদটিতে রয়েছে
নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা,  প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের টয়লেটসহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, ইসলামিক গবেষণা ও দ্বিনি দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষায় ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা, মরদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের  নিবন্ধনসহ প্রশিক্ষণ, ইমামের প্রশিক্ষণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থা। এক কথায় মসজিদটিতে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী সাংস্কৃতিক চর্চা করা হবে এখান থেকে।