অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে জুন ২০২১ | ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


অবৈধ নৌযানে রমরমা বাণিজ্য


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১শে মে ২০২১ রাত ১০:৪৫

remove_red_eye

১৫২

ভোলা-লক্ষীপুর রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দুর্ঘটনার আশংকা কোস্টগার্ডের অভিযানে ৪ ট্রলার আটক

হাসিব রহমান/ কামরুল ইসলাম : লকডাউন ও মেঘনা নদীর ডেঞ্জার জোনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলা-ল²ীপুর নৌ রুটে প্রতিদিন চলছে অসংখ্য যাত্রীবাহী অবৈধ নৌযান ট্রলার স্পীডবোট । সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে ইলিশা ফেরিঘাটের প্রভাবশালী একটি সিন্ডিগেট কয়েক গুন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকালে ৪টি  ট্রলার আটক করলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এ রুটে অবৈধ নৌযান চলাচল। শুক্রবার সকাল থেকে ইলিশাঘাট থেকে অন্তত ৩০/৪০টি ট্রলারসহ স্পীডবোট যাত্রীপারাপার করেছে বলে স্থানী সূত্র গুলো জানিয়েছে।  এতে করে যে কোন সময় মেঘনা নদীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র আরো জানিয়েছে, ঈদ শেষে গত এক সপ্তাহ ধরে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট কর্মজীবী মানুষ তাদের কর্মস্থালে যাওয়ার জন্য ঢল নামে। ইলিশাঘাট থেকে ভোলা-ল²ীপুর রুটে যাতায়তের জন্য এ রুটে ৪টি ফেরি চলাচল করলেও যাত্রীদের চাপ কমছে না। ইলিশাঘাটে ফেরিআসা মাত্র যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তখন স্বাস্থ্যবিধির কেউ তোয়াক্কা করে না। তা ছাড়াও নাব্যতা সংকটের জন্য ফেরি টাইম টেবিল মতো চলাচল করতে না পারায় জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।  এ সুযোগে ইলিশা ফেরিঘাটের ইজারাদার গ্রæপের একটি সিন্ডিকেট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ ট্রলার ও স্পীডবোটে  ধারন ক্ষমতার কয়েক গুন বেশী যাত্রী নিয়ে একশত টাকার ভাড়া ৩’শ থেকে ৫/৬ টাকা পর্যন্ত আদায় করে যাত্রীদের ভোলা-ল²ীপুর রুটে পারাপার করছে। এসব ট্রলার বা স্পীডবোটে নেই কোন লাইফ জ্যাকেট বা বয়া। নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই।
বিআইডবিøউটিএ সূত্র জানায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর ভোলার মেঘনা নদীর ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভের লাইসেন্স ছাড়া কোনো নৌযানে যাত্রী বহন করা নিষিদ্ধ। লকডাউনের কারনে লঞ্চচলাচল বন্ধ থাকায়  ওই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে  ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অবৈধ নৌ যান চলাচল করছে। অথচ  নৌ থানা পুলিশ ও ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র কাছেই ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট। ওই এলাকা থেকে প্রকাশ্যে রীতিমতো অবৈধ নৌযান চলাচল করলেও মাঝে মাঝে নৌ পুলিশ ও পূর্ব ইলিশা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে টহল দিতে দেখা গেলেও কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ নৌযান চলাচল। এ সুয়োগে  ইলিশা ঘাটে প্রভাবশালী একটি গ্রæপ হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে করে যে কোন মুহুর্তে বর্ড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় ও ম্যানেজ প্রক্রিয়ার কারনে ট্রলার স্পীডবোটে রমরমা যাত্রী পারাপারের ব্যবসা চলছে। কোষ্টগার্ডের পেটি অফিসার মো: শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, চলমান লকডাউনে ট্রলারে যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া মেঘনার ডেঞ্জার জোনে ট্রলার চলাও নিষিদ্ধ। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী পারাপারের দায়ে  শুক্রবার বেলা ১১ টায় ইলিশা ফেরিঘাট এলাকার ভোলা-ল²ীপুর নৌ রুটের মেঘনা নদী থেকে যাত্রী বোঝাই ৪টি ট্রলার  জব্দ করা হয়। তবে এসময় ট্রলার চালককে আটক করা পারেনি। ঈদের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১১টি ট্রলার ও স্পীডবোট তারা আটক করেছে।
এদিকে  ভোলা পূর্ব ইলিশা সদর নৌ থানা পুলিশের  ইনচার্জ মো: সাঈদ হোসেন জানিয়েছেন, ঈদের পর যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছু কিছু যাত্রী তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে  ট্রলারে পারাপার করছে। তাদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।





আরও...