অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে জুন ২০২১ | ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


চরফ্যাসনে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির অভিযোগ


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯শে মে ২০২১ রাত ১১:১৫

remove_red_eye

৬৩

চরফ্যাসন প্রতিনিধি : চরফ্যাসনের ২নং হাসানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকান ভিটা তৈরি করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির কিছু সদস্যকে প্রভাবিত করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মফিজল হক নিজে এই জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। রেকর্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জমি দখল ও বিক্রির প্রক্রিয়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা জাানান, স্থানীয় মফিজল ও তার ভাই আবুল কালাম পাটওয়ারী ১৭৭৫ সনে এসএ ৩২ খতিয়ানের ৮৫৬ দাগের  ৫০ শতাংশ জমি হাসানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন। পরবর্তী মাঠ জরিপে ওই জমি বিদ্যালয়ের নামে দখল দেখানো হয়। কিন্ত জরিপকারীদের ম্যানেজ করে দাতারা এই জমিকে বাগান দেখিয়ে দিয়ারা ও প্রিন্ট খতিয়ানে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী নিজেদের নামের রেকর্ড বহাল রাখেন। এই রেকর্ড জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল ও বিক্রির পথ তৈরী করা হয়।
যার পথধরে দাতা ও  বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মফিজল হক ওই জমি দোকান ভিটা আকারে সাধারন মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় জুলফিকার, মো.ফরিদ, ও লিটনসহ ৪ জনের কাছে ৪টি ভিটা বিক্রি করা হয়েছে। ক্রেতারা ওই জমিতে দোকান ঘর তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছেন । পাশাপাশি মফিজল হকের বোন রিজিয়া বেগমও রেকর্ডসূত্রে ওই জমিকে পৈত্রিক জমি দাবী করে নিজেও একটি দোকান ঘর উত্তোলন করেছেন।  ফলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠসহ শিশুদের লেখাপড়ার  সার্বিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তৈয়বা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের জমি বেদখলে যাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জানাযায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সহকারী কমিশনার(ভূমি)’র কার্যালয়ে গত ২৮ অক্টোবর ওই জমির মালিকানা ইস্যুতে  শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শুনানীকালে মফিজুল হক জমি পরিমাপ করে বিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেয়ার আশ^াস েিদেলও দখল এবং বিক্রির প্রক্রিয়া অব্যহত রাখেন। ফলে ৪৬ বছর দখলে থাকা বিদ্যালয়ের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি মফিজল হক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ভিটা বিক্রির বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ে জমি দাতা আমি এবং আমার অপর ভাই। আমরা ৫০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ে দান করেছি। বিদ্যালয়ের জমিতে ভবন নির্মান কাজ চলমান আছে। আর আমাদের  রাস্তা সংলগ্ন অপর জমিতে আমার দোকান ঘর নির্মান করছি।  
  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তৃষিত কুমার চৌধুরী জানান, এবিষয়ে সম্প্রতি সময়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিপন বিশ্বাসকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন।    

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ের জমি দখল কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রæত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।