অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল ২০২১ | ৮ই বৈশাখ ১৪২৮


বঙ্গবন্ধুর জন্মের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার বীজ রোপন করে ছিলেন:তোফায়েল


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ই মার্চ ২০২১ রাত ১১:৪৬

remove_red_eye

১০০





বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও  ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। যে দিনে বঙ্গবন্ধু জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মের মধ্য দিয়ে আমার কাছে মনে হয় আমাদের স্বাধীনতার বীজ তিনি রোপন করেছিলেন। জীবনের ১৩টি বছর স্বাধীনতার অন্ধকার প্রকষ্টে কাটিয়ে ছিলেন। একাধিকবার তিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন । কিন্তু  তিনি আপোস করেননি। তিনি ছিলেন, একজন আপোসহীন নেতা। বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ নেতা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্ম বাষির্কী উপলক্ষে বুধবার দুপুরে  ভোলা বাংলা স্কুল মাঠে   ভোলা জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে আলোচনা সভায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাচুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতিকে একত্রিত করেছিলেন এবং তিনি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন বিচক্ষণ নেতা পৃথিবীতে তার মত নেতা বিরল। ৭ মার্চের ভাষণ আজকে বিশ্বে ইউনেস্কো কর্তৃক অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।  তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যা বিশ্বাস করতেন তাই করতেন এবং সেই বিশ্বাসের সাথে তিনি কখনো আপোস করেননি। যেই সরকার পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসেছে তারাই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগারে যখন বন্দি, তখন তাকে ফাঁসি দেয়ার জন্য কবরের পাশে দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন কবরকে আমি ভয় পাই না। আমি জানি তোমরা আমাকে ফাঁসি দেবে। কিন্তু আমি এও জানি বাংলার দামাল ছেলেরা হাসিমুখে  মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে। সেই বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। শুধু বলেছিলেন আমাকে ফাঁসি দেয়ার পরে এই কবরে নয়, আমার লাশটা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও।
বঙ্গবন্ধুর ১০১ তম জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাকে পাশে রেখেছিলেন । তাই আমি চিরঋণী। এই ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারব না। তিনি আরো বলেন, আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন এবং নিজেও মর্যাদাশালী হয়েছেন। যারা একদিন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বলতো বাংলাদেশ তলাবিহীন হবে ঝুড়ি, আজকের তারাই বলছেন বিস্ময়কর উত্থান বাংলাদেশের।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গন্ধুর জেষ্ঠ কন্যা আওয়ামীলীগের পতাকা হাতে নিয়ে নিষ্ঠার সাথে দক্ষতার সাথে দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে নিয়ে গেছেন। সেই দিন বেশী দূরে নয় যে দিন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সুজলা সফলা শষ্য শ্যামলা ক্ষুদামুক্ত দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
ভোলা জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট জুলফিকুর আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  আবদুল মমিন টুলু,সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: মোশারেফ হোসেন,ভোলা পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জান, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব,এনামুল হক আরজু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস, মইনুল হোসেন বিপ্লব,পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আলী নেওয়াজ পলাশসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুর আগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দলীয় নেতাকর্মীরা পুস্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া সভা শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহনে শহরে বর্নাঢ্য এক র‌্যালী প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।  
অপর দিকে নানান কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বুধবার দিন ব্যাপী ভোলা জেলায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০১ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,জেলা আওয়ামীলীগ,সদর উপজেলা চেয়ারম্যান,পৌর মেয়র, ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের পক্ষ থেকে  পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে দোয়া মুনাজাত করা হয়।