অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৭ই এপ্রিল ২০২১ | ৪ঠা বৈশাখ ১৪২৮


ভোলা পৌরসভা নির্বাচনে মগ ভোট অনুষ্ঠিত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ রাত ১১:৫৯

remove_red_eye

১১১


অচিন্ত্য মজুমদার :  ভোটের দুই দিন আগেই ভোটকেন্দ্রে ভোটার! ভোট দিতে এসেছেন। একটি মেশিনে হাতের বুড়ো আঙুলের ছাপ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মেশিনটির স্ক্রিন এবং কক্ষের মনিটরে ভেসে উঠল ভোটারের ছবি, ভোটার নম্বর ইত্যাদি। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং কক্ষে উপস্থিত সবাই দেখলেন ভোটারের বিস্তারিত। এরপর ভোটার চলে গেলেন ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে। সেখানে রয়েছে ব্যালট ইউনিট । এক ভাগে মেয়র প্রার্থী, অন্য দুই ভাগে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত প্রার্থীদের নাম-প্রতীকের তালিকা। চুড়ান্ত ভোটের আগেই সেখানে গিয়ে ভোট প্রদান করলেন ভোটার।
২৮ ফেব্রæয়ারি ভোলা পৌরসভায় প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি কেন্দ্রে মক ভোট (নমুনা ভোট) অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে এই পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। ভোট গ্রহণ উপলক্ষে শুক্রবার (২৬ ফেব্রæয়ারি) পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে মক (নমুনা) ভোটের আয়োজন করেন নির্বাচন কমিশন।
দুপুরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমী কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মক ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা না গেলেও অল্প কিছু সংখ্যক ভোটার ভোটের আগেই ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া শিখতে এসেছিলেন।   প্রথমবারের মতো ইভিএম এ ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতার বিষয়ে গোপাল সাহা ও রাজন সাহা বলেন, ইভিএমে ভোট দেওয়া কারও জন্যই কঠিন হবে না। খুব সহজেই আমি ইভিএম প্রক্রিয়ায় ভোট দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, প্রথমে বাটন চেপে সুইজ অন করতে হবে, এরপর বৃদ্ধ আঙুলের ছাপ দিতে হবে। তারপর গোপন বুথে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দেওয়া যাবে। এটা সহজ বিষয়। তবে কোনও প্রতীকের ব্যবহার করা হয়নি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার যে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আগের তুলনায় আধুনিক। এতে কন্ট্রোল ইউনিট ও ব্যালট ইউনিট নামের দুটি অংশ থাকে। কন্ট্রোল ইউনিট থাকবে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনে। ব্যালট ইউনিট থাকবে ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে। কন্ট্রোল ইউনিটের কাজ ভোটার শনাক্ত করা। আঙুলের ছাপ, স্মার্ট কার্ড, আইডি নম্বর ও ভোটার নম্বরের মাধ্যমে ভোটার শনাক্ত করা সম্ভব। ভোটকেন্দ্র আসার পর ভোটার শনাক্ত হওয়ার পর তার আঙুলের ছাপ কন্ট্রোল ইউনিটে দেবেন। এরপর ভোটারের ছবিসহ অন্য তথ্য কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভোট কক্ষে রাখা মনিটরে দেখা যাবে। সব ঠিক থাকলে ওই ভোটার ভোট দিতে পারবেন। স্মার্টকার্ড দিয়েও তথ্য বের করা যাবে।
ভোলা পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আল মামুন বলেন, সাত দিন ধরে ভোলা পৌর এলাকার বিভিন্ন জনসমাগম জায়গায় ইভিএম ভোট প্রদানের প্রচারণা করা হয়। নির্বাচনের দুই দিন আগে ভোটকেন্দ্রে ভোটারা মক ভোট প্রদান করেন। আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও সহজ প্রক্রিয়ায় আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি ভোটাররা ভোট প্রদান করতে পারবেন।  
সালে গঠিত প্রথম শ্রেণির ভোলা পৌরসভার মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৯০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ৬৫৯ এবং মহিলা ভোটার ১৮ হাজার ২৪৫ জন।
এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান ও বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনেসহর প্রার্থী মাওলানা আতাউর রহমানসহ তিনজন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ এবং নারী কাউন্সিলর পদে আরও ৮ জনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।