অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৭ই অক্টোবর ২০২৬ | ২২শে আশ্বিন ১৪৩৩


ভেদুরিয়ায় দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে মারধর, অচেতন অবস্থায় উদ্ধার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই অক্টোবর ২০২৬ সকাল ০৯:৪৮

remove_red_eye

৩৯

মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল : ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর চটকিমারা এলাকায় মো. জামাল তালুকদার (৩৬)নামে এক ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে মারধর করে অচেতন করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মনির হোসেন (৩২) এর নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে।

রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মনির হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
জানা গেছে, ঘটনার সময় জামাল উদ্দিন তার দোকানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মনির হোসেন কিছুদিনের জন্য এলাকা ছেড়ে চলে যান। ওই সময়ে মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। পরে মনির এলাকায় ফিরে এলে ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
জামালের অভিযোগ, পূর্বের ওই ঘটনার জের ধরে মনির হোসেন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে মনির হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন তার দোকানে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন জামাল।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, রাতে দোকানের দিক থেকে চিৎকার ও মারধরের শব্দ শুনে কয়েকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তারা সেখানে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন ব্যক্তিকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়। পরে জামাল উদ্দিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জসিম বলেন, রাতের বেলায় একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে মারধরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বেশ কয়েক বার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।