অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২৬শে আগস্ট ২০২৬ | ১১ই ভাদ্র ১৪৩৩


ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬শে আগস্ট ২০২৬ দুপুর ০২:৪০

remove_red_eye

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : দ্বীপজেলা ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কার্যকর ও সহজ সড়ক যোগাযোগের জন্য ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে জেলার উন্নয়ন ও স্বার্থ নিয়ে কাজ করা নাগরিক কমিটি ‘আমরা ভোলাবাসী’। দ্বীপজেলা ভোলাকে শুধু সড়ক পথে যুক্ত নয়, কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখি যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে এ সেতু  নির্মানের দাবি তাদের। 
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি। 
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করতে ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহিন্দীগঞ্জ- ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। 

বর্তমানে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলার সঙ্গে যে সড়ক যোগাযোগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা ভোলাবাসীর সময়, দূরত্ব ও ভোগান্তি কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে নতুন ২১ কিলোমিটার হাইওয়ে নির্মাণ, ৩৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্র্নিমাণ/প্রশস্তকরণ এবং মেঘনার মোহনায় তিনটি বড় সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয়, সময় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতুর তুলনায় কতটা যৌক্তিক-তা অবশ্যই কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আমরা হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের উন্নয়নের বিরোধিতা করি না। তবে ২২ লাখ মানুষের ভোগান্তি, সময় ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় ভোলার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে দ্রুত, সরাসরি, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগ কোন পথে নিশ্চিত হবে-তা তথ্য ও প্রকৌশলগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা জরুরি। ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণ করা হলে ভোলা সরাসরি বিভাগীয় শহর বরিশালের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে কম সময়ে বরিশাল এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিকাশেও এই সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই আমাদের দাবি, ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু, লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুট এবং রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের দূরত্ব, সময়, নির্মাণ ব্যয়, সেতুর সংখ্যা, পরিবহন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক। 
ভোলা বাসীর দীর্ঘ দিনের এ দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃৃষ্টি আকর্ষণ করে সহজ যোগাযোগের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত রুটের পরিবর্তে ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলণে ‘ ভোলা বাসীর দাবি একটাইÑ ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’ এমন জোড়ালো দাবি জানান।
আমাদের দাবি কোনো ব্যক্তি, দল বা এলাকার বিরুদ্ধে নয়। আমাদের দাবি ভোলার মানুষের স্বার্থে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বার্থে এবং একটি সরাসরি, কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার পক্ষে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ‘আমরা ভোলাবাসী’র সদস্য মেহেদী হাসান, শরীফ হাওলাদার, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত শাকিল, ভোলা শহর ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক আরিফ আহমেদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন, ভোলা পৌর ছাত্রসমাজের সদস্য মাহাদী হাসান এবং সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক নাসরিন জাহানসহ ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।