অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২৬শে আগস্ট ২০২৬ | ১১ই ভাদ্র ১৪৩৩


লালমোহনে ৮ পরিবারের যাতায়াতের পথে ও হেলিপ্যাডে বৃক্ষরোপণ


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬শে আগস্ট ২০২৬ দুপুর ০২:৩৬

remove_red_eye

লালমোহন প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহনে হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ ও মূল হেলিপ্যাডের ওপর গাছের চারা রোপণ করে বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার আটটি পরিবার। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাতায়াতের একমাত্র পথটি এভাবে আটকে দেওয়ায় তারা এখন প্রায় গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদা জানায়, বিগত সরকারের আমলে লালমোহন হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশের পুকুরটি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। পুকুর ভরাটের আগে ও পরে ওই পাড় দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করতেন স্থানীয় আটটি পরিবারের সদস্যরা। নতুন করে আরও দুটি পরিবার সেখানে ঘর তুলে বসবাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি সেই পথটিতে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয়রা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন জানান এবং পথটি খোলা রাখার অনুরোধ করেন।
ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের আবেদনের পর পৌর প্রশাসক নিজে পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে চলাচলের পথ বন্ধ করে গাছ লাগানো হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি পৌরসভার লোকজন নিয়ে এসে রাস্তার ওপর গাছ লাগিয়ে চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরে দেন। বিচারক বা রক্ষক হয়ে নিজেই যদি পথ বন্ধ করে দেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, পথটি পৌরসভার হলেও সেটি ছিল তাদের বের হওয়ার একমাত্র উপায়। পৌরসভা থেকে পরবর্তীতে হয়রানির ভয়ে তারা প্রকাশ্যে নাম বলতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ একই হেলিপ্যাডের পশ্চিম পাশের পথটি খালি রেখে কেবল পূর্ব পাশেই এই বেড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিতর্কে হেলিপ্যাডের ওপর বৃক্ষরোপণ শুধু যাতায়াতের পথই নয়, মূল হেলিপ্যাডের ওপরেও গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। যেখানে সরাসরি হেলিকপ্টার ওঠানামা করার কথা, সেখানে কীভাবে চারা রোপণ করা হলো—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, “কাউকে চলাচলের পথ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। কারণ পূর্ব পাশে পৌরসভার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোনো রাস্তা ছিল না; কিছু অবৈধ দখলদার এটিকে পথ হিসেবে ব্যবহার করত।”
তবে চারা রোপণের পর ওই আট পরিবারের সদস্যরা এখন কীভাবে যাতায়াত করবেন—এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট সমাধান দেননি।
হেলিপ্যাডের ওপর গাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বন বিভাগ ও উদ্যান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই চারা রোপণ করা হয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছেন যে এই গাছের কারণে হেলিকপ্টার ওঠানামায় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না।”