অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৫শে জুলাই ২০২৬ | ১০ই শ্রাবণ ১৪৩৩


সংগ্রামের ৩৬ দিন : অনেকের কাছেই জুলাইয়ের সেই স্মৃতি এখনো জীবন্ত


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫শে জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৩

remove_red_eye

দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু রাজধানীর মিরপুর, শাহবাগ কিংবা মোহাম্মদপুরের রাজপথে যারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দিনগুলো চোখের সামনে দেখেছেন, তাদের অনেকের কাছেই জুলাইয়ের সেই স্মৃতি এখনো জীবন্ত। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, আহত মানুষের আর্তনাদ—সবকিছু যেন এখনো ভাসে তাদের চোখে।

৩৬ দিনের সেই আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে উত্তাল সময়ের নানান দৃশ্য।২০২৪ সালের জুলাই মাস। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আন্দোলন। মূলত আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা। উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর আগের কোটাব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হলে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তবে দিন যত গড়াতে থাকে, আন্দোলনের পরিধিও তত বাড়তে থাকে।

এমন সময় পুলিশ আর আওয়ামী লীগের লোকজন ধাওয়া দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ছিল। সেদিন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছিলাম। তারা বেঁচে ছিলেন কি না, বলতে পারি না।

পরবর্তীসময়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

jagonews24

দফায় দফায় পরিবর্তন হতে থাকে শিক্ষার্থীদের দাবি। শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে নামেন সাধারণ মানুষ। একপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয় আন্দোলন। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট পতন ঘটে তৎকালীন সরকারের।

সরকার যেদিন চলে গেল, তার আগের দিন সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে জড়ো হতে শুরু করেন। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে এই এলাকার বহু মাদরাসাশিক্ষার্থী রাস্তায় নামতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাদরাসাশিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। বিকেল ৩টার পর আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সরকার যেদিন চলে গেল, তার আগের দিন সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে জড়ো হতে শুরু করেন। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে এই এলাকার বহু মাদরাসাশিক্ষার্থী রাস্তায় নামতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাদরাসাশিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। বিকেল ৩টার পর আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

জুলাই আন্দোলন শুধু একটি আন্দোলনই ছিল না; এটি ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি গণজাগরণ। ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অনেক মানুষ এতে সম্পৃক্ত হন। আন্দোলনের দুই বছর পরও সেই দিনগুলোর স্মৃতি ভোলেননি সাধারণ মানুষ। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন তারা।

মিরপুর-১০: ‘দোকান বন্ধ করে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিলাম’

আন্দোলন যখন তীব্র রূপ ধারণ করে, ঠিক সেই সময়ের কোনো একদিন রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ওভারব্রিজের নিচে চশমা বিক্রি করছিলেন মাইনুদ্দিন।

সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো ওই দিনও সকাল ৯টার আগেই এসে দোকান দিয়েছি। সকালের দিকে রাস্তায় তেমন মানুষজন ছিল না। এরপর সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা এই এলাকায় (মিরপুর-১০) রাস্তায় নামেন। বেলা ১১টার পর থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন সারাদিনই এই এলাকায় ঝামেলা হয়। পরে সেনাবাহিনী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

শিক্ষার্থীরা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে এসে অবস্থান নিয়েছিল। এমন সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়লে আন্দোলনকারীরা সরে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। এরপর পুলিশ এসে ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘ঝামেলা শুরু হলে ওই দিন আমাদের মতো ফুটপাতের অনেক দোকানদার দোকান বন্ধ করে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিলেন। অনেকেই আহতও হয়েছিলেন।’

মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরসংলগ্ন এক স্থায়ী দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওই দিন সম্ভবত ১৮ তারিখ ছিল। শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি দিয়েছিল। আমার দোকানও বন্ধ ছিল। তবে আমি এসেছিলাম দোকানের পরিস্থিতি দেখতে। এসে দেখি, একদিকে আন্দোলনকারীরা, অন্যদিকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন। পরিবেশ বেশ গরম ছিল। কিছুক্ষণ পরপর তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হচ্ছিল।’

jagonews24

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে এসে অবস্থান নিয়েছিল। এমন সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়লে আন্দোলনকারীরা সরে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। এরপর পুলিশ এসে ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেয়।

তিনি আরও বলেন, এর কিছু সময় পর আন্দোলনকারীরা আবার বিভিন্ন গলি থেকে বেরিয়ে এসে আশপাশে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটে। পরে সম্ভবত ওই দিনই আন্দোলনকারীরা পুলিশ বক্সে আগুনও দিয়েছিল।

শাহবাগ: ‘রক্তাক্ত মানুষকে ঢাকা মেডিকেলে নিতে দেখেছি’

আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু শাহবাগ এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী শাহজাহান। দুই বছর পরও সেই দিনগুলোর স্মৃতি স্পষ্ট তার কাছে।

আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘সেদিন সম্ভবত ব্লকেড (অবরোধ) কর্মসূচি ছিল। বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শাহবাগে অনেক পুলিশ সদস্য ছিল। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগের দিকে আসে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের আসতে দেখে ব্যারিকেড দিলে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এমন সময় পুলিশ আর আওয়ামী লীগের লোকজন ধাওয়া দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ছিল। সেদিন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছিলাম। তারা বেঁচে ছিলেন কি না, বলতে পারি না। তবে কারও কারও মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল। আমি তখন বারডেম হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিলাম। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যাই।’

মোহাম্মদপুর: ‘গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছিল’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় রায়েরবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা আলমগীরের সঙ্গে। সরকার পতনের আগের দিনের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যেদিন চলে গেল, তার আগের দিন সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে জড়ো হতে শুরু করেন। আনুমানিক সাড়ে ১১টার পর থেকে এই এলাকার বহু মাদরাসাশিক্ষার্থী রাস্তায় নামতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাদরাসাশিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। বিকেল ৩টার পর আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’

তিনি বলেন, পুলিশও আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ছিল। আর আন্দোলনকারীরা রাস্তা থেকে ইট নিয়ে ছুড়ছিল। গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছিল সেদিন। অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিল। সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন শুনেছিলাম একজন মারা গিয়েছিলেন। পরে আর বাকিদের কোনো খবর পাইনি।

যেভাবে পাল্টে যায় আন্দোলনের গতিপথ

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে সরকারের জারি করা পরিপত্র ২০২৪ সালের জুনের শেষে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। পরে জুলাইয়ের শুরুতে মাঠে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রথমে তারা কোটা-সংক্রান্ত পরিপত্র পুনর্বহাল না করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ১৬ জুলাই সংঘর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এসব সংঘর্ষে চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ ও ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মো. ফারুক, ঢাকায় হকার মো. শাহজাহান ও সবুজ আলী এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদ হন।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৭ জুলাই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান ক্ষমতাচ্যুত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‌‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেদিন ঢাকার উত্তরা ও বাড্ডায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজনের প্রাণহানির পর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে থাকে।

সেদিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

১৯ জুলাই দিবাগত রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং কারফিউ জারি করে সরকার। প্রথম দিকে দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা কারফিউ শিথিল করা হলেও পরে ধীরে ধীরে শিথিলের সময় বাড়ানো হয়।

পরে ১৭ থেকে ২১ জুলাই—এই পাঁচ দিনে সারা দেশে সহিংসতায় ১৫০ জনের মৃত্যুর তথ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আহত হন আরও কয়েকশ মানুষ।

সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর পুলিশ গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে গ্রেফতার অভিযান বন্ধ, হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। দফায় দফায় নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

পরে তৎকালীন সরকারপ্রধান ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। সারা দেশে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এরপর আন্দোলনকারীদের দমাতে দেশজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বাড়তে থাকে আহত ও নিহতের সংখ্যা।

একপর্যায়ে রাজধানীজুড়ে সেনা মোতায়েন এবং ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের দমাতে না পেরে ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।