অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ২রা জুলাই ২০২৬ | ১৭ই আষাঢ় ১৪৩৩


সংবিধান সংস্কারে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাবো : ডা. শফিকুর রহমান


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১লা জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৫৩

remove_red_eye

৫৬

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্কার সনদ (চার্টার) তৈরি হয়েছিল তার ভিত্তিতে জনগণ গণভোট বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। সংবিধান সংস্কারে সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাবো এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩১টি দৃশ্যমান রাজনৈতিক সংগঠন একটি সংস্কার সনদে একমত হয়। তার দাবি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া বাকি সব দল শেষ পর্যন্ত ওই সনদে স্বাক্ষর করেছে।
তিনি বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অর্থবহ করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিল। গণভোটে যে রায় আসবে, তা সবাই মেনে নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, বিরোধীদলের সব সদস্য দুই ধরনের শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। সরকারের যুক্তি ছিল, বিষয়টি সংবিধানে নেই।তিনি বলেন, সংবিধানে অনেক বিষয়ই আগে ছিল না। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনও সংবিধানে ছিল না। অতীতে অনুষ্ঠিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু জাতীয় প্রয়োজনেই সেগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, গণভোটে প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায় উপেক্ষা করে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করলেও তা কার্যকরভাবে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে নোটিশের মাধ্যমে আলোচনা হলেও কোনো রুলিং বা সিদ্ধান্ত আসেনি। তখন বিরোধীদল সিদ্ধান্ত নেয়, সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাবে এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।তিনি বলেন, আমরা জনগণকে দেওয়া ওয়াদা থেকে সরে যাব না। সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের পার্লামেন্টে যাবো। জনগণের দাবি নিয়েই আমাদের আন্দোলন চলবে।
সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠনের উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য রায় দিয়েছে। সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
তার ভাষ্য, সংবিধান সংশোধনের বিষয় আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় পড়ে, কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে হওয়া সংস্কারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা এবং হাইকোর্ট বেঞ্চ বিকেন্দ্রীকরণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে আদালতের রায়ে বিভিন্ন সাংবিধানিক সংশোধনী বাতিল হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই না কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য আইন হোক। আমরা চাই জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হোক। যেসব সংস্কার দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে সেগুলোই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দেশ বারবার পথ হারাবে।তিনি আরও বলেন, এ দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং সময়ের সঙ্গে জনগণের অন্যান্য দাবিও কর্মসূচিতে যুক্ত হবে।