বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০শে জুন ২০২৬ সকাল ০৮:৩২
১০৫
৬০০ একর কৃষিজমি বসতভিটা বাজার মাছঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন ঝুঁকিতে দুই লাখ মানুষ
নেয়ামউল্যাহ : মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ভোলার সদর উপজেলার ধনিয়া ও শিবপুর এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৫ সালের বর্ষা মৌসুম থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০০ একর কৃষিজমি, বসতভিটা, বাজার, মাছঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে ওই চার ইউনিয়নের হুমকির মুখে থাকা মানুষ আন্দোলন করে আসছে।
কয়েক বছর আগে একটি চীনা কোম্পানি ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ একর কৃষিজমি কিনে বালু দিয়ে ভরাট করে। সেখানে তারা কলকারখানা গড়ে তুলবে এমনটাই জেনে আসছে। বিস্তীর্ণ বালুময় এলাকা ও খেজুরগাছের কারণে স্থানীয়রা এর নাম দেন “গরিবের ডুবাই”। গত ৪-৫ বছরে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় পরিণত হলেও গত মঙ্গলবার বিকালে দেখা যায়, গত এক বছরে মেঘনার ভাঙনে এর প্রায় ৯০ শতাংশ বিলীন হয়ে গেছে। কোনো খেজুর গাছ নেই।
শুধু গরিবের ডুবাই নয়, ভাঙনের শিকার হচ্ছে সদর উপজেলার ধনিয়া ও শিবপুর এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বালুভর্তি বস্তা ফেললেও ভাঙন কমেনি। প্রায় ৪ কিলোমিটার নদীতীর ব্লক দিয়ে সংরক্ষণের একটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় চারটি ইউনিয়নের আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, বাজার, মাছঘাট, সম্ভাব্য গ্যাসফিল্ড ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। তারা দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।
শিবপুর নতুন-কালীকীর্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরউদ্দিন জানান, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫-২৬ সালে এসে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনের কম। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়টি বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ভাঙনের মুখে অবস্থান করছে।
তিনি বলেন, ‘দ্রুত মেঘনার তীরে পাকাব্লক বা বালু-সিমেন্ট ভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা না ফেলা হলে আগামী বর্ষায় বিদ্যালয়টি টিকবে না। এবার শীতেও শিবপুর ও কালীকীর্তি গ্রামের অনেক অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে।’
নতুন-কালীকীর্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো আরও ৪-৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঁধের বাইরে ভাঙনের মুখে। মেদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মো. মোসলেহউদ্দিন বলেন, গত এক বছর ধরে ভাঙনের তীব্রতায় গরিবের ডুবাই থেকে দক্ষিণে চরপাতা পর্যন্ত ৫০০ থেকে ৬০০ একর কৃষিজমি মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে।
৪-৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক মসজিদ, মাঝিরহাট মাছঘাট, মুন্সিরহাট মাছঘাট, পূর্ব চরপাতা হুমকির মুখে আছে।
মাঝিরহাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বলেন, এই মেদুয়া ইউনিয়নে ছিল সাবেক পিটিআই ও মহাকুমা শহর। ভাঙনের কারণে শহর ও পিটিআই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮০-৯০ সালে ভাঙন বন্ধ হয়ে চর পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় মেদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ৩, ৪ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৫-৬ হাজার পরিবার ভাঙনের হুমকিতে আছে।
পাঁচ বছরে শিবপুর ইউনিয়নের ৬৫০ একর জমি বিলীন হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্র, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম এবং গ্রাম পুলিশ আবুল বাশারের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের তিনটি মৌজা নিয়ে গঠিত শিবপুর ইউনিয়নের কালীকীর্তি, শিবপুর ও রতনপুর মৌজায় মোট জমির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩২৯ হেক্টর বা ৩ হাজার ২৮৩ একর। গত পাঁচ বছরে শিবপুর ও কালীকীর্তি এলাকার প্রায় ৬৫০ একর জমি মেঘনায় বিলীন হয়েছে। দেখা যায়, ভাঙনের মুখে মাছঘাট, সেতু, রাস্তা ও বসতঘর।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের গরিবের ডুবাই এলাকা থেকে সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নাছির মাঝি পর্যন্ত পুরো তীরবর্তী এলাকা ভাঙনপ্রবণ হয়ে উঠেছে। গত বছরের বর্ষা থেকে বর্তমান পর্যন্ত ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনের মুখে গাছ পুঁতে ফাইলিং করে বালি ভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা ফেলতে দেখা যায়। গত বছর থেকে একই প্রক্রিয়ায় ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেও কাজ হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
দেখা যায়, ভোলা খালের মাথা মাছঘাট এলাকায় একটি সেতু, পাকা ঘাটলা, মাটির বাঁধ, সড়ক, বসতঘর, মাছের আড়ত, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে রয়েছে। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা ভেঙে নদী ভেতরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আর মাত্র ৬০ মিটার ভাঙলেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বারবার ভাঙনের শিকার হয়েছেন মাছঘাট এলাকার জেলে মো. আবুল কালাম (৫৫)। তিনি জানান, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগে আমাদের বাড়ি এখান থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ছিল। ওমর আলী হাওলাদার বাড়িতে পাঁচটি পরিবার থাকত। ভাঙনের কারণে সবাই বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে গেছে। আমিও বারবার ভাঙনের শিকার হয়ে আবারও ভাঙনের মুখে পড়েছি।’
এলাকাবাসী জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে পড়ে এবং উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত হয়ে ধনিয়া, শিবপুর, মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের ৪ শতাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। শুধু ধনিয়া ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ধনিয়া ইউনিয়নের নাছির মাঝি থেকে শিবপুর হয়ে মেদুয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা ভাঙনকবলিত। দ্রুত জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ও স্থায়ী ব্লক ফেলে নদীতীর রক্ষা করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেলে সদর উপজেলার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হবে।
শিবপুরের বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, ‘দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের ভোলা শহরও হুমকির মুখে পড়বে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি শিবপুর ইউনিয়নের পূর্ব পাশের মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। এরপর থেকেই নদীর স্রোত সরাসরি তীরে আঘাত হানছে এবং ভাঙন বেড়ে গেছে।
এ দাবিতে স্থানীয়রা কয়েকবার মানববন্ধন করেছেন। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীতীর সংরক্ষণের দাবি জানান। গত মঙ্গলবার সড়ক অবরোধ করে এবং পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করলে উত্তেজনা ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, ধনিয়া, শিবপুর, মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তীর সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা ফেলা হচ্ছে। চলতি বছরে প্রায় এক লাখ বস্তা ফেলা হয়েছে। কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান নয়।
তিনি আরও জানান, ৪ কিলোমিটার মেঘনা তীর সংরক্ষণ, ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং ঢাল সংরক্ষণের জন্য ৬২৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে একনেকে পাঠানো হয়েছে। পাশ হলে বা বরাদ্দ পেলে স্থায়ী সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মূল বাঁধের বাইরে কোনো বাঁধের উন্নয়ন করি না। শিবপুর-কালীকীর্তির রিংবাঁধ সংস্কার করা সম্ভব নয়। তবে ভাঙন প্রতিরোধে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে তীর সংরক্ষণের কাজ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। যাকে পাচ্ছি তাকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প পাশ করে ভোলার চার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা মেঘনার গর্ভে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচানো হোক।
আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল
যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী
ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ
সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা
খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল
বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী
একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা : সোহেল তাজ
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক