তিন ম্যাচের সবকটি জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হলো আর্জেন্টিনা। অভিষেক বিশ্বকাপে পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি জর্ডান। তবে তিন ম্যাচেই গোল করে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার ছাপ রেখেছে তারা।
শুরু থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। গাঢ় নেভি জার্সিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শুরুটা ছিল মাপা, কিন্তু দাপট ছিল বেশ। জর্ডানও নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি; প্রেসিংয়ে আগ্রাসন দেখিয়ে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে আর্জেন্টিনাকে।
অষ্টম মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন লো সেলসো। হুলিয়ান আলভারেসের পাস ধরে জর্ডান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। তবে অফসাইডের পতাকা উঠায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
১৩তম মিনিটে প্রথম কর্নার থেকে সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। জুলিয়ানো সিমিওনের আক্রমণ থেকে পাওয়া কর্নারে কাছ থেকে হেড নেন নিকোলাস ওতামেন্দি, কিন্তু লক্ষ্য খুঁজে পাননি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।
১৯তম মিনিটে ভাঙে জর্ডানের প্রতিরোধ। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। মূহন্নাদ আবু তাহার ট্যাকলে হলুদ কার্ড দেখানো নিয়ে সংশয় ছিল, রিপ্লেতে বলেই পা ছোঁয়ার ইঙ্গিতও মেলে। তবে সিদ্ধান্ত যায় আর্জেন্টিনার পক্ষেই। সেই ফ্রি-কিক থেকে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে টপ কর্নারে দারুণ শটে বল জালে পাঠান লো সেলসো।
প্রথমার্ধের মাঝপথে হাইড্রেশন ব্রেকের পরও চাপ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাস ধরে বক্সে শট নিয়ে ক্রসবারে মারেন লাউতারো। ফিরতি বলে মার্কোস সেনেসির প্রচেষ্টাও লাগে বারে। ওই আক্রমণেই সেনেসির মাথায় পা লাগে নিজার আল-রাশদানের। ভিএআরে মনিটর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি।
৩১তম মিনিটে স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো। গোলরক্ষককে ভুল দিকে পাঠিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও জর্ডান পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। আলি ওলওয়ান সামনে থেকে চেষ্টা করছিলেন, তবে যথেষ্ট হয়নি। আর্জেন্টিনা বল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণ করে প্রথমার্ধ শেষ করে।
বিরতির পর দুই পরিবর্তন আনে জর্ডান। আলি আল আজাইজেহ ও ওদেহ ফাখোরির বদলে নামেন মুসা আল তামারি ও মাহমুদ আল মারদি। পরিবর্তনের প্রভাব দ্রুতই পড়ে মাঠে।
৪৯তম মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান লো সেলসো, কিন্তু সেটিও বাতিল হয় অফসাইডে। লাউতারো গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল বাড়িয়েছিলেন লো সেলসোর দিকে; তবে আক্রমণের শুরুতেই অফসাইডে ছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
৫৪তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর খুব কাছে যান লাউতারো। লো সেলসোর এগিয়ে দেওয়া আক্রমণ থেকে তার দূরপাল্লার জোরাল শট ক্রসবার ছুঁয়ে বাইরে যায়।
দুই মিনিট পর ম্যাচে ফেরে জর্ডান। নিজেদের মধ্যে দারুণ পাসিংয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ খুলে ফেলে তারা। ডান দিক থেকে এহসান হাদ্দাদের পাস বক্সে পেয়ে ফাঁক গলে ঢুকে পড়েন আল তামারি। এরপর টপ কর্নারে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান কমান জর্ডানের এই ফরোয়ার্ড।
গোলের পর কিছুটা সময় আর্জেন্টিনার খেলায় গতি কমে আসে। ৬১তম মিনিটে লো সেলসো ও লাউতারোকে তুলে নেন স্কালোনি। তাদের বদলে নামেন থিয়াগো আলমাদা ও মেসি। একই সময়ে নিকো পাসের জায়গায় মাঠে নামেন আলেক্সিস মাক আলিস্তার।
মেসি নামার পরও তাড়াহুড়ো করেনি আর্জেন্টিনা। বল নিজেদের পায়ে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে তারা। ৬৬তম মিনিটে মাক আলিস্তারকে ফাউল করায় ভালো জায়গায় ফ্রি-কিক পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসির শট এবার ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
তবে ৮০তম মিনিটে আর ব্যর্থ হননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। নিজেই ফ্রি-কিক আদায় করেন, এরপর নিচু শটে গোলরক্ষককে ভুল পায়ে ফেলে বল পাঠান জালে। ক্যারিয়ারে এর চেয়ে অনেক দৃষ্টিনন্দন গোল করেছেন মেসি, তবে এই গোল তাকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। বিশ্বকাপের টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হলেন মেসি। ৩৯ ছুঁই ছুঁই বয়সেও বিশ্বমঞ্চে তার গোলের ক্ষুধা যে কমেনি, এই গোল যেন সেই কথাই আরেকবার মনে করিয়ে দিল।
এরপর শেষ পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। হুলিয়ান আলভারেসের বদলে নামেন হোসে মানুয়েল লোপেস। তার আগে জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় মাঠে এসেছিলেন ভালেন্তিন বারকো।
শেষ দিকেও মেসির কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে হুমকি ছিল। তবে গোল আর বাড়েনি। ৯০ মিনিটের পর জর্ডানও একটি কর্নার পায়, কিন্তু মাহমুদ আল মারদির ডেলিভারি সহজেই ক্লিয়ার করে দেয় আর্জেন্টিনা রক্ষণ।
যোগ করা সময়ের আগে চোটে পড়েন জর্ডানের হাসান আবুদাহাব। তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। একই সময়ে আলি ওলওয়ানকেও তুলে নেয় জর্ডান; বদলি হিসেবে নামেন সালিম ওবাইদ ও মোহাম্মদ আবু জরায়েক। তবে আর গোল করতে পারেনি কেউই।