অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই জুলাই ২০২৬ | ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩


খাল ছিল কিন্তু ঘাটলা দখল : আগুন কি ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবে চোখের সামনে পুড়ে ছাই দুটি গোডাউন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২শে জুন ২০২৬ রাত ১০:৪৬

remove_red_eye

৮৯

নেয়ামতউল্যাহ : ভোলা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া একসময়ের প্রমত্ত ভোলা খাল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মুহূর্তে কোনো উপকারেই এলো না। খালের পাড়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছেছিল, পানি ছিল হাতের কাছেই—তবু আগুন নেভাতে সেই পানি তোলা যায়নি। কারণ, যেখান থেকে জরুরি সময়ে পানি তোলার কথা, সেই ঘাটলাগুলোই দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট। ফলে দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ মিনিট পানির জন্য হাহাকার করতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। আর সেই মূল্য দিতে হয়েছে চকবাজারের ব্যবসায়ীকে- চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ‘শাড়ি বিতান’-এর দুটি গোডাউন।
রোববার বিকেলে ভোলা শহরের ব্যস্ত চকবাজার এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনার পর শহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে খালের ঘাটলা ও তীর অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার পরও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে একটি অগ্নিকাণ্ড শুধু ব্যবসায়ীর সর্বনাশই ডেকে আনেনি, বরং নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতাও সামনে এনে দিয়েছে।
ধোঁয়া থেকে দাউদাউ আগুন, তারপর অসহায় অপেক্ষা :
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে চকবাজারের শাড়ি বিতান ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা গোডাউন থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, দোকানকর্মী ও আশপাশের লোকজন প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভোলা জেলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছেই দমকলকর্মীরা পড়েন বড় ধরনের সমস্যায়। ভবনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল থেকে দ্রুত পানি তোলার কথা থাকলেও সেখানে মেশিন বসানোর জায়গা কার্যত বন্ধ। পুরোনো ঘাটলা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করায় প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট কোনোভাবেই পানি তোলা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থা করে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
‘পানি পেলে আগুন এত দূর যেত না’ :
শাড়ি বিতানের মালিক মো. সোহেল বলেন, আগুনে তার ছোট ও বড়—দুটি গোডাউনেই থাকা বিপুল পরিমাণ শাড়ি, কাপড় ও অন্যান্য মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তার ভাষ্য, এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তবে ভোলা জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহম্মদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তাঁর মতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ফায়ার সার্ভিস যদি শুরুতেই খাল থেকে দ্রুত পানি তুলতে পারত, তাহলে আগুন আরও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক কমে আসত।
‘আগুন কি ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবে?’
চকবাজার বস্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলাম মিলন ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, একসময় ভোলা পৌরসভার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর খালের দুই পাশে দুটি ঘাটলা তৈরি করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, বাজারে মালামাল ওঠানামা এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস যেন দ্রুত পানি তুলতে পারে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ঘাটলাগুলো বন্ধ করে সেখানে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মফিজুল ইসলামের ভাষায়,
“ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে ১৫-২০ মিনিট পানি তুলতে পারেনি। আগুন কি ১৫-২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবে? এই সময়েই সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু চকবাজার নয়, পাদুকাপট্টি, মনিহারি পট্টি, জিয়া মার্কেট—পুরো বাজারের নিরাপত্তার স্বার্থে খালের তীরের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে হবে, ঘাটলা উদ্ধার করতে হবে, খালও খনন করতে হবে।”
স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী মোছলেহউদ্দিন বলেন, “ফায়ার সার্ভিস আসার পর যদি সঙ্গে সঙ্গে পানি পেত, তাহলে আগুন আরও অন্তত ২০ মিনিট আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা যেত। মেশিন বসানোর জায়গা বন্ধ করে দোকান বানানোর ফলেই এই বিপুল ক্ষতি হলো।” তিনি আরও বলেন, খাল দখলের পর থেকে বাজারে যতবার আগুন লেগেছে, ততবারই পানি সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোলা খাল দখলমুক্ত করার প্রশ্নে ক্ষোভ শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, পরিবেশবাদীদেরও। বেলার বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন জানান, ভোলা খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবিতে তারা উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত থেকে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপর কিছু ভাঙচুর হলেও পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ আর হয়নি। মামলাটি এখনো আদালতে চলমান।
একই অভিযোগ করেছেন ভোলা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস এম বাহাউদ্দিন। তাঁর দাবি, খালের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে ভোলা পৌরসভাই রাস্তাঘাট ও দোকানঘর নির্মাণ করেছে। আদালত বা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এলে প্রশাসন কিছুদিন উচ্ছেদের তৎপরতা দেখালেও পরে তা স্তিমিত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “এটা কার্যত উচ্ছেদের নামে নাটক। ইচ্ছে করলে প্রশাসন মুহূর্তেই দখল সরাতে পারে।”
‘ঘাটলা উদ্ধার হলে আবার ব্যবস্থা করে দেব’
ঘাটলা ভরাট করে দোকান বানানোর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর। তিনি বলেন, বাজারের নিরাপত্তা ও মালামাল ওঠানামার সুবিধার জন্যই তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে ঘাটলাগুলো করেছিলেন। পরে সেই জায়গা ভরাট করে দোকান বসানো হয়েছে। প্রশাসন জায়গাটি উদ্ধার করে দিলে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করে তিনি আবারও সেখানে পানি ওঠানামার সুন্দর ব্যবস্থা ও খোলা স্পেস তৈরি করবেন বলে আশ্বাস দেন।
‘খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা’ :
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং খতিয়ে দেখবেন। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে কোথায় কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে আদালতের নির্দেশ ও মামলার বিষয় জড়িত থাকতে পারে, তাই সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শহর রক্ষায় এখনই সিদ্ধান্ত দরকার :
একটি অগ্নিকাণ্ড ভোলা শহরের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। খাল পাশে থেকেও পানি না পাওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক নয়, এটি নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন—ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ভোলা খালের ঐতিহ্যবাহী ঘাটলা দুটি অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে। না হলে পরের আগুনে হয়তো শুধু দুটি গোডাউন নয়, পুড়ে যাবে পুরো বাজার।





আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা :  সোহেল তাজ

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা : সোহেল তাজ

আরও...