অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৩শে জুন ২০২৬ | ৮ই আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বলাৎকার: অভিযুক্তের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২শে জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৬

remove_red_eye

৪৮

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার ধনিয়া ইউপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক অশোক চন্দ্র দাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। আজ সোমবার সকালে ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ রাস্তায় দু’পাশে দাঁড়িয়ে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অশোক চন্দ্র দাস কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে পবিত্র শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করেছেন। এ ধরনের লম্পট শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকলে কোনো সন্তানই নিরাপদ নয়। তারা অবিলম্বে পলাতক এই শিক্ষককে গ্রেফতার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানান।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সোমবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে স্কুল চলাকালীন সময়ে  সহকারী শিক্ষক অশোক চন্দ্র দাস ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার চিলেকোঠায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর পরিবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অবগত করেন এবং সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিন আক্তার জানান, “ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর পরিবার আমাকে পুরো বিষয়টি জানালে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি।” ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক অশোক চন্দ্র দাস সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে ভোলা সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অসীম কুমার বিশ্বাস জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল রোববার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ভোলা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’