অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২১শে জুন ২০২৬ | ৭ই আষাঢ় ১৪৩৩


সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:০৪

remove_red_eye

৩৩

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার তার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন চলছে। লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের ব্যাপক চাপের মুখে তিনি সরে দাঁড়িয়ে অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য দলীয় নেতৃত্বের পথ খুলে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্টারমার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বলে আসছিলেন, বার্নহাম বা অন্য কারও নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে তারা লড়াই করবেন। এমনকি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের আগ পর্যন্তও তারা এই অবস্থানে অটল ছিলেন, যেখানে বার্নহাম ওয়েস্টমিনস্টারে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেন।

 

 

তবে রোববার বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল স্কাই নিউজকে বলেন, স্টারমার সপ্তাহান্তে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়ে কাইল স্টারমারের পরিকল্পনা কী বা তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

 

স্টারমার সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ তার কাছে নেই। তবে তিনি বলেন, স্টারমার এখন বিবেচনা করছেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া বলতে কী বোঝায়।

 

অ্যান্ডি বার্নহামের বড় জয় এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে কাইল সরাসরি কোনো আপত্তি জানাননি। তিনি বলেন, শুক্রবার আমি দীর্ঘ সময় স্টারমারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি নিশ্চিতভাবে জানি, তিনি আমার সঙ্গে ছাড়াও বহু মানুষের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করছেন।

পিটার কাইল আরও বলেন, আমার মনে হয়, তিনি যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। এই মুহূর্তে মানুষেরও সেটাই প্রত্যাশা।

তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্টারমারের পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, শুক্রবারের পর থেকে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সেদিন সাংবাদিকদের স্টারমার বলেছিলেন, যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হয়, তাহলে আমি অবশ্যই অংশ নেব। তিনি আরও বলেন, এমন প্রতিযোগিতা দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেবে।

বার্নহামের উত্থান
বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম বৃহস্পতিবারের উপনির্বাচনে রিফর্ম ইউকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান এবং মোট ভোটের ৫০ শতাংশেরও বেশি অর্জন করেন।

বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, তার পক্ষে বর্তমানে প্রায় ২০০ লেবার এমপির সমর্থন রয়েছে, যা সংসদীয় দলের প্রায় অর্ধেক।

এরপর থেকে সেই সমর্থন আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্নহাম এখন ক্রমেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবেই তিনি লেবার নেতা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে স্টারমার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন।

শুক্রবার পর্যন্ত স্টারমারের প্রতি অনুগত থাকা কয়েকজন মন্ত্রী তাকে সতর্ক করেন যে, সপ্তাহান্তের মধ্যেই পদত্যাগের সময়সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এমনকি মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে কোনো এমপিকে অন্তত ২০ শতাংশ সংসদীয় দলের সমর্থন, অর্থাৎ ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হবে।

স্ট্রিটিংয়ের চ্যালেঞ্জ
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং গত সপ্তাহে স্টারমারের নেতৃত্বে অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেন। তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রয়োজনীয় সমর্থনও তার রয়েছে।

তবে স্টারমার ও বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা এ বিষয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, অনিশ্চিত অবস্থানে থাকা লেবার এমপিরা সম্ভাব্য বিজয়ী বার্নহামের দিকে ঝুঁকলে স্ট্রিটিংয়ের প্রার্থিতা দুর্বল হয়ে পড়বে।

দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী?
স্টারমারের বিদায় হলে গত ১০ বছরে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে। মাত্র দুই বছর আগে তিনি লেবার পার্টিকে বিশাল বিজয় এনে দিয়েছিলেন। সাধারণ নির্বাচনে ১৭৪ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি।

কিন্তু এরপর তার সরকার একের পর এক বিতর্ক ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে চাপে পড়ে। এর মধ্যে প্রবীণদের জন্য শীতকালীন জ্বালানি সহায়তা কমানো এবং পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

জনমত জরিপে লেবার পার্টির অবস্থান ক্রমাগত দুর্বল হয়েছে এবং স্টারমার ব্যক্তিগতভাবেও ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

টানা ৩০০টিরও বেশি জাতীয় জরিপে রিফর্ম ইউকে এগিয়ে রয়েছে। ফলে অনেক লেবার এমপি এখন বিশ্বাস করছেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে নাইজেল ফারাজ যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেন।