অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২১শে জুন ২০২৬ | ৭ই আষাঢ় ১৪৩৩


চরফ্যাশনে বাবার লাশ দাফনে সন্তানের বাধা কবর খোঁড়া হলো দুইবার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০শে জুন ২০২৬ রাত ১১:০৩

remove_red_eye

১৭

চরম উত্তেজনা সংঘর্ষ ভাংচুর


ইসরাফিল নাইম  : ভোলার চরফ্যাশনে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে মৃত বাবার লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে দুইবার কবর খোঁড়া হলেও দীর্ঘ সময় লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে  জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিহত জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাত ছেলে-মেয়ে রয়েছেন। সম্প্রতি তার মৃত্যু হলে স্বজনরা পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় কয়েকজন সন্তান দাফনে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে দিয়েছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরেই কয়েকজন সন্তান বাবার লাশ দাফনে বাধা দেন। প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও সেখানে লাশ দাফন করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে। লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমনকি লাশ বাড়ির উঠানে রেখে ভাই-বোনদের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উভয় পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। পরে বাড়ির উঠানে দ্রুত জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এমন ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জীবদ্দশায় সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধের সূচনা হয়েছিল, মৃত্যুর পরও তার অবসান হয়নি। বাবার লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে সন্তানদের সংঘর্ষে হতবাক রসুলপুরবাসী।





আরও...