অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২১শে জুন ২০২৬ | ৭ই আষাঢ় ১৪৩৩


জিজেইউএস’র চাকুরি মেলা একটি প্রসংশনীয় উদ্যোগ : জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০শে জুন ২০২৬ রাত ১১:০২

remove_red_eye

১৪

ভোলায় মেলায়  ১০৩ জনকে চাকরির জন্য নির্বাচন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান বলেছেন, জিজেইউএস’র চাকুরি মেলা একটি প্রসংশনীয় উদ্যোগ। এ আয়োজনের ফলে অনেক বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার আলতাজের রহমান সড়কের প্রধান কার্যালয়ের চত্ত্বরে দিনব্যাপী এ চাকুরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। 
তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বেকার যুবক-যুবতীদের আরো দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হবে। দক্ষতা থাকলে চাকুরি অনেক সহজ হয়। আমাদেরকে আরো কারিগড়ি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তবেই আমরা দক্ষ জনশক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো। টাকা দিয়ে চাকুরি পাওয়া যায় না, দক্ষতা অর্জন করতে হয়। আমরা সবাই চাকুরির জন্য মামা-চাচা-খালু খুঁজি ও জমি বিক্রি করি। যদি মেধা ও দক্ষতা না থাকে এত কিছু দিয়েও চাকুরি পাওয়া সম্ভব নয়। 


‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মানবসম্পদ সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী সংস্থা জিজেইউএসের উদ্যোগে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইস) প্রকল্পের আওতায় মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (প্রোগ্রাম ও লিগ্যাল) অ্যাডভোকেট বীথি ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রেইস প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী ও পিকেএসএফের ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী। বক্তব্য রাখেন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (মনিটরিং ও ইন্টারনাল ট্রেনিং) হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. মোস্তফা কামাল, এবং অতিরিক্ত পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) ও রেইস প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. জাহিদুর রহমান।


আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত জনবল চাহিদা ছিল ৮৬ জন। এর মধ্যে মোট ১ হাজার ৬৬৩ জন চাকরিপ্রত্যাশী জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ১০৩ জনকে প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচন করা হয়। মেলায় মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল কাজী ফার্ম, সুজুকি, টিভিএস, জিজেইউএস, হীড বাংলাদেশ, জুত্তি, ওয়ালটন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, পল্লীসেবা, অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাব্রিকেশন, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, নকশিকাঁথা ও নবউদ্যোক্তা সেকশন, ইয়ামাহা, বেস্ট ইলেকট্রনিক্স, প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার এবং প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
সবচেয়ে বেশি নিয়োগের সুযোগ দেয় জিজেইউএস। প্রতিষ্ঠানটির ২০টি পদের বিপরীতে ৪১৮টি সিভি জমা পড়ে এবং ৩০ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া হীড বাংলাদেশে ১০ জন, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংয়ে ৮ জন, মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ে ৭ জন, অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাব্রিকেশনে ৬ জন এবং পল্লীসেবায় ৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী চাকরির সুযোগ পান। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন সংখ্যক প্রার্থী তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেন। 
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ যুব বেকারত্ব কমাতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেইস প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।