অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় মহিলা মাদ্রাসার প্রাচীর ভাংচুরের অভিযোগ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২রা জুন ২০২৬ সকাল ০৯:৪২

remove_red_eye

৩৯২

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলো সড়কে  মহিলা মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ভেঙে  দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ এমদাদুল্লাহ ও জমির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম অভিযোগ করেন , তাদের পাশে 
৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে বহুতল ভবন নির্মান করছেন  পিরোজপুর জেলার টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইসস্টিটিউটের সিকিউরিটি নাইটগার্ড হিমেবে কর্মরত  রিয়াদ হোসেন মিলন। তার বাড়ির প্রবেশ পথ প্রশস্ত করতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসীদের দিয়ে পাশের মহিলা মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়া হয়।  রোববার এইসব ঘটনায় এলাকা পরিদর্শণ করে পুলিশ। 
গার্ড রিয়াদ অবশ্য দাবি করেন তিনি বস্ত্র মন্ত্রনালয়ে সিকিউরিটি কাজে কর্মরত আছেন। দেয়াল ভাঙার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে পাশের জমিতে তার এক শতক জমি পাওনা রয়েছে।  এলাকার মোঃ ইউছুফের বাড়ির সীমানার দুই ফুট জমি সমঝোতার মাধ্যমে  তার ( গার্ডের) বাড়ির প্রবেশ পথের জন্য ব্যবহার করছেন। মিলন এমন দাবি করলেও মোঃ ইউছুফ জানান, প্রভাবখাটিয়ে তার জমি ব্যবহার করছে মিলন। আওয়ামী লীগ আমলেও প্রভাব দেখাত এই মিলন। 
মাদ্রাসার পরিচালক জানান, শুক্রবার গভীর রাতে ৫ /৭ জন সন্ত্রাসী সীমানা প্রাচীর ভাঙতে শুরু করে। তিনি তার কক্ষ থেকে বের হয়ে আসলে তাকে হুমকী দেয়া হয়। এ সময় তিনি  জাতীয় জরুরি নিরাপত্তা সেবা ট্রিপল নাইন এ ফোন করে সাহায্য চান। এলাকার মুরুব্বীদের জানান। পরের দিনও  দেয়ালের অবশিষ্ট অংশ ভাংচুর করা হয়। এর কয়েকদিন আগে মিলন এই দেয়াল ভেঙে ফেলবে বলেও হুমকী দিয়ে ছিল। মাদ্রাসার ভূমির মালিক রহিমা বেগম জানান, ১৯৯৬ সালে তার স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন স্থানীয় আব্দুল কাদের মুন্সির কাছ থেকে ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন করেন। ওই ভবনেই এখন মাদ্রাসার কার্যক্রম চলছে। ২০১৮ সালে প্রথম মিলন দুই দাগে তিন তিন করে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ২০২১ সালে ক্রয় করেন ১ শতাংশ । এইসব জমিতে  বহুতল ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন মিলন। এলাকায় তিনি নিজেকে ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন। তার বাড়িতে প্রবেশ পথ না থাকায় মিলন  মাদ্রাসা ও  ইউছুফের বাড়ির সীমানা দখল করে প্রথমে ৪ ফুট চওড়া সড়ক বানিয়ে গেইট লাগিয়ে দেন। ওই প্রবেশ পথ প্রশস্ত করতেই শুক্রবার মাদ্রাসার প্রাচীর ভেঙে দেয় বলে জানান রহিমা বেগমের ছেলে স্কুল শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। এলাকার মোঃ হোসেন জানান, মিলনের বাড়ির প্রবেশ পথের জন্য জমি নিয়েই বিরোধ দেখা দেয়। রহিমা বেগমের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল ৩০ বছর আগে জমি ক্রয় করেন। । এদিকে মিলন জানান, তিনি ২০০৩ সাল থেকে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে ( নিরাপত্তা প্রহরী)  চাকুরি করছেন। চাকুরির টাকা দিয়েই  জমি কিনে বাড়ি করছেন। ভোলা থানার এসআই আবুল কাশেম জানান, সীমানা প্রাচীর ভাঙার লিখিত অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।