অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা করার প্রস্তাব


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০শে মে ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৬

remove_red_eye

তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ছাত্র সংগঠন সন্ধানীসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন। তাদের প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ এ আয়োজন করে।সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ডা. হুমাইরা জামিল হিম। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমান কর কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সিগারেট তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। কার্যকর কর সংস্কার করা গেলে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি সব স্তরের সিগারেটের ওপর প্যাকেটপ্রতি সুনির্দিষ্ট কর ৪ টাকা আরোপের আহ্বান জানান। তার মতে, কর ও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা কমলে তরুণদের ধূমপানে আসক্ত হওয়া নিরুৎসাহিত হবে, সরকারি রাজস্ব বাড়বে এবং তামাকজনিত রোগ ও অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে আটা, গুঁড়া দুধ ও ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৩৯ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও সিগারেটের দাম সে হারে বাড়েনি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।

ডা. হুমাইরা জামিল হিম প্রস্তাব করেন, প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং উচ্চস্তরের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে মধ্যম ও নিম্নস্তর একীভূত করে সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেন তিনি। বর্তমানে এই দুই স্তরের দাম যথাক্রমে ৮০ ও ৬০ টাকা।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত কর কাঠামো কার্যকর হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক এবং সমপরিমাণ তরুণের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এতে দেশে তামাক ব্যবহারের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে আসবে এবং সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বক্তব্যে বলেন, কার্যকর মূল্য বৃদ্ধি তরুণদের ধূমপান শুরু নিরুৎসাহিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। দাম বাড়লে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণ ধূমপান থেকে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অকাল মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, দেশে তামাক ব্যবহারের হার এখনও বেশি এবং তরুণদের একটি বড় অংশ এতে যুক্ত হচ্ছে। তামাক চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বিকল্প কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. সাদিকুর রহমান ইফাত বলেন, কার্যকর করনীতি বাস্তবায়ন করা গেলে তরুণদের ধূমপান শুরু উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগ ও অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে।