অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজের স্বাধীনতা দিচ্ছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ই মে ২০২৬ বিকাল ০৫:০৭

remove_red_eye

৯৪

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় বাহিনীটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছিল। তবে বর্তমান সরকার পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরে যেতে পারে।

 

তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।

 
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসের মতো অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

 

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর পল্লবী পুরাতন থানার সামনে পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

‘কমিউনিটি পুলিশিং, সবাই মিলে গড়ি নিরাপদ সমাজ’ প্রতিপাদ্যে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী থানা।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এসএন মো. নজরুল ইসলাম ও মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।

 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে এলাকার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মাদক বিক্রি, মাদকসেবন, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। একইসঙ্গে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, আমি সবসময় মানুষকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই। স্কুল, মসজিদ-মাদরাসা, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি-সব জায়গাতেই আমি একই কথা বলি। কারণ জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো বাহিনীর পক্ষেই সফলভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বাহিনীটির পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে, যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এসএন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার ও পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের মুক্ত আলোচনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের অভিযোগ ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পল্লবী এলাকাকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।