অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১৩ই মে ২০২৬ | ৩০শে বৈশাখ ১৪৩৩


মার্চের তুলনায় এপ্রিলে অর্থনীতিতে গতি ফিরেছে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই মে ২০২৬ বিকাল ০৫:২২

remove_red_eye

৩২

মার্চের তুলনায় এপ্রিলে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা গতি এসেছে। কৃষি ও উৎপাদন খাতে গতি আসায় দেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়েছে।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য এই সূচক পরিমাপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক তথ্য পেতে বেগ পোহাতে হয়। পিএমআই মানের ওপর ভর করে দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ হয়।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে পিএমআই মান নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এমসিসিআই যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন পোহ।

উপস্থিত ছিলেন রবি আজিয়াটা পিএলসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার এম এনামুল্লাহ সাঈদ, কোকাকোলা বেভারেজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রেশন লিডার আহমেদ জাহিদ ইরদম, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ও ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেশের পিএমআই বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেশি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে কৃষি খাত, মাসের ব্যবধানে ৫১ দশমিক ৬ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৭০ দশমিক ৭ পয়েন্টে উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে উৎপাদনের সূচকও, খাতটি ৪৯ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ৫৬ দশমিক ৯ পয়েন্টে উঠেছে। তবে নির্মাণ খাত ৪৯ দশমিক ২ পয়েন্ট থেকে কমে ৪৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে ও সেবা খাত ৫৬ দশমিক ৪ থেকে কমে ৫১ দশমিক ৮ পয়েন্টে নেমেছে।

সভায় মাসরুর রিয়াজ বলেন, এই পিএমআই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মাইলস্টোন। এটি সরকারকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যেমন সহায়তা করে, তেমনি কোম্পানিগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ সহজ করে দেয়।

এসআইপিএমএমের নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন পোহ বলেন, সিঙ্গাপুরে দুই দশক ধরে পিএমআই চালু রয়েছে। এটি দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের অর্থনীতির ধারণা দিতে সূচক খুবই গুরুত্ব বহন করছে।

সভায় পিএমআইতে আরও বিভিন্ন খাতের জরিপ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে যুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।

এসময় এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা মতিঝিলে একটি কার্যালয়ে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এই ধরনের জরিপ পরিচালনা অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য অনেক ফান্ডের প্রয়োজন হয়। ফান্ডের ব্যবস্থা হলে আমরা ধীরে ধীরে গবেষণার পরিধি বাড়াবো।

তিনি জানান, গবেষণা পরিচালনায় অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বারবার মেইল করেও সাড়া পাওয়া যায় না। এতে গবেষণার কাজ অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়।

সভায় প্রেজেন্টেশন দেন অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার হাসনাত আলম। তিনি বলেন, গত এপ্রিল মাসে অন্যান্য খাত সংকুচিত হলেও কৃষি ও উৎপাদন খাত সম্প্রসারণ হয়েছে। নির্মাণখাত অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ায় স্টিল খাতের কোম্পানিগুলো ব্যবসা টিকিয়ে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে হাসনাত আলম বলেন, ‘এই সূচক নির্ধারণে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বা মালিক পক্ষকে কয়েকটি প্রশ্ন করি। সাত থেকে আটটি প্রশ্ন করা হয়। এতে বোঝা যায় ওই কোম্পানি আগের চেয়ে কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে কি না, আমদানি বেশি করেছে কি না, রপ্তানি কতটা করেছে- এমন সব তথ্য উঠে আসে। আর নানা খাতের বিভিন্ন কোম্পানি সম্পর্কে এসব তথ্য একত্র করলে দেশের সামগ্রিক চিত্রও উঠে আসে।’অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সূচকের এই উন্নয়নের মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও গতি এসেছে। কৃষি উৎপাদন ও রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে সূচকের এই উন্নয়ন ঘটেছে।