অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ই বৈশাখ ১৪৩৩


লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়মের অভিযোগ


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮শে এপ্রিল ২০২৬ সকাল ০৯:১৪

remove_red_eye

২৩

লালমোহন প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণ কাজে  অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন (Herringbone) সম্প্রসারণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সড়কের নিম্নমানের কাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগে তোলপাড় শুরু হলেও কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।

সড়কের দুই পাশে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে পিচ ঢালাইয়ের পরিবর্তে পুরনো পদ্ধতিতে ইট বসিয়ে হেরিং বন্ড করা হলেও, কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং যথাযথ বেডিং (বালু/সাববেস) ও কম্প্যাকশন ছাড়া তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে ইট বসানোর পরদিনই ভারী যানবাহনের চাপে রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে। লালমোহন মহিলা কলেজের সামনে সদ্য নির্মিত অংশে ট্রাক চলাচলের কারণে একদিনের মধ্যেই রাস্তা বসে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে এভাবে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে কিনা। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজে পঁচা ইট, পিকেট ইট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাণ বালি ও পানি ব্যবহার না করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তার নিচে প্রয়োজনীয় বালির স্তর দেওয়া হচ্ছে না। সামান্য পানির ছিটা দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এইভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমেই ইট দেবে গিয়ে সড়ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (খএঊউ) কর্মকর্তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (এসও) মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তদারকির জন্য অফিসের একজন স্টাপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে তাদের কাউকেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি, যা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।
প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, প্রথমে এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, তবে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ইট দিয়েই কাজ চলছে।
অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মো. মোশারফ জানান, করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বদিকে প্রায় ১৬শ ফুট সড়কের জন্য ৪০ লাখ টাকার কাজ পেয়েছি। সীমিত বাজেটে কাজটি করা কঠিন হলেও আমরা মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন! যেখানে কাজের শুরুতেই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেখানে প্রকল্পের পুরো কাজের গুণগত মান কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।