অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২০শে এপ্রিল ২০২৬ | ৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


লালমোহনে বাজার ও মসজিদের জমি গোপনে চান্দিনা ভিটির নামে ডিসিআর প্রদানের অভিযোগ


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০শে এপ্রিল ২০২৬ সকাল ০৯:৫২

remove_red_eye

৩৪

লালমোহন প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহনের গজারিয়া বাজার, গরু ছাগল ও হাঁসমুরগীর বাজার, ব্যক্তিগত ভোগদখলীয় এবং মসজিদের দখলীয় জায়গা গোপনে চান্দিনা ভিটির নামে  ডিসিআর প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের সরকারি বন্দের দিন লালমোহন ভূমি অফিসের নাজির ও সার্ভেয়ার সরোয়ার ওই দখলীয় জায়গাতে গিয়ে জমি মেপে ভিটি আকারে পিলার স্থাপন করলে স্থানীয় লোকজন ও মসজিদের মুসল্লিরা জানতে পারে এই জমিগুলো চান্দিনা ভিটি আকারে ডিসিআর হিসেবে অন্যদের কাছে লিজ দেয়া হয়েছে। তাৎক্ষনিক ওই এলাকার মানুষজন এই অবৈধ ডিসিআরের ব্যাপারে প্রতিবাদ করেন। এসময় গজারিয়া মধ্যবাজার জামে মসজিদের সমজিদের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল ও মসজিদের নিয়মিত মুসুল্লিরা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় শতবছরের বেশি সময় ধরে দেখে আসছি এই জায়গাগুলো গজারিয়া বাজার, গরু ছাগল ও হাঁসমুরগীর বাজার, ব্যক্তিগত ভোগদখলীয় এবং মসজিদের দখলীয় জায়গা। হঠাৎ করে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন আমাদের বাজারের এই সকল জমিগুলো লালমোহন ভূমি অফিসের লোকজন এসে মেপে পিলার স্থাপন করা শুরু করে। ওই সময় আমরা তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এই জমিগুলো চান্দিনা ভিটি নামে ডিসিআর দেয়া হয়েছে। তারা আরো বলেন, বছরের পর বছর যারা এই জমিগুলো ভোগ দখল করে আছে তাদের সাথে কোন যোগাযোগ ছাড়াই কিভাবে লালমোহন ভূমি অফিস অন্যের দখলকৃত জমিগুলো চান্দিনা ভিটি হিসেবে ডিসিআর দিয়েছে এটা আমাদের বোধগম্য নয়। 
এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক পাঞ্চয়েত বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে আমি মুংশ দাবী হিসেবে ৪ শতাংশ জমি দখলে রয়েছি। এই জমিটি আমার ভোগ দখলে পর থেকে একাধিকবার বন্ধোবস্ত /ডিসিআর নেয়ার চেষ্টা করলেও কর্তৃপক্ষ আমাকে ডিসিআর দেয়নি। দেখা যাচ্ছে একটি চক্র আমার এই ভোগদখলীয় জমিটি ডিসিআর কেটে নিয়েছেন বলে শুনতে পায়। তবে আমার অন্য কোথাও বিকল্প কোন ভিটে করার মতো জমি না থাকায় এই জমির সামনে আমার জমি থাকায় আমি গাছপালা রোপন করে এবং একটি ছোট ঘর উত্তোলন করে বসবাস করে আসছি।
আরেক ভুক্তভোগী হাজী মোজাম্মেল হক খলিফার ছেলে মোস্তফা জানান, আমার রেকর্ডিয় সম্পত্তির পিছনের জমিটি দীর্ঘ প্রায় ৭৬ বছর পর্যন্ত ভোগ দখল করে ঘর উত্তোলন করে বসবাস করে আসছি। একাধিকবার চেষ্টা করেও লালমোহন ভূমি অফিস আমাদেরকে উক্ত জমির বন্দেবস্ত/ ডিসিআর দেয়নি। এখন শুনতে পাচ্ছি আমাদের দখলের জমিটি অন্যের নামে ডিসিআর দেয়া হয়েছে। 
উক্ত জমিগুলোর ডিসিআর বাতিলের দাবিতে গজারিয়া মধ্যবাজার জামে মসজিদের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা কামাল নেতৃত্বে মসজিদের মুসল্লি ও এলাকাবাসীরা ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানান তারা।   
সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া বাজারের উক্ত জায়গাগুলো ডিসিআর দিয়েছেন প্রায় ৭ মাস আগে গোপনে লালমোহনের সাবেক নির্বাহী কর্মকতা মো. শাহ আজিজ। তখন তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।  সূত্রে আরো জানা যায়,  ডিসিআর দিতে গিয়ে প্রায় কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে।
লেনদেনের সাথে সাবেক নির্বাহী অফিসার, ভূমি অফিসের লোকজন এবং স্থানীয় একটি হীন চক্রান্তকারী মহল জড়িত। 
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সারোয়ারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গজারিয়া বাজারের জমিগুলোর ডিসিআরের ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে পহেলা বৈশাখের দিন বর্তমান সহকারী কমিশানর (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক আমাকে জায়গা গুলো মাপার জন্য বলার কারণে আমিও ভূমি অফিসের নাজির মাপতে যায়। 
এ সংক্রান্ত বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গজারিয়া বাজার এলাকায় ওই জমিগুলো আমি আসার আগেই দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিধি মোতাবেক ডিসিআরের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। সে মোতাবেক উক্ত জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ভূমি অফিস থেকে সার্ভেয়ার পাঠানোর পর জনগনের বাধার সম্মুখীন হয়। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল ২০ এপ্রিল আমি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিনে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 
অপরদিকে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেক বিন সিফাত এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। ডিসিআর দেয়ার আগে পরিমাপ করে ভূমি মন্ত্রনালয়ে পাঠাতে হয়। ভূমি মস্ত্রনালয় অনুমোদন দিলে ডিসিআর দেয়া যায়। ডিসিআর দেয়াকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এই সপ্তাহের মধ্যে এসিল্যান্ডসহ আমরা সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।