অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই জুলাই ২০২৬ | ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩


চরফ্যাশনে মাল্টা,ড্রাগন ও লেবু চাষ করে বিদেশ ফেরত শরীফের ভাগ্যবদল


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:১১

remove_red_eye

১৮৪

এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন থেকে: টানাপোড়েনের সংসারে বড় হওয়া শরীফ ভাগ্যবদলে সৌদি যান। কিন্তু সেখানে ভালো আয় রোজগার না হওয়ায় দেশে ফিরে ভোলার চরফ্যাশনে মাল্টা,ড্রাগন ও লেবু চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫একর জমিতে তিনি মিশ্র পদ্ধতিতে এই ফল বাগানের উদ্যোগ নেন। শরীফ বলেন,বিদেশ থেকে ফিরে বেকার বসে না থেকে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করি। ভিয়েতনাম জাতের মাল্টায় সফলতার পর এবার ভিয়েতনাম জাতের ড্রাগন ও চায়না সিডলেস বা বীজহীন লেবু চাষ করেছি। তিনি বলেন, এই লেবু অত্যন্ত লাভজনক ও বারোমাস লেবু পাওয়া যায়। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা হওয়ায় রাজশাহী থেকে শতশত লেবুর কলম রোপণ করেছি। এটি সারাবছর লেবু দেয়। এই জাত থেকে ১৫বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
 
২০২৩ সালে উদ্দোক্তা শরীফ প্রথমবারের মতো ১৬০ শতাংশ জমিতে ভিয়েতনামি বারোমাসি উচ্চ ফলনশীল ও সুস্বাদু মিষ্টি এবং রসালো সাইট্রাস জাতের মাল্টা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।  মাল্টায় সফলতার পর এবার ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন তিনি।
ফলের বাগানের মাঝে তৈরীকৃত গভীর নালার মধ্যে বিভিন্ন জাতের মাছ ও নালার পাড়ে শাক সবজিও আবাদ করে ভালো আয় করছেন তিনি।
শরীফের বাড়ি রসুলপুর ইউনিয়নের ফরাজিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ফ্রি ভিসায় বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ফলের বাগানেও কাজ করতেন। 
রসুলপুরে নিজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ৪৮০ শতাংশ জমিতে শরীফ গড়ে তুলেছেন তার এই মিশ্র খামার। এখানে সাইট্রাস মাল্টার গাছ আছে ১৫শটি। তিন বছর বয়সী এই গাছগুলো থোকায়থোকায় ফল দিচ্ছে। প্রতি মাল্টা গাছে ফলন হচ্ছে প্রায় ৬০ কেজি। বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও তার খামারে ৪বছর বয়সী প্রায় ৭হাজার ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। এখান থেকে তিনি ১বছরে ৬লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেন। চলতি বছর ড্রাগন বাগান থেকে ১৫লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির আশা করেন।
 
সম্প্রতি বাগান ঘুরে দেখতে গেলে শরীফ জানান, বিদেশ থেকে ফিরে বেকার বসে না থেকে এলাকার বেকার ছেলেদের নিয়ে একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ফলের বাগান করেছি। তিনি ঘুরে দেখান বিভিন্ন জাতের মাল্টা ড্রাগন ও পেয়ারা এবং লেবুগাছ। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা মাল্টা ও লেবু দেখিয়ে শরীফ জানাচ্ছিলেন চাষের পদ্ধতিও। তিনি বলেন, উঁচু জমিতে বেলে দো-আঁশ মাটিতে জৈব সার কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যা করে তিনি চাষ করেন। 
ড্রাগনে কোনো হরমন বা টনিক ব্যবহার না করে জৈব পদ্ধতি অবলম্বন করেই উৎপাদন করেন তিনি। সাইজ প্রতি কেজি ড্রাগন ১৫০ থেকে ২৮০টাকা কেজিতে বিক্রি করেন।
 
তিনি জানান, পানির সংকট মোকাবিলায় তিনি খালের মতো গভীর জলাশয় তৈরি করে সেখানে কার্প জাতীয় মাছ চাষের পাশাপাশি জলাশয়ের পানি দেন ফলের বাগানে। তিনি জানান গত এক বছরে জলাশয় থেকে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি ৩লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে ভালো আয় করেছেন।
 
শরীফের বাগান পরিদর্শনে এসেছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা। তিনি বলেন,জৈব পদ্ধতিতে ফল চাষ এই অঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা মাল্টার চেয়ে দেশে চাষ করা মাল্টার স্বাদ কোনো অংশে কম নয়। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও দীর্ঘ সংরক্ষণের জন্য বিদেশি মাল্টার পুষ্টিমান ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বাগানের মাল্টায় সেই চিন্তা নেই। তার বাগানের ড্রাগন ফলে নতুন ফুল ও ফল এসেছে। কোনো রকম টনিক বা হরমন ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদিত ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন যায়গায় রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা তাকে পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়তা করেছেন। তার এই ফলের বাগান দেখে অনেক চাষি বা বেকার যুবকরা তাকে অনুসরণ করবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।




আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা :  সোহেল তাজ

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা : সোহেল তাজ

আরও...