অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে চৈত্র ১৪৩২


ভোলায় জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২রা এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:২৯

remove_red_eye

১৯

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার বিসিকে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৯৭৪ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তেল মজুদের অপরাধে মালিক মো. জামাল উদ্দিন খানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং মজুদের ঘরটি সিলগালা করেন। একই সঙ্গে তৃষ্ণা ফুডসের মালিক মো. জুয়েলকে  ৫০হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৭দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তার তেলের ঘরেও সিলগালা করা হয়। 
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ অভিযান শুরু করে রাত ১২ টা পর্যন্ত পরিচলনা শেষ করা হয়। 
 
পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালত জানিয়েছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর মেসার্স খান ফ্লওয়ারের মালিক জামাল উদ্দিন খান ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার ডিজেল (জ্বালানি তেল) মজুদ করে।
এবং তৃষ্ণা ফুডসের মালিক জুয়েল ২ হাজার লিটার মজুদ করে। এ দুটি কারখানা বিসিকের মধ্যে বড় কারখানা।  
 
ভ্রাম্যমান আদালের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিকে অভিযান চালিয়ে ডিজেল মজুদ পেয়েছি। এসব তেল মজুদের জন্য মজুদদারের কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই। এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তেলের মালিক জামাল উদ্দিন খান জানান, তিনি তেল মজুদের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিলেন। তার দাবি, প্রতিদিন কারখানার মালামাল উৎপাদন ও পরিবহনের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোনোদিন তেল পাচ্ছেন, কোনোদিন পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তিনি। তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি তেল মজুদ করেছেন বলে জানান।
খান ফ্লাওয়ারের মালিক জামাল উদ্দিন খান আরও জানান,  তার মতো বিসিকের অনেক কারখানার মালিক জ্বালানী তেলের  সংকটে  ভুগছেন।  পরে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতিক্রমে গতকাল (সোমবার) ইলিশা এগ্রোর নামে তারা তেল সংগ্রহ করে সকলের মধ্যে চাহিদামতো বন্টন করেছেন। কাকে কত লিটার তেল দিয়েছেন, তার হিসাবও তিনি প্রশাসনকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। 
তৃষ্ণা ফুডস এর মালিক জুয়েল জানান, তারা বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল মজুদ করেননি। তিনি চারটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় রুটি সাপ্লাই দিতে হচ্ছে। এতে দৈনিক তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। প্রশাসনের মৌখিক সম্মতিতে সাত থেকে দশ দিনের জন্য এই তেল সংরক্ষণ করা হয়েছে। মোঃ জুয়েল আরও জানান, তেল সংরক্ষণের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে জরিমানা করেছেন। 
 
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, জামাল উদ্দিন তাঁর মুড়ি ও ময়দার মিল পরিচালনা ও মালামাল পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ৩০০ লিটার তেলের আবেদন করেছিলেন। আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তিনি ১৩-১৪ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমানে দেশে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। আগে যেখানে একজন এক লিটার তেল কিনতেন না, এখন সেখানে ৫-৬ লিটার পর্যন্ত কিনছেন। কেউ আগে সাপ্তাহিক চাহিদা অনুযায়ী কিনলেও এখন প্রতিদিন পাম্পে গিয়ে তেল নিচ্ছেন এবং মজুদ করছেন। এ প্রবণতার কারণে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।