অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯শে মে ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪৩

remove_red_eye

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান বৈষম্য ও নৈরাজ্য দূর করে সব পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, এই কমিশন কার্যকর হলে সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না, তেমনি সরকার ও মালিকপক্ষ গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার করতে পারবে না।

আজ দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রুপ বীমা চুক্তির আওতায় ডিআরইউ’র প্রয়াত দুই সদস্যের পরিবারকে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র পক্ষ থেকে মৃত্যু দাবির চেক হস্তান্তর উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ ছিল কেবলই সরকারের গুণগান গাওয়া এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানো। কিন্তু আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রোপাগান্ডা নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই প্রধান। অথচ দুঃখের বিষয়, পোশাক খাতের একজন কর্মীর সুরক্ষায় শ্রম আইন থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো এবং পেনশনের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর বিধিবিধান নেই।’

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের মূল লক্ষ্য। যার যার জায়গায় সবাই যেমন স্বাধীনতা এবং মর্যাদা ভোগ করবেন, তেমনি প্রত্যেককেই কোনো না কোনো জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ যেমন সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না, ঠিক তেমনি সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে অপতৎপরতা বা ব্ল্যাকমেইলও বরদাশত করা হবে না। এই জবাবদিহিতা ও সুরক্ষার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতেই ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন সরকারের অগ্রাধিকার।

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিনের কাজ নয়; দুই ভোটের মাঝখানের সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে একটি বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে রাখাই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান কাজ।’

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র প্রয়াত দুই সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের নিকট মৃত্যু দাবি বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকার দু’টি চেক হস্তান্তর করা হয়।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক এই কল্যাণমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডিআরইউ সাংবাদিকদের জীবন ও পেশাগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যে সৃজনশীল বীমা পলিসি চালু করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি দেশের সব সাংবাদিকদের এ ধরনের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আসার আহ্বান জানান এবং এবং ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলকে ধন্যবাদ জানান

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন।

ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।