ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় ব্যসায়ীরা
নেয়ামত উল্যাহ : ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে দিনের পর দিন পর দিন তরমুজের শতাধিক ট্রাক আটকে পঁচন ধরছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারার আশঙ্কায় অনেকক্ষেত্রে ব্যাপারী গাড়ি ভর্তি তরমুজ রেখে পালিয়ে যাচ্ছে। নদীর নাব্যতাহ্রাস ও ফেরিসংকটের কারণে এ দশা হচ্ছে।
ট্রাক চালকরা জানান, ঘাটে একদিন আটকে থাকলে তরমুজেরতো ক্ষতি হয়ই, চালকসহ গাড়ীর স্টাফদের দিনে হাজার বারশ টাকা খরচ আছে। আর নানা ধরণের ভোগান্তিতো লেগেই আছে। রোববার সরেজমিন এসব তথ্য পাওয়া যায়।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সূত্র জানায় এ বছর প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৮ হাজার একর বেশি। ফলন হয়েছে একরে ১৫ হাজার কেজি।
কিন্তু বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কৃষক মো শাহাব উদ্দিন ফরাজি বলেন, আবাদ হয়েছে বেশি। ফলন হয়েছে বেশি। চাহিদার তুলনায় বেশি ফলন ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে তরমুজের দাম কমে গেছে। যে তরমুজের দাম ২৫ হাজার(১০০ টি) ছিল। তা ৯-১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বহন খরচ উঠছে না। তার ওপরে ফেরি সংকটের কারণে অনেক বেপারী ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় পঁচা তরমুজের গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে পড়ছে। বরিশাল ভোলা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভোলা অংশের ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত ট্রাক সার করে দাঁড় করানো। এরমধ্যে ৯৯ শতাংশ তরমুজের গাড়ি। কেউ আসছে, আবার কেউ ফেরিতে উঠছে।
চালক মো শাহাবুদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাতে লালমোহন থেকে মাল লোড করে ওই রাতে ইলিশা ঘাটে লাইন দিয়েছেন। কিন্তু এখনো ফেরিতে ওঠার লাইন পাননি। ঘাটে একদিন থাকতে চালক হেল্পার ১ হাজার, বারশ টাকা খরচ আছে।
বোরহানউদ্দিনের চালক নিরব হাওলাদার বলেন, ভোলার ইলিশাঘাটে কোনো টার্মিনাল নেই। নেই অজুগোছলের স্থান। নেই শৌচাগার। সড়ক বিভাগের সড়কের ওপর গাড়ি রাখতে হয়। স্থানীয়দের গালাগাল শুনতে হয়। রাতের বেলা ব্যাটারীসহ গাড়ীর সরঞ্জাম চুরি হয়। তেরপাল কেটে তরমুজ নিয়ে যায়। মালামাল চুরি হচ্ছে। তারপরে টার্মিনাল খরচ নিচ্ছে ১৭০ টাকা। নানা সমস্যায় জর্জরিত এ ফেরিঘাট।
চালকরা আরও জানান, বছরের ১২ মাস এ নৌপথে নাব্যতা সংকটের কারণে জোয়ার ভাটা মেনে গাড়ি চলে। তা ছাড়া আছে ফেরি সংকট। একটা চালু হলে আরেকটা নষ্ট হয়। যেনো মাষ্টাররা ইচ্ছে করে ফেরি বিকল করে রাখে।
জানতে চাইলে ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ বলেন, ৫ টি ফেরি ছিল। একটি ফেরি বিকল হয়ে ডকইয়ার্ড উঠেছে। তবে শনিবার গৌরি নামে আরেকটি বড় ফেরি এসেছে। কোনো গাড়ি আর আটকে থাকবে না।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে ভোলা থেকে নৌপথে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটির পরে রোববার ইলিশা ঘাট থেকে সকাল ৭ টা থেকে একের পর এক লঞ্চ যাত্রীনিয়ে ঢাকা সদর ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রতিটি লঞ্চেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রী। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৬ টি নৌযান যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যায়। কিন্তু ভোলা -লক্ষীপুর নৌ রুটে নৌযান সংকটের কারনে শতশত যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন। তাঁরা লঞ্চ ও সি ট্রাকের জন্য ঘাটে সকাল থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেন। এসময় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে উত্তাল মেঘনা নদী নদী পাড়ি দিয়ে লক্ষীপুর যাচ্ছে। এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুুটির শেষ মুহুর্তে যাত্রীর চাপ অনেক বেড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রীরা এখন ফেতর যাচ্ছে। ২৯ তারিখ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যাবে তাই অনেক যাত্রীরা আগেভাগেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছে।
যাত্রীরা জানান, ঘাটে প্রয়োজনীয় সংখ্যা লঞ্চ থাকায় বিড়ম্বনা কম হয়েছে। ঘাটে পৌঁছার সাথে সাথে লঞ্চ পেয়ে অনেটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।