চরফ্যাসন প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯ই মার্চ ২০২৬ রাত ১০:৪৫
১২৩
৩৩ ইটভাটার মধ্যে ১৭টির নেই অনুমোদন
এআর সোহেব চৌধুরী , চরফ্যাশন থেকে : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চারটি থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘনবসতি এলাকায় গড়ে উঠেছে ৩৩টি ইটের ভাটা। অভিযোগ রয়েছে, গড়ে ওঠা এসব ইটের ভাটার নেই কোন নিয়মনীতি। সরকারী নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে ৩৩ ইটভাটার মধ্যে ১৬ টি ইট ভাটায় সিমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমোদন থাকলেও ১৭টি ইট ভাটার নেই কোন অনুমোদন। বছর ঘুরে ইট পোড়ানোর সময় এলে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় অবৈধ ইটভাটায় শুরু হয় ইট পোড়ানোর কর্মযজ্ঞ। কাঠ পোড়ানোর বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে উজার হচ্ছে সবুজ বেস্টুনী। পাশাপাশি উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী খ্যাত ম্যানগ্রোভ বাগান উজার করে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই অবৈধ ইটভাটাগুলো বছরের পর বছর ধরে বীরদর্পে অপকর্ম করেই যাচ্ছে। অবৈধ ইটভাটার দাপটে উজার হচ্ছে উপকূলের সবুজ বেষ্টনী ম্যানগ্রভ বনাঞ্চল। পাশাপাশি ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। উজার হচ্ছে ফসলী জমি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গড়ে উঠা ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির নাম মাত্র অনুমোদনে ইট পোড়ানো হয়। বাকি ১৭টি ইটভাটার কোন অনুমোদন নেই। কিছু সংখ্যক ইটভাটা ইটের চিমনি ব্যবহার করে জিকজাক দাবী করলেও নেই ইট পোড়ানোর অনুমোতি বা লাইসেন্স।
অপর ১৭টি ইটভাটায় ৩০/৪০ ফুটের ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরে নাম মাত্র আবেদন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেডলাইসেন্স নিয়ে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ধুম চলছে। অনুমমোদিত ১৭টি ইটভাটা ছাড়া বাকি ভাটাগুলোর কোনোটিই নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। জ্বালানী হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ। ভাটাগুলোর সবই স্থাপিত হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার কৃষি জমি এবং ম্যানগ্রোভ বাগানের নিকটবর্তী স্থানে। এছাড়াও রয়েছে পর্যটন এলাকা, স্কুল,শহর রক্ষাবাধ প্রকল্প ঘেষে গড়ে তোলা এসব ইট ভাটার কারনে বিপর্যয় ঘটছে জনস্বাস্থ্যের। ভাটাগুলো লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় ওই সব এলাকার পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।
সরেজমিনে বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক পর্যটন এলাকা ও এওয়াজুপর , আসলামপুর, নীলকমল, আহমদপুর ইউনিয়নসহ তেঁতুলিয়া নদীর পাড় ঘুরে দেখা যায়, ঘনবসতী এলাকায় গড়ে উটেছে অসংখ্য ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ১২০ ফুট চিমনি থাকার কথা থাকলেও ৩০/৪০ ফুটের চিমনির চুল্লি দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। এছাড়াও ওই ভাটাগুলো কৃষি জমিতে গড়ে উঠায় কৃষকের ফসলী জমি কেটে তৈরি হচ্ছে ইট। এতে উজার হচ্ছে ফসলী কৃষি জমি। পাশাপাশি ভাটার চুল্লির ফুলকিতে পুড়ে যাচ্ছে কৃষকের ফসল ও ভাটা সংলগ্ন মানুষের বাড়ির গাছ গাছালি। ঘনবসতি এলাকায় ইটভাটা গড়ে উঠায় বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার হাজার হাজার পরিবার।
মালিকরা জানান, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সাধারনত ১ চিমনির একটি ভাটায় এক মৌসুমে ২৭ থেকে ২৮ লাখ ইট তৈরি হয়। আর দুই চিমনির ভাটায় এক মৌসুমে ৫০ লাখ পর্যন্ত ইট তৈরি করা সম্ভব। এক লাখ ইট তৈরিতে কাঁঠ লাগে ২ হাজার মণ। সেই হিসেব অনুযায়ী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে কোটি কোটি মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তবে প্রকৃত হিসেব এর চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়। ইটভাটা মালিকেরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইন বহিভূত বিধায় অনেক ইটভাটায় অনুমোদন নিতে পারেননি বলেই কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চরফ্যাসনে ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৭টি ইট ভাটা জনবসতিপূর্ণ কৃষি জমি, ম্যানগ্রোভ বাগানের নিকটবর্তী অবস্থান এবং টিন, ব্যারেল,ইট, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি নিষিদ্ধ চুল্লি ব্যবহার করা সহ নানান অনিয়ম বিদ্যমান থাকায় অনুমোদন বিহীন ইটভাটার মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইন বহির্ভূত বিধায় অনুমোদন মেলেনি।
কিছু ভাটা মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরে কোন আবেদন বা অনুমতি না নিয়ে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা।
স্থানীয় বাসিন্ধাদের অভিযোগ, ঘনবসতি এলাকার ইটভাটা গুলো স্থপিত হওয়ায় পুড়ছে বসত বাড়ির গাছ-গাছালি। নষ্ট হচ্ছে কৃষকের আবাদী ফসল। কৃষকের খামার। ইট তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। এতে সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়া কালো ধোঁয়ার কারণে মানুষের ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগ দেখা দিয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাম হোসেন জানান, ইট ভাটা গুলো নিয়ন্ত্রন করে পরিবেশ দপ্তর। এখানে আমাদের কোন হাত নাই। ম্যানগ্রোভ বাগানের কাঠে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে খবর এমন পাইনি। গত বছর একটি ভাটায় পেয়েছি সেটিতে আমারা অভিযান চালিয়েছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলার সহকারি পরিচালক মো.তোতা মিয়া জানান ,আমাদেরকে ম্যানেজের অভিযোগ সঠিক নয়। প্রতিবছর অভিযানকালে নিয়মানুযায়ী ভাটা তৈরি এবং পরিচালনা করার নির্দেশনা দিয়ে অবৈধ ভাটা বন্ধসহ জরিমানা করা হলেও তারা নিয়মের মধ্যে আসছেন না। চলতি মৌসুমে একাধিক ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার এমাদুল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ধরনের ইটভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করব।
মনপুরায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
বিকল্প পথে সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে আরও ১ লাখ টন তেল
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
দেশে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে
হাম প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত: স্বাস্থ্য মন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সংহতি বার্তা
পাম্পের জন্য নির্ধারিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে: জ্বালানিমন্ত্রী
শনিবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ১১ দল
এক লাফে ১২ কেজির এলপি গ্যাসে দাম বাড়ল ৩৮৭ টাকা
এসএসসি পরীক্ষার জন্য ঢাকা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক