অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় খাল খনন ও জলকপাট স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ই মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১৬

remove_red_eye

১০৪

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের চডার মাথা মাছঘাটে খাল পুনঃখনন ও আধুনিক জলকপাট স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলে ও কৃষকরা। মানববন্ধন শেষে ভোলা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ,বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফারাজি, ভোলা জেলা আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সদস্য সচিব ও ভোলা জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. মামুন শেখ, যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন ফরাজী, সদর উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সভাপতি মো. এরশাদ এবং ইলিশা ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের খালগুলো বদ্ধ হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং জেলেরা নৌকা রাখার নিরাপদ জায়গা পাচ্ছেন না। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতি হচ্ছে। ইলিশা ফেরিঘাটের পাশ দিয়ে মৌলভীরহাট কামিল মাদরাসার পেছন দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি পুনঃখনন করে সেখানে আধুনিক জলকপাট স্থাপন করা হলে জেলেদের নৌকা নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষকদের জলাবদ্ধতার সমস্যাও দূর হবে।


ঝড়-বৃষ্টির সময় মৎস্যজীবী জেলেদের নৌকা নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য ১৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইলিশা–রাজাপুর চ্যানেলের খাল দ্রুত পুনঃখনন করে জেলেদের নৌকা ও মৎস্য আহরণ সরঞ্জাম নিরাপদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সকল মৎস্যজীবীকে নিবন্ধনের আওতায় এনে পরিচয়পত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মা-ইলিশ ও ঝাটকা সংরক্ষণ সময় ছাড়া অভিযানের নামে সাধারণ জেলেদের হয়রানি বন্ধ করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দেওয়া এবং জেলেদের জন্য স্বল্প প্রিমিয়ামে বীমা ও পেনশন স্কিম চালু করা।
এছাড়া নদীতে জলদস্যুতা দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স ও নৌ টহল জোরদার করা, চরাঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য পরিবহনে ভর্তুকিযুক্ত নৌযান ও নিরাপদ ঘাট স্থাপন, লবণাক্ততা রোধে রিং বাঁধ, সুইসগেট ও ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, রাসায়নিকমুক্ত সবজি উৎপাদনে মাটি পরীক্ষার যন্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে উপজেলায় হিমাগার স্থাপন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে স্বল্পসুদের ঋণ চালু করা, কৃষিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পেশা ঘোষণা করা এবং সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য লাইফ জ্যাকেট, বয়া, জিপিএস ট্র্যাকার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে ১৫ দফা দাবিতে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
 ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং খাল খননসহ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।