অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে চৈত্র ১৪৩২


১৭ বছর পর লাঠি ভর দিয়ে ভোট দিয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৪

remove_red_eye

৮৩

এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন থেকে:  ৯৭ বছর বয়সে ‎লাঠিতে ভর দিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছেন আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। পাশে তার ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী সাদিয়া বেগম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, তবুও চোখেমুখে দৃঢ়তার ছাপ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও ভোট দিতে এসেছেন তারা। এ যেন শুধু ভোট নয় এ এক অধিকার ফিরে পাওয়ার আনন্দ, এক অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প।
‎বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নের চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এই বৃদ্ধ দম্পতি। ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে ও তার স্ত্রী। 
‎তিনি ধীর পায়ে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। আশপাশের মানুষের চোখে তখন বিস্ময় আর শ্রদ্ধার মিশ্র অনুভূতি। ভোট প্রদান শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আব্দুল মতলব হাওলাদার বলেন, ভোট তো আমার নাগরিক অধিকার। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে মনে সাহস পেলাম। আজ মনের আশা পূরণ হলো। শরীর ভালো না, হাঁটতেও পারি না ঠিকমতো। কিন্তু স্ত্রীর হাত ধরে আসলাম আল্লাহ সহায় হয়েছেন বলেই আসতে পারছি।
‎তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম জানান, স্বামী দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। লাঠি ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তবুও ভোট দেওয়ার আগ্রহ ছিল প্রবল। তার আশা ছিল ভোট দেবে। তাই তাকে নিয়ে এসেছি। সেও ভোট দিয়েছে, আমিও দিয়েছি। আমাদের দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
‎বৃদ্ধ দম্পতিকে ভোট কেন্দ্রে সহযোগীতা করেছেন তাদের প্রতিবেশী রশিদ, তিনি বলেন, তাদেরকে সহযোগিতা করতে পেরে ভালো লেগেছে।
‎চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মো.আসিফ মোস্তফা বলেন, এই বয়সে ও শারীরিক অবস্থায় এসেও ভোট দিতে আসা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। 
‎সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন বলেন,  এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ও ইসলামি আন্দোলন সহ ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 
‎এ আসনের চরফ্যাশনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৫২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন।
‎নির্বাচনকে সফল করতে মাঠে রয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, নৌবাহিনী, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছেন। সকাল থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুন্দর ভাবে ভোট গ্রহণ চলছে, কোথায় কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি।