অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন : নতুন রাজনীতির সূচনা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪শে ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ০৬:৫৫

remove_red_eye

২৩৬

// মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর //

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির আকাশে দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে যে শূন্যতা, হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, (বৃহস্পতিবার) তা এক বিশাল প্রত্যাশার আলোকবর্তিকা হয়ে উদিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যাকে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিহিংসার রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি আগামী ২৫ ডিসেম্বর বীরের বেশে ফিরছেন তার প্রিয় মাতৃভূমিতে। এই দীর্ঘ প্রবাসজীবন কিংবা নির্বাসন কেবল তার ব্যক্তিগত লড়াই ছিল না, বরং তা ছিল বাংলাদেশের লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার এক সুদীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ সংগ্রাম।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারা অন্তরীণ রেখে এবং তারেক রহমানকে ভৌগোলিকভাবে দূরে ঠেলে দিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনাকেই সমূলে উৎপাটন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম এই যে, সত্য ও ন্যায়কে সাময়িকভাবে অবদমিত রাখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা বিজয়ী বেশে আত্মপ্রকাশ করে।

তারেক রহমানের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিকালে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত বন্ধুর এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষমতার লালসায় কিংবা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের নজিরবিহীন ভয়-ভীতিতে দলের বহু নেতাকর্মীকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা হয়েছে বারবার। বিএনপিকে ভেঙে ফেলার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলেছে প্রতিটি স্তরে। কিন্তু সেই চরম দুর্দিনেও দলের ঐক্য যে অটুট ছিল এবং কোনো বড় ধরনের ফাটল ধরেনি, সেটির একমাত্র কৃতিত্ব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুযোগ্য, বিচক্ষণ এবং ধৈর্যশীল নেতৃত্বের। তিনি শুধু নিজের দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, বরং দেশের গণতন্ত্রকামী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝেও এক অনন্য ঐক্যের সেতু নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা যে, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকেও একজন নেতা কেবল ভিডিও কনফারেন্স এবং সাংগঠনিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি বিশাল রাজনৈতিক জোটকে অভিন্ন লক্ষ্যে স্থির রাখতে পেরেছেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো, যা সকল মতের মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে গেঁথে রেখেছিল।

তারেক রহমান ভৌগোলিক দূরত্বকে তুচ্ছ করে নিজের সাংগঠনিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রান্তিক কর্মী পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ রক্ষা করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিটি গ্রামে সংগঠনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। ফ্যাসিস্ট শক্তি তাকে দেশের মাটি থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও জনগণের হৃৎস্পন্দন থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, বরং দিন দিন তিনি হয়ে উঠেছেন শোষিত মানুষের ভরসাস্থল। বিএনপিকে খণ্ড-বিখণ্ড করার সকল চক্রান্ত তিনি অত্যন্ত দৃঢ় হাতে দমন করেছেন, যা তার সাংগঠনিক পরিপক্বতারই প্রমাণ দেয়। তার এই নেতৃত্ব কেবল বিএনপিকে রক্ষা করেনি, বরং দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্রকামী শক্তিকে একটি মেরুদণ্ড প্রদান করেছে।

আজ দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে। দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ যখন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হয়ে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করেছে, এমন এক সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে বাঁচার আশার সঞ্চার করেছে। তিনি কেবল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে ফিরছেন না, বরং তিনি ফিরছেন এক নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ রূপকল্প নিয়ে। তার নির্দেশিত ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা’ আজ সারা দেশে এক গণসনদে পরিণত হয়েছে। এই ৩১ দফার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে এমন এক রাষ্ট্রের নকশা উপস্থাপন করেছেন, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং নাগরিক অধিকার হবে প্রশ্নাতীত।

এই রূপকল্প কেবল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনা। সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের যে স্বপ্ন তারেক রহমান দেখিয়েছেন, তা দেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ— সকলের মধ্যেই উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের মেধা, দূরদর্শিতা এবং আধুনিক চিন্তাধারা এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলেই আজ সর্বস্তরের মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস করে। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রবাসজীবনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন কাছ থেকে দেখেছেন, যা তাকে একজন বিশ্বমানের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তুলেছে। দেশের মানুষ আজ মনে করে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবেই সমৃদ্ধ হবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাঠে লড়াই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিটি ধাপে তার উপস্থিতি আজ অপরিহার্য।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সুবাতাস বয়ে আনবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে তিনি এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমঝোতামূলক রাজনীতির পথ দেখাচ্ছেন। সেই আশাবাদ আজ কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইং রুম পর্যন্ত আজ একটাই আলোচনা— তারেক রহমান ফিরছেন। এই ফেরা মানেই হলো অন্ধকারের অবসান, এই ফেরা মানেই হলো ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। সাধারণ মানুষের এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশাকে ধারণ করেই তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের জাতীয় নেতার আসনে আসীন হয়েছেন।

তারেক রহমানের এই ঘরে ফেরা কেবল একজন ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের লুণ্ঠিত মানচিত্রের পুনরুত্থান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তার এই পদধ্বনি নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন নবপ্রাণের জোয়ার এনেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝেও এক গভীর স্বস্তি বয়ে এনেছে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আজ স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই কেবল আসন্ন নির্বাচনে এক বিশাল বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব এবং তার স্বপ্নের হাত ধরেই দেশ এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং তা এক নতুন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সূর্যোদয়ের শুভ সূচনা। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন এবং যা বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়া আজীবন সংগ্রাম করেছেন, সেই স্বপ্নের পূর্ণতা দিতেই আজ তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন।

*লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)*

 

 

সুত্র: বাসস





তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

আরও...