অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২১ | ১৪ই মাঘ ১৪২৭


ভোলায় করোনা আক্রান্তদের সুস্থতার হার ৭০ শতাংশ


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ২১শে জুলাই ২০২০ সকাল ১০:৪৭

remove_red_eye

৩৬৬

অচিন্ত্য মজুমদার: ভোলায় এক লাফে গত ৫ দিনে করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার হার ৭০ শতাংশে উঠে এসেছে। ২০ জুলাই পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত ৪৫৬ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে  ৩১৮ জন। অর্থাৎ  এ পর্যন্ত জেলায় মোট শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সুস্থতার হার ৭০ শতাংশ। সুস্থ হওয়া ৩১৮ রোগীর মধ্যে ২৭৯ জন বাড়িতে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগী তাঁদের নিজেদের বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়েছেন। বাকি রোগীরা ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ভোলা সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রের দেয়া তথ্য বিশ্লেষন করে জানাগেছে, গত ৩১ মে পর্যন্ত জেলায় ৪৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয় ১১ জন। ওই মাসে সুস্থতার হার ছিল ২৪ শতাংশ। এরপর ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় ২৮৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয় ১০০ জন। অর্থাৎ জুন মাসে সুস্থতার হার ছিল ৩৫ শতাংশ। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিন পর্যন্ত জেলায় ৪১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয় ২৩৬ জন। ওই মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সুস্থতার হার ছিল ৫৭ শতাংশ। এর পরবর্তি ৫ দিনে অর্থাৎ ২০ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৪৫৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয় ৩১৮ জন।  ফলে ২০ জুলাই পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট শনাক্ত রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশের মতো।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, ভোলা সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৯৮ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৪৬ জন, বোরহানউদ্দিনে আক্রান্ত ৬০ জনের মধ্যে সুস্থ ৩৯ জন, দৌলতখানে আক্রান্ত ৩৫ জনের মধ্যে সুস্থ ৩০ জন, লালমোহনে আক্রান্ত ৪৬ জনের মধ্যে সুস্থ ৩৬ জন, তজুমদ্দিনে আক্রান্ত ৩৮ জনের মধ্যে সুস্থ ১৬ জন, মনপুরায় আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে সুস্থ ১৪ জন ও চরফ্যাসনে আক্রান্ত ৫৩ জনের মধ্যে সুস্থ ৩৭ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, সার্বক্ষণিক ফলো আপ করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশের জটিল কোনো উপসর্গ না থাকা এবং তুলনামূলক ভাবে জেলায় বয়স্ক ও শিশুরা কম আক্রান্ত হওয়ায় করোনা রোগীরা দ্রুত সেরে উঠছেন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সুস্থ হয়ে ওঠা বেশ কয়েকজন রোগী ও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত হলে কোনো প্রকার ভয় বা গুজবে কান দিয়ে মনোবল দৃঢ় করতে রাখতে হয়। জটিল কোনো উপসর্গ দেখা না দিলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করলে বাড়িতে থেকেই কোভিড-১৯ রোগ থেকে সেরে ওঠা সম্ভব বলে জানান তারা।

এব্যাপারে ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ওয়াজেদ আলী বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ হতে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। আক্রান্তের লক্ষণগুলোর মাত্রা, বয়স ও রোগীর অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে তাঁদের সেরে উঠতে কত সময় লাগবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, ভোলায় করোনায় আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীর মধ্যে দেখা দেওয়া লক্ষণগুলো হালকা ধরনের। ফলে তাঁরা দ্রুত সেরে উঠছেন। শুরুতে করোনা রোগীর সেরে ওঠার হার কম থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তখন আক্রান্ত রোগীর নমুনার রিপোর্ট পরপর দুই বার নেগেটিভ হলে তাকে সুস্থ ঘোষনা করা হলো। কিন্তু এখন দুই সপ্তাহ পরে রোগীর কোন উপসর্গ না থাকলে তাকে সুস্থ ঘোষনা করা হয়। এতে করে বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের দ্রুত সেরে ওঠার প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।