অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলার কুরবানীর হাটে নজর কাড়ছে ২২ মন ওজনের রাজা বাবুর


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩রা জুন ২০২৫ সকাল ১০:২৭

remove_red_eye

১৫৩

 দাম হাঁকিয়েছে ৬ লাখ টাকা

 

ইকরামুল আলম : ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জে গত শনিবার গরুর হাটে কুরবানির ঈদ উপলক্ষে শত শত গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। পুরো হাটে অসংখ্য গরু থাকলেও ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি নেই। তবে হাটের এক কোনায় মানুষের জটলা দেখা যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। এটিকে ঘিরেই উৎসুক মানুষজন সেখানে ভীড় করছেন। মানুষের জটলা ঠেলে ষাঁড়টি কাছে গিয়ে দেখা যায়, চতুর্দিক থেকে ষাঁড়টিতে ঘিরে রেখেছেন উৎসুক মানুষ। শিশুরাও এটিকে দেখে আনন্দ উপভোগ করেছেন। ষাঁড়টির মালিক ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের খামারী মো. আল আমিন।

আল আমিন জানান, এই প্রথম তিনি ষাঁড়টিকে বাজারে তুলেছেন বিক্রি করার জন্য। তবে এখনো বাজারের কোনো ক্রেতা দাম বলেনি। সবাই এসে ষাঁড়টির দাম জিজ্ঞেস করেই ফিরে যাচ্ছেন। তিনি ষাঁড়টির দাম হাঁকাচ্ছেন ৬লাখ টাকা। ষাঁড়টির লাইভ ওয়েট হচ্ছে ২০ থেকে ২২মন। তবে তাঁর বাড়িতে এসে ষাঁড়টির দাম সাড়ে চার লাখ টাকা বলে গেছেন এক ক্রেতা। তিনি সাড়ে ৫লাখ টাকা হলে ষাঁড়টি বিক্রি করে দিবেন।

সরেজমিনে খামারী আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, আল আমিনের বসত ঘরের পিছনে ছোট্ট একটি যায়গায় দুইটি ঘর তুলে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। সেখানে ছোট-বড় ২০টির অধিক গরু রয়েছে। বতর্মানে যায়গা সংকুলান না হওয়ায় অন্যের বাড়িতেও চারটি গরু রেখেছেন। সবগুলো গরুই উন্নত জাতের। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটিই এখন সবার নজর কারছে। সেটিকে আলাদাভাবে সেবাযত্ন করেন খামারী আল আমিন ও তার পরিবার।

খামারী আল আমিন জানান, তিনি গত ১০ বছর আগে ভোলা শহরের একটি মুদি দোকানে কাজ করতেন। ওই দোকান থেকে বিভিন্ন খামারীরা গরুর জন্য খইল-ভুসি কিনে নিতেন। তখন খামারীদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক হলে তার মনে গরুর খামার করার স্বপ্ন জাগে। পরে মুদি দোকানের কাজ ছেড়ে দিয়ে ৭০ হাজার টাকায় একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর বাছুর ক্রয় করে নিজ বসত ঘরের পিছনে একটি ঘরে লালন-পালন শুরু করেন গরুটিকে। সেই একটি গরু থেকে তার খামারে এখন ২৫টি গরু রয়েছে।

গত দুই বছর আগে তার খামারে একটি গরু ষাঁড় বাচ্চা জন্ম দেয়। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের গরুর বাচ্চাটি দেখতেও অনেক বড়সড় ছিলো। তাই তিনি সেটিকে বড় করার পরিকল্পনা নেন। সেটির নাম দেন ‘রাজা বাবু’। সেটিকে নিজের সন্তনের মতো আদরযত্ন করে লালন-পালন করতে গিয়ে তার সাথে সখ্যতা তৈরী হয় গরুটির। এমনকি খামারী আল আমিন ষাঁড়টিকে নাম ধরে ডাকলেই সেটিও তাঁর ডাকে সারা দেয়। আল আমিন ছাড়া অন্য কেউ সেটির কাছে যেতে পারেন না। ষাড়টিকে ভুট্টা, ভুসি ও কাঁচা ঘাস খাওয়ান। ষাঁড়টির পিছনে দৈনিক ৫০০ টাকা খরচ হয় আল আমিনের। অনেক আদরযত্ন করে বড় করায় ষাঁড়টির প্রতি মায়া জন্মেছে আল আমিনসহ তার পরিবারের। তাঁর এই খামারের কাজে স্ত্রী, মা-বাবাও সহযোগিতা করে থাকেন। আল আমিনের দাবি তার খামারের ‘রাজা বাবুই’ ভোলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু।

আল আমিনের স্ত্রী মোসা. সুমাইয়া জানান, চার বছর আগে আল আমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর গরুর খামারের কাজে তিনি সহযোগীতা করে আসছেন। গরুর খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে গোসল করানো এ সকল কাজও করে থাকেন। তাদের খামারে ২৫টি গরু থাকলেও ২২ মন ওজনের রাজা বাবুর প্রতি পরিবারের সকলের আলাদাভাবে টান রয়েছে। এটি তার স্বামীর সখের গরু। গরুটি বিক্রি করবে শুনে তাদের কষ্ট হচ্ছে। তবে কিছু করার নেই টাকার প্রয়োজনে বিক্রি করে দেবেন। কোনো ক্রেতা গরুটি দেখতে আসলে তাদের চোখে পানি চলে আসে।

 

আল আমিনের বাবা মোজাম্মেল হক জানান, তার ছেলের খামারে বর্তমানে ২৫টি উন্নত বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। এগুলোকে ঘাস, খরকুটা, ভুসি খাওয়ানো হয়। বর্তমানে ৯টা গাভী দৈনিক ১৫০ লিটার দুধ দেয়। খামারটিতে রাজা বাবু নামের ষাঁড়টি সবচেয়ে বড়। এটির ওজন ২২মনের মতো। গরুটি বিক্রির কথা শুনে প্রতিদিন স্থানীয় লোকজন গরুটিকে দেখতে ছুটি আসেন তাদের বাড়িতে। এটির দাম দেওয়া হয়েছে ৬লাখ টাকা। সাড়ে চার লাখ টাকা দাম বলেছে। এখন ঈদের আগে আরো হাট আছে সেগুলোতে উঠানো হবে। আশানুরূপ দাম পেলে বিক্রি করে দিবেন।

স্থানীয়রা জানান, আল আমিন খামার নিয়ে অনেক কষ্ট করেন। বাড়িতে নিজেদের ঘরভিটা ছাড়া তেমন যায়গা না থাকলেও বসত ঘরের পিছনে অল্প যায়গার মধ্যে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। একটি গরু থেকে শুরু করে তার খামারে আজ ২৫ টি গরু রয়েছে। তার খামারের ‘রাজা বাবু’ নামের একটি ষাঁড় রয়েছে। যেটি দেখতে অনেক বড়। ভোলার কোনো খামারে এতো বড় গরু নেই। গরুটি বিক্রির কথা শুনে সেটিকে দেখতে প্রতিদিন অনেক লোকজন আসে। আল আমিনের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেকে খামার দিয়ে লাভবান হয়েছেন।

ভোলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, খামারী আল আমিনের খামারে ৮০০০কেজি ওজনের একটি ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড় রয়েছে। এটি লালন-পালনে প্রথম থেকেই প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।