অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


ভোলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন হলেও ডাক্তারের অভাবে চালু হচ্ছে না


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮শে জুন ২০২০ বিকাল ০৪:১৩

remove_red_eye

৩৩৪





মানুষের ভোগান্তি ,করোনা ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা 



হাসিব রহমান : ভোলায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হলেও তা চালু না হওয়ায় চরম বিপাকে রয়েছে এলাকার সাধারন মানুষ। বাধ্য হয়ে করোনা শনাক্ত করার জন্য স্থাস্থ্যবিভাগকে ভোলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। কিন্তু রির্পোট আসতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগায় করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের দেয়া নমুনা পরীক্ষায় জট লেগেছে। দ্রæত রির্পোট না আসায় সন্তেভাজন ও আক্রান্ত রোগীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।  ফলে একদিকে যেমন মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে পাশাপাশি করোনা সংক্রমন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা  দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলায় ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ভোলায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রচেষ্টায় গত ১৪  জুন করোনা ভাইরাস শসাক্ত করার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। তার পর গত ২১ জুন ওই ল্যাবটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুুত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ল্যাব বুঝিয়ে দেয়া হয় বলে জানান হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: সিরাজ উদ্দিন । কিন্তু পরীক্ষা ল্যাবে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ২জন  ডাক্তারের অভাবে ল্যাবটি চালু করা যাচ্ছে। এদিকে ভোলায় পিসিআর ল্যাব চালু না হওয়ায় করোনা উপসর্গ সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও নমুনা পরীক্ষার জন্য জেলার বাইরে ঢাকা বা বরিশাল পাঠাতে হয়। এতে করে ৮/১০ দিন সময় লেগে যায় রির্পোট ভোলায় আসতে। ভোলা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবে শনিবার পর্যন্ত ৬৬৩ জনের নমুনা রির্পোট এখনো আসেনি। নমুনা পরীক্ষার জট লাগায় হাসপাতালে নতুন রোগীদের নমুনা সংগ্রহের পরিমানও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে  রির্পোট আসতে বিলম্ব হওয়ায় নমুনা দেয়া ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত কিনা স্বল্প সময়ে জানতে পারছে না। নমুনা দেয়া ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংর্স্পশে আসা ব্যাক্তি নিজে যেমন সংক্রমিত হচ্ছে তেমনি অন্যদেরও সংক্রমিত করছেন। এতে ভোলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা। এছাড়া করোনা পরীক্ষায় জট লাগায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহ কমিয়ে দেওয়ায় অনেক রোগী  তাদের নমুনা দিতে পারছে না । ভোলায় সরকারি হাসপাতাল ছাড়া বেসরকারি ভাবে কোন ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারে করোনা পরীক্ষা না হওয়ায় এতে করে মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে তত্বাবধায়ক ডা: সিরাজ উদ্দিন জানান, ভোলায় পিসিআর ল্যাব চালু করে এক সিফটে ২ জন ডাক্তার ও ৯ জন টেকনোলজিষ্ট দরকার। ল্যাব চালুর জন্য জনবল নিয়োগের কাজ চলমান। ২জন ডাক্তারের মধ্যে ১ জন হাসপাতালে যোদান করেছেন। কিন্তু তিনি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নন। তাই প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞ ২ জন ডাক্তার নিয়োগ হলে  পিসিআর ল্যাব চালু হবে।ভোলায় পিসিআর ল্যাব চালু হলে ২/৩ দিনের মধ্যে মানুষ নমুনা পরীক্ষার রির্পোট পাবে। তবে কবে নাগাদ ল্যাব চালু হবে তা তিনি নিশ্চিত করে তিনি বলতে পারেননি।