অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২৯শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলার ৬ দফা দাবী বাস্তবায়নে আবারো লাগাতার আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০শে মে ২০২৫ সন্ধ্যা ০৭:৪৬

remove_red_eye

৪৫৩

এইচ আর সুমন: ভোলার  স্বার্থ রক্ষায়, 'ঘরে ঘরে গ্যাস চাই, ভোলার গ্যাস ভোলায় চাই', ভোলা - বরিশাল সেতু, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে  আবারো লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জেলার স্বার্থরক্ষায় গঠিত ‘আমরা ভোলাবাসী নামে একটি প্লাটফর্ম।

মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এক কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের আহবায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।
সংবাদ সম্মেলণে জানানো হয়, বার বার আশ্বাস দিয়েও ভোলার মানুষের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার মেনে নিচ্ছে না। সে কারণে ভোলার প্রতিটি ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও জেনারেল হাসপাতাল আধুনিকায়ন, ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজ শুরু করা, গ্যাস ভিত্তিক শিল্পকারখানা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় ছয় দফা ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসাবে ২৪ মে শনিবার শহরের বাংলা স্কুল মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সেখান থেকে সুন্দর বন ও ইন্টাকো অফিস অভিমুখে পদযাত্রা ও ঘেরাও করা হবে।

সংবাদ সম্মেলণে লিখিতভাবে জানানো হয়, ভোলাবাসীকে উপেক্ষা করে গ্যাস জেলার বাইরে নেয়া কোনভাবে গ্রহণযোগ্য না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাইপের মাধ্যমে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। গ্যাস সরবরাহের জন্য ভোলা পৌরসভা ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানী প্রায় ৫০ কিলোমিটার সংযোগ পাইপ বসিয়েছে। ওই লাইন দিয়ে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব। মাত্র ২ হাজার ৩৫ জন গ্রাহককে সংযোগ দেয়ার পর বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু ভোলার গ্যাস এলপিজি আকারে সিলিন্ডারে করে কম দামে ঢাকা গাজিপুর নিয়ে ব্যবহার করছে। এ প্রক্রিয়াকে বৈষম্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এমন বৈষম্য দূর করার দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ছাত্র-জনতা ঢাকায় গ্যাস নেয়া বন্ধ করে দেয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৮ মে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মইনউদ্দিনের নেতৃত্ব উচ্চ পর্যায়ের একটি দল ভোলা সফর করে ‘ভোলা-বরিশাল’ সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। বাকী দাবির বিষয়ে উর্ধবতণ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্তের আশ্বাসে আন্দোলন সাত দিনের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পাইপ লাইনে সংযোগের পরিবর্তে ১৪ মে ঢাকা থেকে সরকারি দামে ৫৬৮ টি সিলিন্ডার গ্যাস ভোলায় পাঠানো হয়। কিন্তু ওই গ্যাস প্রত্যাক্ষাণ করে ভোলাবাসী। এদিকে দাবি পূরণ না হওয়ায় ও দাবির বিষয়ে স্পষ্ট কোন ঘোণষা না আসায় আবারও আন্দোল কর্মসূচি দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে আরও বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির  সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির মাষ্টার জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক, বশির হাওলাদার, ভোলা সু-শাসনের জন্য জনগনে (সুজন)র সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের যুগ্ম-সম্পাদক এম ওবায়েদুর রহমান বিন মোস্তফা প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ভোলা দারুল হাদীস আলীয়া মাদরাসার উপধ্যাক্ষ, ভোলা জেলা মুসলীম ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।