অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় শীতের শুরুতে ৩২ রকমের ভর্তায় পিঠা বিক্রির ধুম


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪শে নভেম্বর ২০২৪ রাত ০৯:৫৬

remove_red_eye

২৯৪

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : শীত মানেই বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য পিঠা পুলির উৎসব। কিন্তু কালের বিবর্তনে ঘরে ঘরে এখন আর আগের মতো পিঠা বানানোর ধুম নেই। গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু বাড়িতে পিঠা তৈরি করতে দেখা গেলেও শহুরের এলাকায় সেই চিত্র একদম নেই বললেই চলে। ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির প্রবণতা কমে গেলেও পিঠার স্বাদ গ্রহণের ইচ্ছা বাঙালির কমেনি। আর তাই উপক‚লীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় শীত শুরু হতে না হতেই জমে উঠেছে শীতের পিঠা বেঁচা বিক্রির রমরমা ব্যবসা ও খাওয়ার উৎসব। মৌসুমী পিঠা ব্যবসায় লাভ জনক হওয়ায় অনেকই ঝুঁকে পড়েছে এ ব্যবসায়। বিশেষ করে ভোলায় এ বছর এই প্রথম পিঠার সাথে সুটকি, ধনিয়া, টাকি মাছ, কলা. ইলিশ, শরিসা, টমেটো, পটল, কাচা মরিচ, শুকনা মরিচ, নাড়িকেল ভর্তাসহ ৩২ আইটেমের ভর্তা যেন নতুন একমাত্রা যোগ করেছে। এ ছাড়াও রয়েছে খেজুরের গুড়, আখের গুড়তো আছেই।

ভোলা সদর উপজেলার কালীনাথ রায়ের বাজার হাট খোলা মসজিদে সামনে রাস্তার পাশে সন্ধ্যা হলেই ভীর শুরু হয়। আগে ২ বা ৩ ধরনের ভর্তা দিয়েই চলতো পিঠা বিক্রি। কিন্তু এবছর অস্থায়ী ছোট একটি দোকানে ৩২ রকমের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়ার ধুম পড়েছে। গরম গরম ধোয়া ওঠা চিতই পিঠার সাথে ৩২ ধরনের ভর্তার স্বাদ আবার গুর, নারিকেল ও গুড় মিশ্রিত ভাপে তৈরি ভাপা পিঠার স্বাদই অতুলনীয়। মন ভরে সেই স্বাদ গ্রহণ করতে পেরে খুবই খুশি সাধারণ মানুষ।
দূর দূরান্ত থেকে বন্ধুদের নিয়ে কেউ পিঠা খেতে আসেন। আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য বাসায় নিয়ে যান। ৩২ আইটেমের ভর্তা দিয়ে চিতই ও নারিকেল গুড় দিয়ে পিঠা বিক্রি করেন মোঃ কাওসার। শহরে এমন তার আরো ২টি পিঠার দোকান রয়েছে। প্রতিদিন ৩টি দোকান থেকে গড়ে ৩০/৩৫  হাজার টাকার অধিক পিঠা বিক্রি হচ্ছে। যদিও তিনি বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন সব মিলিয়ে ভালো আছেন বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

কাওসারের ছোট ভাই শাজাহান মাঝি তিনি শহরে পিঠার একটি দোকান পরিচালনা করেন। পিঠা বিক্রি করে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান। এখন ৩০ আইটেমের ভর্তা দিয়ে পিঠা বিক্রি করলেও পুরোপুরি শীত এলেই ৭০ আইটেমের ভর্তা দিয়ে বিক্রি হবে পিঠা। মৌসুমী পিঠার দোকানগুলো গড়ে ওঠায় সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। পিঠার দোকানে কাজ করা লোকজন আয় রোজকার ভালো আছেন বলে জানান।

এদিকে শীত মৌসুমে ভোলায় জিলাপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জিলাপি বিক্রেতারা। পুরো বছরে শীতের সময় ও রমজানে তাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের নতুন বাজার, কালীনাথ রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় জিলাপির দোকানগুলোতে চলে বেচাকেনার ধুম। কেউ বন্ধু বান্ধব নিয়ে গিয়ে বসে খাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পরিবার পরিজনের জন্য কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। জিলাপি খেতে আসা ক্রেতারা জানান, এ জিলাপি সব সময় পাওয়া যায় না। শীত এলেই এর দেখা মিলে। বিশেষ করে শীতেই জিলাপি খেতে বেশি ভালো লাগে। আর সেই ভালো লাগা থেকেই এখানে এসে জিলাপি খাওয়া।
ভোলা শহরের নতুন বাজারের জিলাপি বিক্রেতা নুরু ইসলাম জানান, এটা তার পারিবারিক ব্যবসা। তার দোকানে দৈনিক ৭০-৮০ কেজি জিলাপি বিক্রি হয়। দুই ধরনের জিলাপি এখানে পাওয়া যায়। গুড়ের ও চিনির। চিনির জিলাপি প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৪০-১৫০ টাকা এবং গুড়ের টা বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা। প্রতিদিন তার গড়ে ১০-১২ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশী খাবারের ভীড়ে যখন হাড়িয়ে যেতে বসেছে পিঠা পুলি ও জিলাপির মতো রকমারি গবেষণা  বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার। তখন ভোলার বিভিন্ন এলাকায়  শীত মৌসুম নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শীতের পিঠা ও জিলাপি বিক্রি হচ্ছে । এতে করে এক দিকে মানুষ যেমন পিঠার স্বাদ নিতে পারছে।