অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলার বিশিষ্ট সার ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ ঢাকা থেকে নিখোঁজ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ই নভেম্বর ২০২৪ রাত ১০:৪৫

remove_red_eye

২২৫



মোবাইলে পরিবারের কাছে ১ লক্ষ টাকা দাবী


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা শহরের মহাজপট্রি এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেক সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আহমেদ  ট্রেডার্সের মালিক মো: সুলতান আহমেদ মিয়া গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ। সোমবার ৪ নভেম্বর রাতে তিনি ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। রাত ৯ টায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তার কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইলে একটি নাম্বার থেকে সুলতনান আহমেদ মিয়ার পরিবারের কাছে ১ লক্ষ টাকা দাবী করা হয়েছে। ভোলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর পরিবার ঘটনাটি ভোলা মডেল থানায় জানিয়েছেন।


সুলতান আহমেদ মিয়ার পরিবার জানান, তিনি ব্যবসায়ীক ব্যাক্তিগত কাজে গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভোলা থেকে কর্নফুলী লঞ্চযোগে ঢাকায় যান। তিনি ঢাকায় পৌছে হোটেল পীর ইয়ামিনিতে ওঠেন। সোমবার রাত ৯ টা ৪৯ মিনিটে তিনি তার স্ত্রীকে শেষ বারের মতো মোবাইলে ফোন দিয়ে জানান, তিনি ওই রাতে ঢাকা থেকে রাজারহাট লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা  দিয়েছেন। তার মোবাইলে চার্জ নেই বন্ধ হয়ে যাবে। চার্জার হোটেলে ফেলে আসেন। লঞ্চে গিয়ে লঞ্চের বয়দেও কাছ থেকে চার্জার ম্যানেজ করে মোবাইলে চার্জ দেওয়ার কথাও বলেন তার স্ত্রী। কিন্তু তার পর আর রাতে স্ত্রীর সাথে কথা হয়নি। তবে রাত পৌনে ১১ টায় ভোলায় সুলতনান আহমেদ মিয়ার ব্যবসার পরিচালনাকারী শ্যালক মিজানের সাথে তিনি কথা বলেন। বেচো কেনা কতো হয়েছে দোকানে  খবর নেন। টাকা পয়সা কাছে রাখতে বলেছেন। টাকা পয়সা লাগবে বলে ফোনে বলেন। পরিবারের সদস্যরা ভেবে ছিলো সকালে তিনি ভোলায় এসে বাসায় পৌছবেন। কিন্তু সকালে তিনি আর আসেননি। তার পর অনেক খোঁজা খুজি করেও তার কোন হদিস না পেয়ে তারা ভোলা থানা পুলিশের সহায়তা পেতে জিডি করতে যান। ভোলা থানার ওসি তাদের বলেন, পুলিশ ট্রাকিং করে তার সর্ব শেষ মোবাইলে কথা বলার লোকেশন টঙ্গী গাজীপুর পেয়েছেন। তাই ভোলা থানায় মামলা দিয়ে কোন উপকার হবে না । করতে হবে ঢাকায়। গুলিস্তান যেই হোটেলে ছিলো। সেই এলাকার থানায়।
সুলতান আহমেদ মিয়ার স্ত্রী আরো জানান, তারা ঢাকা হোটেল পীর ইয়ামিনীতে যোগাযোগ করেছেন। হোটেল ম্যানেজার জানিয়েছেন সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় তিনি হোটেল ত্যাগ করেন ভোলায় আসার উদ্দ্যেশে।
সুলতান আহমেদ মিয়া নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া হলে সন্ধ্যার সময় এক ব্যাক্তি ফোনে বলেন, তিনি তাদের কাছে অচেতন অসুস্থ অবস্থায় আছেন । সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ০৯৬৭৮৬৩৬৭৩৫ নাম্বার থেকে মোবাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা রেডি করে রাখতে বলেন। তার পর আমরা বলবো কোন নাম্বারে টাকা পাঠাতে হবে। কিন্তু সুলতান আহমেদ মিয়ার সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো: হাচনাইন পারভেজ জানান, সুলতান আহমেদ মিয়া ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে বলে তার পরিবার তাদের জানিয়েছেন। তার পরিবার বলেছেন লঞ্চ ওঠেছে। পরে তিনি লঞ্চে খোজ নিয়েছেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলেছেন, এমন কোন ব্যাক্তি লঞ্চে ওঠেনি। তার পর সুলতনান আহমেদ মিয়ার মোবাইলের শেষ কল লোকেশন দেখেছেন টঙ্গী রেল এলাকায় । এ বিষয়ে ভোলা থানায় এখনো কোন জিডি হয়নি। ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ায় ঢাকাতেই জিডি করা লাগবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।