অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় আজ মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ ধরা শুরু


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২রা নভেম্বর ২০২৪ রাত ০৮:৫১

remove_red_eye

৫৭২

উঠে যাচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দুই লক্ষাধিক জেলে ধারদেনা পরিশোধ করে দেখছেন ঘুরে  দাড়ানোর স্বপ্ন
 


হাসিব রহমান : ইলিশা মাছের প্রজনন বৃদ্ধি করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা। ভোলা জেলার দুই লক্ষাধিক জেলেরা নতুন উদ্দ্যোমে নদীতে মাছ ধরা শুরু করার জন্য প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।  মৎস্য ঘাট ও জেলে পল্লীতে আনন্দ আমেজ বিরাজ করছে। জেলেরা তারা এখন বিগত দিনের ধারদেনা কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

 সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা মেঘনা নদীর তীরে মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কেউ নৌকা মেরামত করছে। কেউবা ট্রলারে আলকাতরা রং করে শেষ সময়ের ইঞ্জিনের খুঁটিনাটি ত্রæটি গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন। জেলেরা তাদের নৌকা, জাল গুছিয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। রবিবার রাত ১২ টার পর নদীতে মাছ ধরতে নেবে যাবেন। প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পেলে
২২ দিনের ক্ষতি পুষিয়ে সকল ধার দেনা কাটিয়ে উঠার স্বপ্ন দেখছেন জেলেরা।মৎস্য আড়ৎ গুলোতে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এমনটাই মনে করছেন আড়ৎদাররা।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের প্রধান প্রজজন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার জন্য গেলো ১৩ অক্টোবর থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার জারি করা হয়। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়ে। বিকল্প কোন কর্ম সংস্থান না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে গত ২২ দিন জেলেরা চরম দুভোর্গে দিন কাটে। অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে ধার দেনা করে সংসার চালিয়েছে।  এখন সময় এসেছে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার।
মৎস্য বিভাগের হিসেবে , ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লক্ষ ৬৮ হাজার ৬৪৭ জন। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কালীন সরকারি  ভিজিএফ’র ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৯০০জেলের জন্য।  নিবন্ধিত জেলের বাইরে আরো লক্ষাধিক জেলে রয়েছে। তাই সকল জেলের ভাগ্যে চাল জুটেনি। অভাব অনটনে ও আক্ষেপে কেটেছে তাদের সংসার।অন্যদিকে এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তি   
নেয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকা সত্তে¡ও বন্ধ ছিল না কিস্তির টাকা তোলা। তাই ভোগান্তির মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলেছিলো বলে জানান জেলেরা। তারা বলছেন,কাঙ্ক্ষিত  ইলিশ জালে ধরা পড়লে বিগত সকল ধার দেনা কাটিয়ে উঠতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা জেলে ও আড়ৎদারদের।

তারা বলেন,,প্রকৃত জেলেদের সনাক্তকরনের মাধ্যমে নতুন করে জেলে কার্ডের তালিকা প্রনয়ণ কর যাতে হয় ।পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদন রক্ষায় নদীতে বাধা ও খুটি জাল অপসারণে দাবিও জানান জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব সাংবাদিকদের জানান, জেলেদের ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।তাই এ অর্থ বছরে ইলিশ উৎপাদনে যে লক্ষমাত্রা তা অর্জিত হবে বলে আশা করেন এ কর্মকর্তা।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এ অর্থ বছরে ভোলায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । ইতোমধ্যে  সেপ্টেম্বর ২০২৪ মাস পর্যন্ত ৬৮ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ এ জেলায় উৎপাদন হয়েছে।