অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৮ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় ভুল চিকিৎসায় গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০শে আগস্ট ২০২৪ রাত ০৯:৪২

remove_red_eye

২৭৯

             তদন্ত কমিটি গঠন

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার এশিয়া মেডিকেল সেন্টার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় গর্ভের সন্তানসহ সোনিয়া বেগম নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ওই মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনজেকশন পুশ করার পরই প্রসুতির মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। তবে হর্ঠাৎ প্রেসার কমে যাওয়ায় দূর্ঘটনার কথা বলেছে ক্লিনিক কৃর্তপক্ষ। এদিকে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিভিল সার্জন ওই ক্লিনিক সব ধরনের ডেলিভারি বন্ধের পাশাপাশি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
 
নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার বিকালে হেটেই বাড়ি থেকে জেলা সদরে আসেন সন্তানসম্ভবা সোনিয়া বেগম (২৫)। ভর্তি হন এশিয়া মেডিকেল সেন্টার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় গর্ভের সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের স্টাফরা স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখ দিয়ে রক্ত উঠে সোনিয়ার মৃত্যু হয়। ভর্তির পর কোন ডাক্তার ওই রোগিকে দেখেন নি। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া স্টাফদের দেয়া চিকিৎসা ভুল বলে দাবি স্বজনদের। মানা হয়নি চিকিৎসার কোন নিয়মনীতি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা। রাতে এশিয়া মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের নয় বছরের শিশু হাবিব মায়ের মৃত্যুতে  স্বজনদের সাথে আহাজারী। কোন আশ্বাসেই থামছে না হাবিবের কান্না। সাথে আসা স্বজনরাও শোকে কাতর।
 
এদিকে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনা স্থলে আসেন সিভিল সার্জন ডা. কেএম শফিকুজ্জামান ও সদর মেডল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন। সিভিল সার্জন জানান, একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তির পর একজন এমবিবিএস ডা. করণীয় ঠিক করে দিবেন। এ রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে তা পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য  সিনিয়র কনসালেেটন্ট (গাইনি) ডা. সুরাইয়া ইয়াসনুরকে প্রধানকরে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। যারা সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিবেন। তদন্তে অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই হাসপাতালে সব ধরেন ডেলিভারি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব নার্স কর্মরত ছিলেন তাদের সার্টিফিকেট দেখা হবে। পুলিশ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।
নিহত সোনিয়া বেগমের বাড়ি সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে। তার স্বামী মো. কামাল ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন এবং এ দম্পত্তির হাবিব নামের নয় বছরের এক সন্তান আছে।