অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


ইডেন ছাত্রীর বিয়ের দাবীতে মিথ্যা অপপ্রচার থেকে মুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯শে এপ্রিল ২০২৪ সন্ধ্যা ০৬:৪৯

remove_red_eye

২৮৩

মোঃ ইসমাইল : ভোলার চরফ্যাশনে ইডেন কলেজ ছাত্রীর বিয়ের দাবীতে মিথ্যা অপপ্রচার থেকে মুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান। আজ সোমবার ( ২৯ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সদরের একটি পত্রিকা অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
 
জানা গেছে, বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে, ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাত ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের আলীগাও গ্রামের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবীতে গত শনিবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় অনশন শুরু করেন।  এর আগে গত ১২ এপ্রিল প্রথম দফায় অনশন শুরু করলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমঝোতায় অনশন স্থগিত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান জানান, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অদ্য ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে, ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাত তাঁর  চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের আলীগাও গ্রামের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবীতে অনশন করে। জান্নাত বলে বেড়াচ্ছে তার সাথে নাকি মিজানুর রহমান দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাই সে মিজানুর রহমান বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অনশন করছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে সংবাদ হয়েছে। যা তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। জান্নাতের সাথে তাঁর কোন ধরনের সম্পর্ক ছিলো না। তাদের মাধ্যমে সম্পর্কের যে তথ্য দিচ্ছে তা সম্পর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে বিয়ের দাবীতে এই অনশনের নাটক করা হচ্ছে।
 
তিনি আরও জানান, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, গত ৭/৮ মাস আগে ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাতের সাথে চাকুরী পরীক্ষার কক্ষে তাঁর পরিচয় হয়। সে মিরপুর আলহেলাল হাসপাতালে চাকুরী করেন। পরিচয়ের পর থেকে তার সাথে মিজানুর রহমানের কয়েকবার মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই সময় জান্নাত তাকে জানায় যে, তার ওই হাসপাতালের জনৈক জয়নালের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। জান্নাতকে বিয়ে করবে বলে জয়নাল জানিয়েছে। এর কিছুদিন পর জয়নাল জান্নাতকে বিয়ে না করে ছলচাতুরি করছে। বিষয়টি জান্নাত তাকে জানিয়ে এ ব্যাপারে সাহায্য চেয়েছে। পরে তিনি জয়নালের সাথে জান্নাতের বিয়ের বিষয়ে কথা বললে জয়নাল বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং জয়নাল বিবাহিত বলে তাকে জানিয়েছে। তিনি জয়নালের বিষয়টি জান্নাতকে জানিয়েছি। এই ঘটনার কিছুদিন পর ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের একটা সরকারী চাকুরী হওয়ার কথা শুনে জান্নাত তাঁর  সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তবে তিনি এরিয়ে চলেন। এরপর জান্নাত উল্টো এরপর তা  বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে ব্লাক মেইল করে ইডেন কলেজ শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে জান্নাত তার অফিসে যায় এবং ঈদের পর জান্নাতের প্রেমিক জয়নালকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে এসে তাকে বিয়ে করার চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে তার এলাকার কিছু লোকের কুপরামর্শে জান্নাত তাঁর বাড়িয়ে গিয়ে উঠে। বিয়ের দাবীতে অনশন করে। এবং তাকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করে। এখনও ঐ মেয়ে তার বাড়িতে অবস্থানরত ও তাকে মামলা ও হত্যার হুমকি এবং নিজে আত্মহত্যা করে তাকে ফাঁসোর চেষ্টা চালাচ্ছে। 
তিনি আরও জানান, মেয়েটির এসব অহেতুক কর্মকান্ডের কারণে তাঁর বৃদ্ধ বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এহেন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সঠিক সমাধান যাচ্ছেন। 
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান পিতা মোজাম্মেল হাওলাদার বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যার নং-৭৫৩, তাং-১৯-০৪-২০২৪ইং।
এ বিষয় চরফ্যাশন থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরিন হক বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেযারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। চেযারম্যান সিরাজুল ইসলাম অনশনকারী সাদিয়াকে মিজানের বাবার জিম্মায় রেখেছেন।